ছাত্রলীগের হামলায় আহত তরিকুলকে সিকবেডে পরীক্ষার অনুমতি দেয়নি রাবি প্রশাসন


Published: 2018-10-02 02:59:51 BdST, Updated: 2018-10-20 15:15:01 BdST

রাবি লাইভ: কোটা সংস্কার আন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে(রাবি) ছাত্রলীগের হামলায় আহত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন তরিকুল ইসলামকে সিকবেডে (বিশেষ ব্যবস্থায়) পরীক্ষার দেয়ার সুযোগ দেয়নি কর্তৃপক্ষ। যদিও তার চেয়েও কম অসুস্থতা নিয়ে এর আগে শিক্ষার্থীরা বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা দিয়েছেন।

বিভাগ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং উপাচার্য বরারব আবেদন করা হলেও মেলেনি মেডিকেলে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা দেয়ার অনুমতি। ফলে ভাঙা পায়ে ব্যান্ডেজ অবস্থায় ক্রাচে ভর দিয়ে বুধবার সকালে বিভাগে এসে তরিকুলকে মাস্টার্সের চ‍ূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে।

তরিকুলের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন আচরণে ক্ষোভ জানিয়েছেন তার সহপাঠী, কোটা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে তরিকুল বলেন, ভাঙা পা এখনও নাড়াতে পারছি না। শরীরে শক্তিও নেই। শারিরীকভাবে খুব দুর্বলতা অনুভব করছি। দীর্ঘদিন বেডে পড়ে থাকার পর হঠাৎ এভাবে ক্যাম্পাসে আসতে খুব কষ্ট হয়েছে।

“প্রস্তুতি ছিল না বললেই চলে। শেষ সময়ে কিছুটা পড়েছিলাম। কিন্তু বসে পরীক্ষা দেয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না। তবুও স্যারদের সহযোগিতায় কিছুটা কষ্ট কম হয়েছে। মোটামুটি ভালো পরীক্ষা দিয়েছি,” বলেন তরিকুল। কথা বলার সময় তার চোখ দিয়ে পানি ঝরছিল। কান্নায় আটকে যাচ্ছিল কণ্ঠ।

তরিকুল ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, এ ক্যাম্পাস আমরা খুব প্রিয়। এটাকে সবসময় আমার দ্বিতীয় আঁতুর ঘর বলতাম। কিন্তু দুঃসময়ে বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিয় অভিভাবকদের কাছ থেকে আমি এমন দ্বিমুখী আচরণ প্রত্যাশা করিনি।

জানা যায়, তরিকুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। বুধবার থেকে তার চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

পরীক্ষার কয়েকদিন আগে তরিকুল মেডিকেলে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষার দেয়ার জন্য বিভাগে অনুমতি চান। বিভাগ কর্তৃপক্ষ তাকে মেডিকেলের সুপারিশ নিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতরে আবেদন করার পরামর্শ দেয়।

সে অনুযায়ী তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার থেকে লিখিত সুপারিশ নিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতরে আবেদন করেন। পরে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে ফাইলটি উপাচার্য দপ্তরে পাঠানো হয়।

উপাচার্য তরিকুলকে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা দেয়ার অনুমতি না দেয়ায় তাকে বিভাগে পরীক্ষা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এর আগে আমরা তরিকুলের চেয়ে অনেক কম অসুস্থ ছাত্র-ছাত্রীকে মেডিকেলে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছি। সেটা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিজেই করতে পারেন। উপাচার্যের অনুমতির প্রয়োজন হয়নি।

তিনি বলেন, কিন্তু তরিকুলের বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিজে অনুমতি না দিয়ে, তার আবেদনটি ফাইল আকারে উপাচার্যের কাছে পাঠিয়েছিল। সেখান থেকে উপাচার্য অনুমতি দেয়নি। বিষয়টি খুব দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন নিয়ন্ত্রক দফতরের ওই কর্মকর্তা।

উপাচার্য দপ্তরের সচিব মীর শাহজাহান আলী ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, তাকে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা দেয়ার অনুমতি দেয়া হয়নি। ফলে বিভাগে পরীক্ষা দিতে হবে।

ইসলাম শিক্ষা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতরের সম্মতি পেলে আমরা বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে মেডিকেলে পরীক্ষা গ্রহণ করতাম। কিন্তু সেখান থেকে কোনো অনুমতি না আসায় তরিকুলকে বিভাগে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। বিভাগের শিক্ষকদের কক্ষে সে পরীক্ষা দিয়েছে। যতটুকু সম্ভব আমরা তাকে সহযোগিতা করেছি।

অনুমতি না দেয়ার কারণ জানতে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহানের মোবাইলে কয়েক দফা ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি। দফতরে গিয়ে সাক্ষাতের চেষ্টা করা হলেও সমাবর্তনের মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন বলে জানানো হয়।

 

ঢাকা, ০১ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।