রাবিতে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আম পাড়ার অভিযোগ


Published: 2018-06-08 15:47:15 BdST, Updated: 2018-08-15 23:10:43 BdST

রাবি লাইভ: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শেষ রাতের দিকে টেন্ডার হওয়া তিনটি বাগানের আম পেড়ে বিক্রয় করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, বেশ কিছুদিন থেকে লাগাতারভাবে রাবি ছাত্রলীগের প্রায় ২৫ জন নেতা মিলে মণে মণে আম পাড়াছে।

একটি বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ১০ মণের অধিক আম পেড়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্প সূত্র বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মমতাজউদ্দিন কলা ভবন, শহিদুল্লাহ কলা ভবন ও প্রশাসন ভবন এলাকার এই তিনটি আম বাগান টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। আর ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে রাশেদ খান বিপু নামের এক স্থানীয় আম ব্যবসায়ী এই বাগান টেন্ডার নিয়েছিলেন। এদিকে টেন্ডারের টাকাও পরিশোধ করে দিয়েছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. লুৎফর রহমান বলেন, ‘বাগানের ঠিকাদার আমার কাছে আম পাড়ে বিক্রয়ের বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ করেছেন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। আমি উনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্পের কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাতে বলেছি।

যেহেতু এই বিষয়টি কৃষি প্রকল্পের কর্মকর্তারা দেখাশোনা করেন। কৃষি প্রকল্প যদি আমাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেয়, শৃঙ্খলা কমিটিতে উত্থাপন করতে বলে তাহলে আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৪টায় ছাত্রলীগের প্রায় ২৫ জন নেতা ৬ টি টিমে ভাগ হয়ে গাছগুলো থেকে আম পেড়ে নেয়। গার্ড তাদের আম পাড়তে নিষেধ করলেও সকাল ৯টায় পর্যন্ত তারা এই আম পাড়া কার্যক্রম চালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে বাগানের ঠিকাদার রাশেদ খান বিপু বলেন, ‘সাহরী করার পর আমি খবর পাই কারা যেন গাছ থেকে আম পাড়ছে। বাগানে গিয়ে আমি দেখি ছাত্রলীগের প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন নেতাকর্মীরা আম পেড়ে বস্তায় ঢুকাচ্ছে। তাদেরকে আম পাড়তে নিষেধ করলেও তারা আম পাড়তেই থাকে আর একে একে নিজেদের কেউ ছাত্রলীগের সহসভাপতি, কেউ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কেউ সহ সম্পাদক বলে পরিচয় দেয়। তারা দশ মণেরও অধিক আম পেড়েছে।’

তিনি আরো জানান, ‘আমি বাগানগুলোর টেন্ডার নেয়ার পর ছাত্রলীগের কয়েকজন ভাই বেশ কয়েকবার প্রকাশ্যে আম পাড়ার চেষ্টা করেছিল। আমি তাদের নিষেধ করলে তারা আমার কাছে আম বিক্রি করার পর লাভের অংশ থেকে কিছু টাকা চায়।

বুধবার তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে মিটিংও হয়েছিল। লাভের কিছু অংশ আমি তাদেরকে দিতে রাজিও হয়েছিলাম। কিন্তু লাভ তো দূরের কথা, এখন আর আসল টাকা উঠবে কিনা তা বলতে পারিছ না। তাই আমি আর এসব বাগানের আম চাই না। কৃষি প্রকল্পের কাছে আমি টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করব।’

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘ছাত্রলীগের কোনো ছেলে আম পেড়েছে বলে আমার জানা নাই। আমি জানা মতে বাগানগুলো টেন্ডার হয়েছে। আর ছাত্রলীগের যারা এ ধরণের কাজ করতে পারে তাদেরকে আমি ও আমার সেক্রেটারি নিষেধ করে দিয়েছি। ছাত্রলীগের কেউ এ ধরণের কাজ করার কথা না।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ও কৃৃষি প্রকল্পের প্রধান প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নিতে প্রক্টর মহোদয়কে বিষয়টি জানানো হবে। যারা এ কাজের সাথে জড়িত তাদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

 

 

ঢাকা, ০৮ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।