রাবিতে ৪ ছাত্রকে ধরে নিয়ে শিবির আখ্যা দিয়ে নির্যাতন


Published: 2018-10-19 12:48:23 BdST, Updated: 2018-11-14 15:51:27 BdST

রাবি লাইভ : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চার ছাত্রকে শিবির আখ্যা দিয়ে হলের কক্ষে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশংকাজনক। তাদের পিটিয়ে পুলিশের কাছে তুলে দিয়েছে ছাত্রলীগ। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। আটক শিক্ষার্থীদের দাবি তারা শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন। তারা ঘুরতে বের হলে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। পরে শিবির আখ্যা দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম পাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের একটি কক্ষে আটকে রেখে ঘণ্টাব্যাপী মারধরের পর পুলিশে সোপর্দ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ওই চার শিক্ষার্থীকে আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিকে, আটকরা বঙ্গবন্ধু হলে থাকাকালীন মতিহার হল ও মমতাজ উদ্দীন ভবনের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী লিটন, দ্বিতীয় বর্ষের মুহাইমিন, সমাজকর্ম বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের নাসিম হাসান ও আরবি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরুখ। এদের মধ্যে লিটনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মারধরে তার পা রক্তাক্ত হয়ে যায় এবং দুই হাতে গুরুতর জখম হয়।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কয়েকজন শিক্ষার্থী দল বেধে মন্নুজান হলের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী চৌদ্দজন শিক্ষার্থীকে আটক করে বঙ্গবন্ধু হলে নিয়ে যায়। এক ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রেখে মারধর ও জিজ্ঞাসাবাদের পর চারজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাংবাদিকদের জানান, শিবিরের ক্যাডাররা ক্যাম্পাসের পশ্চিম পাড়ায় শোডাউন দিচ্ছে এমন একটি ফোন পেয়ে আমরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে যাই। এ সময় কয়েকজনকে একসঙ্গে ঘুরতে দেখে সন্দেহ হয়। আমাদের দেখে এ সময় কয়েকজন দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে আমরা তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চারজন শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে।

মারধরের পর পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় লিটন ও মুহাইমিনের সঙ্গে কথা বললে তারা শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তারা জানান, ক্যাম্পাসে বিকেলে ঘুরতে এসেছিলেন। এ সময় সন্দেহবশত আমাদের আটক করা হয়। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিনা কারণে তাদের মারধর করেছে। তারা শিবির করেন না বলে উল্লেখ করেছেন।

হল প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আশরাফ উজ জামান বলেন, আমি যখন হলে আসি তখন আটককৃতসহ সবাইকে হল থেকে বের হয়ে যেতে দেখি।

প্রক্টর প্রফেসর লুৎফর রহমান বলেন, শিবির সন্দেহে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কয়েকজনকে আটক করেছিল। তাদের মধ্যে চারজনকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।

মতিহার থানার ওসি শাহাদাৎ হোসেন বলেন, আটকদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা, ১৯ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।