পুলিশ স্বামীর বিরুদ্ধে রাবি শিক্ষিকার মামলা, তোলপাড়


Published: 2018-06-09 21:10:37 BdST, Updated: 2018-10-21 04:09:09 BdST

সিরাজগঞ্জ লাইভ: এবার যৌতুকের অভিযোগ আনলেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা। তার স্বামী একজন পুলিশ কর্মকর্তা। ওই শিক্ষিকা অভিযোগ করে বললেন তার স্বামী যৌতুকের টাকা না পেয়ে নিয়মিত নির্যাতন করতেন। তাকে মারধরও করতেন। এমনকি হত্যারও ভয় ভীতি দেখাতেন তিনি। ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। তিনি ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

ওই মামলা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নানান ভাবে আলোচনা সমালোচনা চলছে। সকলের মুখে মুখে এখন ওই ঘটনা। তাছাড়া ওই মামলাটির বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার এলাকাতেও নানান সমালোচনা ও তোলপাড় চলছে।

সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে গত বুধবার মামলাটি দায়ের করেন সেই পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোছা. রুখসানা পারভীন। মামলায় স্বামী বেলায়েত ছাড়াও তার বাবা মোহাম্মদ মইনুদ্দিন, মা মোছা. রোকেয়া বেগম এবং তার বোন দিলারা সুলতানাকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার ঘিয়র থানার তরা গ্রামে। সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজির ফজলে খোদা ৫৫২/১৮ নং পিটিশন গত বুধবার বিকালে আমলে নিয়ে মামলাটি তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বেলকুচি পৌর মেয়রকে নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদীর আইনজীবী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সবুজ ও আব্দুর রাজ্জাক আতা এবং সিরাজগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল হামিদ লাভলু মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওই মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১০ সালের ২৫শে জুন বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে বেলায়েত তার স্ত্রী রুখসানাকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন। যৌতুক না পেয়ে তাদের ছয় বছরের শিশু সন্তানকেও অবহেলা করতেন। গত ৯ই মার্চ ঢাকায় পুলিশ অফিসার্স মেসে দেখা করতে গেলে যৌতুকের দাবিতে সন্তানের সামনেই বেলায়েত তার স্ত্রীকে মারধর করেন।

খবর পেয়ে রুখসানা পারভীনের মা-বাবা ঢাকা এসে তাকে গ্রামের বাড়ি বেলকুচিতে নিয়ে আসেন। মামলায় আরো বলা হয়, এরপর বেলায়েত, তার মা-বাবা ও বোন মিলে গত ৩০শে মার্চ বেলকুচিতে আসেন। এসময় বাদীর বাবা-মা ধারদেনা করে বেলায়েত ও পরিবারের দাবি করা যৌতুকের ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। ও

ই সময় স্ত্রী রুখসানা তাদের সঙ্গে যেতে রাজি না হওয়ায় বেলায়েত তাকে বেধড়ক মারধর করার পর একপর্যায়ে তলপেটে লাথি মারেন। এতে গর্ভে থাকা ২ মাসের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে রুখসানা ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হন। চিকিৎসা শেষে গত ৪ঠা জুন বেলকুচি থানায় এজাহার দিতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

পরে ন্যায় বিচার পেতে রুখসানা আদালতে যান। মামলার এজাহার জমা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বুধবার সন্ধ্যায় রুখসানা সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তার স্বামীর সঙ্গে নারী পুলিশ কর্মকর্তা ও ঢাকার বেশ কয়েকজন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক আছে। চুয়াডাঙ্গায় ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্বে থাকাকালীন তার সঙ্গে এক নারী এসআই’র সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

বিষয়টি জেনে ফেলায় তার স্বামী তার ওপর নির্যাতন শুরু করে। মামলা না নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে বেলকুচি থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, বাদী আমার থানায় এসেছিলেন পরিচিত হতে। কিন্তু মামলা বা এজাহারের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছুই বলেননি।

ওই মামলার অন্য আসামি বেলায়েতের বোন দিলারা সুলতানা বলেন, রাবির এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে রুখসানা পারভীন যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিল। সেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর আমার ভাই বেলায়েত তাকে প্রায় দুই মাস আগে ডিভোর্স দিয়েছে। তারপরও আমাদের পরিবারকে হয়রানির জন্য এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে ফোনে স্ত্রী রুখসানাকে মারধর ও নির্যাতন করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, আমার স্ত্রী একজন মানসিক রোগী।

চাকরিতে অনৈতিক উপার্জন করায় তার আয় আমরা কখনও গ্রহণ করিনি। এছাড়া এগুলো একেবারেই পারিবারিক বিষয়। তাই এ বিষয়ে কথা না বলাই ভালো। তবে জানাগেছে ওই মামলাটির তদন্ত চলছে।

 

ঢাকা, ০৯ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।