রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর, রুম ভাঙচুর করল ছাত্রলীগ


Published: 2018-09-22 14:56:11 BdST, Updated: 2018-12-13 20:18:14 BdST

রাবি লাইভ: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলের দুই শিক্ষার্থীকে মারধর ও তাদের রুম ভাঙচুর করেছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সূত্রে জানা গেছে, রাউটার থেকে নিজ রুমে ইন্টারনেট সংযোগ নেওয়ায় কক্ষ ভাঙচুর ও মাদক সেবনের অভিযোগ তুলে এই দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছে।

শুক্রবার রাত ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে ৪১৫ নম্বর কক্ষ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অপরদিকে রাত সাড়ে ১২ টায় মাদারবখশ হলের শিক্ষার্থীকে মারধর করে ছাত্রলীগ নেতারা। গাঁজা খাওয়ার অভিযোগে মারধরের শিকার আব্দুর রহমানের সহপাঠীরা বলছেন, সে কখনো ধুমপান করেনা কিংবা করতে দেখেনি কনো দিন।

সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১২টায় মাদারবখশ হলে রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান তারই বিভাগের সিনিয়র আশিকের কাছে নোট নিয়ে ফিরে আসছিলেন। এমন সময় বিশ্ববদ্যিালয় শাখা ছাত্রলীগের প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক (ছাত্রত্ব হারা) আসাদুল্লাহীল গালিব, শুভ্রদেব ঘোষ ও তার সহযোগীরা গাঁজা সেবনের অভিযোগ তুলে ব্যাপক মারধর করে। মারধরের ঘটনায় আব্দুর রহমান গুরুতর জখমের শিকার হন। তার এক চোখে মারাত্বক আঘাত লাগে।

এর আগে গালিবের বিরুদ্ধে বহিরাগত সালেকিন নামের এক গাজা সেবককে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ তুলেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতা গালিব বলেন, ‘সেকেন্ড ব্লকের দ্বিতীয় তলায় কয়েকজন মিলে গাজা সেবন করছিলো। বিষয়টি আমরা জানতে পেরে তাদের ধাওয়া দেই। এ সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের আব্দুর রহমান দৌড়াতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যায় এবং চোখের কোনায় আঘাত লাগে।

তবে সালেকিনকে কেনো ছেড়ে দেওয়া হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আব্দুর রহমান নিজেই বলেছে যে ওই ছেলে আমাদের সাথে ছিল না বলে দাবি করলে তাকে ছেড়ে দিয়েছি আমরা’।

এর আগে রাত ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে ইন্টারনেট সংযোগ নেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর কক্ষ ভাঙচুর করে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আরমান কায়সার আবির।

আর ভুক্তভোগী জীবন জোয়ারদার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র ও হলের ৪১৫ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী।

হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, কয়েকদিন আগে নিচতলায় ইন্টারনেটের রাউটার থেকে জীবন তার কক্ষে সরাসরি ওয়াই-ফাই নেন। কেন সংযোগ নেওয়া হয়েছে জানতে আবির শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জীবনকে তার কক্ষে ডাকে। এ সময় জীবনের সঙ্গে আবিরের কথা কাটাকাটি হয়। এর কিছুক্ষণ পর আবির দশ-পনেরোজনকে সঙ্গে নিয়ে জীবনের কক্ষে ভাঙচুর করে। এতে কক্ষের লাইট, ফ্যানসহ যাবতীয় আসবাবপত্র তছনছ হয়ে যায়।

ভুক্তভোগী জীবন বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে আমাদের ব্লকে ইন্টারনেট সুবিধা নেই। হল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। তাই আমি রাউটার থেকে সরাসরি ওয়াই-ফাই সংযোগ নিয়েছি।। আমার মতো আরেকজনও এভাবে সংযোগ নিয়েছে। অথচ তাকে কিছু বলা হয়নি।’

তবে ভাঙচুরের বিষয়টি অস্বীকার করেন আবির। তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেট সংযোগের বিষয়ে জীবনের সঙ্গে আমার কথা কাটাকাটি হয়েছিলো। পরে আমিসহ কয়েকজন বিষয়টি মীমাংসার জন্য তার কাছে গিয়েছিলাম। তাকে কক্ষে না পেয়ে আমরা ফিরে আসি। কারা কক্ষ ভাঙচুর করেছে জানি না।’

জানতে চাইলে হল প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর এম আনিসুর রহমান বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী আরেকজন শিক্ষার্থীর কক্ষ ভাঙচুর করবে সেটা কোনভাবেই কাম্য নয়। আগামীকাল হলের নতুন প্রাধ্যক্ষ যোগদান করবেন। আমি হলের দায়িত্বে থাকা অন্যান্য শিক্ষকদের নিয়ে নতুন প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে ব্যবস্থা নেবো।

 

 

ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।