নিপীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান রাবি শিক্ষকদের


Published: 2018-07-14 22:53:15 BdST, Updated: 2018-10-23 05:36:28 BdST

রাবি লাইভ: চলমান কোটাসংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর ছাত্রলীগের নিপীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ জন শিক্ষক। শনিবার সন্ধ্যায় এক লিখিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিপীড়নের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থানের কথা জানান।

লিখিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, চলমান কোটাসংস্কার আন্দোনকারী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী তারিকুল ইসলাম তারিক মারাত্মক আহত হন।

রাবির শিক্ষার্থীরা গত ২ জুলাই প্রধান ফটকের পাশে একটি পতাকা মিছিলের জন্য জমায়েত হলে ছাত্রলীগ সশস্ত্র হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করে। তরিকুলের উপরে চলে নির্মমতম অত্যাচার। তারিকুলের মাথা ফেটে যায় এবং পা ভেঙে যায়।

আহত তারিকুলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিন দিন চিকিৎসা চলার পর ৫ জুলাই অসুস্থ তারিকুলকে রামেক থেকে চিকিৎসা অসম্পন্ন রেখেই ছাড়পত্র দেয়া হয়। গুরুতর আহত একজন শিক্ষার্থীকে চিকিৎসাবঞ্চিত করার এই ঘটনা ছিল নজিরবিহীন।

এই পরিস্থিতিতে তারিকুলের সহপাঠিরা নিরুপায় হয়ে তাকে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানকার চিকিৎসকরা তারিকুলের পায়ে অস্ত্রপচার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানায়।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর চিকিৎসা সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একেবারে নীরব ভ‚মিকা পালন করে। এমনকি তারা তারিকুলের ন্যূনতম খোঁজ-খবর নেওয়ারও প্রয়োজনবোধ করেনি।

এমতাবস্থায় মানবিক বিবেচনায় আমরা কয়েকজন শিক্ষক গত ৬ জুলাই হাসপাতালে গিয়ে তারিকুলের সঙ্গে দেখা করি। সামনাসামনি তার অবস্থা দেখে আমরা সবাই খানিকটা বিমর্ষ ও সহানুভূতিশীল হয়ে পড়ি। হাসপাতালে তারিকুলের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকের সঙ্গেও আমরা কথা বলি। তিনি আমাদের জানান, আরো উন্নত চিকিৎসা হলে তারিকুল দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।

এই পরিস্থিতিতে আমরা ঢাকায় আমাদের বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা তারিকুলের চিকিৎসায় সহায়তার ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেন এবং ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করতে বলেন।

এরপর এক দিন সময় নিয়ে নিজেরা চাঁদা দিয়ে তারিকুলের হাসপাতালের খরচ ও অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া জোগাড় করে ৮ জুলাই ভোরে তাকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করি। বলা প্রয়োজন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের অনেক সহকর্মীও এব্যাপারে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

৮ জুলাই বিকেল তিনটায় তারিকুল ঢাকায় পৌঁছালে সেদিনই, ঢাকায় আমাদের বন্ধুদের তত্ত্বাবধানে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসককে দেখানো হয়। চিকিৎসক জানান, যতো দ্রুত সম্ভব তারিকের পায়ে অস্ত্রপচার প্রয়োজন।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ৯ জুলাই তারিকের পায়ে অস্ত্রপচার করা হয়। বর্তমানে তারিকুলের অবস্থা ভালোর দিকে। চিকিৎসক বলেছেন, তারিকুল দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠছে। সে এখন বিছানা থেকে উঠে বসতে পারছে এবং একটু হলেও হাঁটু ভাঁজ করতে পারছে। প্রতিদিনই ড্রেসিং করা হচ্ছে, পায়ের ফোলা কমে আসছে।

পিঠের নিচের দিকে এখনও হাতুড়ির আঘাতজনিত কারণে রক্ত জমাট বেধে আছে, পিঠের বিভিন্ন স্থানে লাঠির আঘাতে কালশিটে পড়েছে, মাংসপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি দেয়া হচ্ছে।

ডাক্তারগণ মনে করেন, আর কয়েকদিন পরে তারিকুল ক্রাচে ভর দিয়ে একটু হাঁটাচলাও করতে পারবে। তবে, পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে আরও অন্তত তিন মাস সময় লাগবে। এই পরিস্থিতিতে আমরা মনে করছি, যারা বিভিন্ন সময় তারিকুলের খোঁজ-খবর নিয়েছেন, বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন এবং উদ্বিগ্ন থেকেছেন তাদেরকে, এবং সর্বোপরি দেশের মানুষকে, তারিকের বিষয়টি জানানো দরকার। আমরা আশা করবো, সংশ্লিষ্ট সকলেই বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখবে।

নিপীড়নের বিরুদ্ধে শিক্ষকবৃন্দ: ১. গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ সেলিম রেজা নিউটন, ২. ইংরেজি বিভাগ আব্দুল্লাহ আল মামুন, ৩. ফোকলোর বিভাগ ড. মোঃ আমিরুল ইসলাম, ৪. নৃবিজ্ঞান বিভাগ বখতিয়ার আহমেদ, ৫. ফোকলোর বিভাগ সুস্মিতা চক্রবর্তী, ৬. নাট্যকলা বিভাগ কাজী শুসমিন আফসানা,

৭. নাট্যকলা বিভাগ ড. হাবিব জাকারিয়া, ৮. বাংলা বিভাগ ড. সৌভিক রেজা, ৯. ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ সৈয়দ মুহাম্মদ আলী রেজা, ১০. গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ আব্দুল্লা আল মামুন, ১১. গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ কাজী মামুন হায়দার, ১২. গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ আব্দুল্লাহীল বাকী, ১৩. গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ শাতিল সিরাজ।

 

ঢাকা, ১৪ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।