রাবি শাখা ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ


Published: 2018-10-05 16:00:38 BdST, Updated: 2018-12-11 05:09:42 BdST

রাবি লাইভ: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের সিট পেতে ছাত্রলীগের বিকল্প কোনা পথ নেই শিক্ষার্থীদের। অভিযোগ কোন শিক্ষার্থী ছাত্র জীবন শেষ করে তার পরিচিত কাউকে সিটে উঠিয়ে দিয়ে যায়, তাহলে তাকে সেই রুম থেকে বের করে দিয়ে অন্য কাউকে টাকার বিনিময়ে সিট দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

অভিযুক্তরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ নেতা সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান শাকিল, সহ-সভাপতি এসএম রুহুল আমিন রুহুল আমিন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হলের ফোর সিটের বেডে সিট পেতে হলে ২ হাজার টাকা, ডাবল সিটের বেডে ২৫০০ টাকা এবং সিঙ্গেল রুমের সিট পেতে হলে শিক্ষার্থীকে ৩ হাজার করে টাকা গুনতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। তবে মাঝে মাঝে এই টাকার বেশি দিয়েও সিটে উঠতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আর ছাত্রলীগের বাইরে যেহেতু সিট পাওয়া দায় তাই হলে সিট পেতে হলে এই টাকা দিতেই হবে শাখা ছাত্রলীগর ওই নেতা-কর্মীকে।

টাকা দিয়ে হলে সিট পাওয়া এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ফোর বেডের রুমে উঠেছি ৩ হাজার টাকা দিয়ে। ভাই কি করবো বলেন, টাকা না দিলে তো হলে সিট পাবো না’।

হলে সিট বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান শাকিল ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘এটা তোমাকে কে বলেছে? এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ তো চলতে দেওয়া যায় না। এটা ভিত্তিহীন অভিযোগ’।

এ বিষয়ে এসএম রুহুল আমিন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘পলিটিক্স করতে গেলে বিরোধী পক্ষ দমিয়ে দিতে এমন অভিযোগ দিতে পারে। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ পুরাই বানোয়াট, ভিত্তিহীন’।

হলে সিট বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন,‘ এ বিষয়টি জানা নাই। ছাত্রলীগ অনেক বড় সংগঠন এর মধ্যে দুই একটা খারাপ থাকতেই পারে। তবে প্রমানসহ যদি সিট বাণিজ্যের বিষয়টি জানাতে পারেন তাহেলে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘সিট বাণিজ্য করছে গোপনে। আমরা সেটা ধরতে পারি না। যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সিটে উঠাচ্ছে তারা যদি আমাদের কাছে নাম সহ অভিযোগ দেয় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি’।

এদিকে সিট বাণিজ্যের সুবিধার্থে হলের কোন রুমে কোন বর্ষের শিক্ষার্থী রয়েছে। কবে সিট ছেড়ে দেওয়া হবে, এবং কার রেফারেন্সে হলে উঠা হয়েছে তার ডাটা কালেক্ট করে রাখছে তারা।

তবে ডাটা কালেক্ট করতে আসা ছাত্রলীগ কর্মীরা এক এক জনের কাছে এক এক রকম কথা বলে তথ্য নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। কেউ বলছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে এই ডাটা কালেক্ট করা হচ্ছে আবার কেউ বলছে হল প্রাধ্যক্ষের নির্দেশেই এই তাথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগরে সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, কোনো সাধারণ ছাত্রদের ডাটা নেওয়া হয়নি। ছাত্রলীগের কে কোন রুমে আছে সেটার একটা হিসাব রাখার জন্য এই ডাটা কাল্কেট করা হয়েছে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ ড. এম রবিউল ইসলাম ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘আমি কেনো ছাত্রলীগকে হল কাউন্সেলিং করার দায়িত্ব দিবো। যদি তেমন প্রয়োজন হয় তাহলে হলের স্টাফদের মাধ্যমে সেটা করবো’।

 

 


ঢাকা, ০৫ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।