রাবিতে চলছে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি


Published: 2019-04-13 21:18:18 BdST, Updated: 2019-06-19 01:36:56 BdST

রাবি লাইভ: রাত পোহালেই নতুন বাংলা বছর বাঙ্গালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। বঙ্গাব্দ ১৪২৬ বরণে চারপাশে পড়ে গেছে সাজ সাজ। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজশাহীর সর্ববৃহৎ আয়োজন করে চারুকলা অনুষদ। আর তাই দিনটিকে বরণ করে নিতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে রাবির শিক্ষার্থীরা।

নববর্ষ উদযাপনে ‘মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে’ এই শ্লোগানকে সামনে নিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪২৬- কে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় । প্রতিবারের ন্যায় অতীত জীর্ণতাকে ভুলে নতুন সৃষ্টির প্রত্যয়ে ১৪২৬ কে বরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে ব্যস্ত সময় পার করছে চারুকলা অনুষদ।

তাছাড়া বাংলা, নাট্যকলা ও সঙ্গীত, আইন, মার্কেটিং, ফোকলোরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সবগুলো বিভাগই পৃথক পৃথকভাবে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। মঙ্গল শোভাযাত্রায় বাঙালির ঐতিহ্য, কৃষ্টি-কালচার তুলে ধরতে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন জিনিসপত্র।

তবে প্রতিবছরই মূল আকর্ষণ থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদকে ঘিরে। বাঁশ, বেত, কাঠ ইত্যাদি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে লোকজ ঘোড়া, ময়ূর, হাতিসহ বেশ কয়েকটি বাঙ্গালী ঐতিহ্যের ধারক প্রাণীর প্রতীক।

এগুলো নিধার্রণের বিষয়ে আয়োজকরা জানিয়েছেন, দেশ বর্তমানে এগিয়ে চলছে দ্রুত গতিতে, দ্রুতগামী প্রাণী হচ্ছে ঘোড়া। দেশের সকল অর্জন গুলো সম্পদে পরিণত হচ্ছে তাই দেশের প্রাণীর মধ্যে সম্পদ হচ্ছে হাতি। সবমিলিয়ে দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই ময়ূর রাখা হয়েছে। প্রতিবছর মুখোষ তৈরি করা হলেও এ বছর সেটা করা হচ্ছে না। বিকল্প হিসেবে কাকতারুয়া ও প্লাকার্ড তৈরি করা হবে।

পহেলা বৈশাখের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। কোন ধরণের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই আয়োজন করে চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও চারকলা অনুষদ থেকে বের করা হবে বিশাল বহরের মঙ্গল শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি নান্দনিক করতে অনুষদের ডীনকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্য বিশিষ্ট উদযাপন কমিটিও করা হয়েছে।

খোজ নিয়ে জানা যায়, এবারের বর্ষবরণের মূল আয়োজন মঙ্গল শোভাযাত্রায় রয়েছে হারাতে বসা লোকজ ঐতিহ্য, তেমনি রয়েছে লোকজ সঙ্গীতের পাশাপাশি জারিগান। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে যানা যায়, তারা প্রতিবছরের ন্যায় বিভিন্ন বিভাগের চেয়ে চারুকলা অনুষদের শোভাযাত্রাকে সফল ভাবে উপস্থাপন করতে চায়।

চারুকলা অনুষদের মৃত শিল্প বিভাগের শিক্ষার্থী কুমার সত্য জানান, আধুনিক যুগে বিলীন হওয়া গ্রামীণ ঐতিহ্য বছরে একবার তুলে ধরার সুযোগ পায় পহেলা বৈশাখে। এতে অংশ নিয়ে কাজ করতে খুব ভাল লাগছে। এগুলো প্রদর্শনীর মাধ্যেমে তরুণ প্রজন্ম গ্রামীন ঐতিহ্যকে কিছুটা অনুধাবন করতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।

আরেক শিক্ষার্থী জানান, কনককুমার পাঠক স্যারের তত্ত্বাবধানে সব আয়োজন সুন্দর ভাবে প্রস্তুতি চলছে। আশা করছি নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ করতে পারব।

সার্বিক বিষয়ে চারুকলা অনুষদের ডীন ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর তালুকদার জানান, পহেলা বৈশাখ উদযাপনের জন্য কমিটি করা হয়েছে। সেই কমিটি প্রস্তুতির কাজ করে চলেছে। আশা করছি নিদিষ্ট সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি কাজ চলছে।’ রাজশাহীর সব মানুষকে সুন্দর একটি অনুষ্ঠান উপহার দিতে পারবেন বলেও আশাবাদী তিনি।

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা বিভাগের সামনে থেকে রাজশাহী অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হবে।

 


ঢাকা, ১৩ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।