পাবিপ্রবি: বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে জ্ঞান চর্চা ও জ্ঞান তৈরির স্থান


Published: 2018-06-05 21:02:12 BdST, Updated: 2018-08-15 23:10:39 BdST

পাবিপ্রবি লাইভ: পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) এক দশক পূর্তি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জাতীয় পতাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত এর মধ্যে দিয়ে শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দশক পূর্তি উৎস।

বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা ঘোষণা করা হয়। এর পর এক বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে স্বাধীনতা চত্ত্বরে এসে শেষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে প্রক্টর অফিস ও রসায়ন বিভাগের উদ্দ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভার প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবেক হাই-কমিশনার প্রফেসর ড. এম সাইদুর রহমান খান।

বিশেষ আলোচক হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মো আনোয়ারুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো আনোয়ার খসরু পারভেজ, আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন ভিসি প্রফেসর ড. এম রোস্তম আলী ।

আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান আরিফ ওবায়দুল্লাহ তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে আমন্ত্রিত অতিথিদের অনুষ্ঠানে উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ জানান। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি, সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান ও গবেষণার ক্ষেত্রে এক তীর্থস্থান হয়ে উঠুক এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো আনোয়ার খসরু পারভেজ তার বক্তব্যে বলেন, "২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি হবে। বাংলাদেশ তখন নিম্ন মধ্যবর্তী আয়ের দেশ থেকে মধ্যবর্তী আয়ের দেশে স্থায়ীভাবে পদার্পণ করবে। সে সময় ইলেকট্রনিক দ্রব্যের চাহিদা যে কোন সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি পাবে। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এই প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনীর ক্ষেত্রে লিডিং রোল প্লে করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে প্রস্তুুত বলে তিনি জানান।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মো আনোয়ারুল ইসলাম তার বক্তব্যে "বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস সম্পর্কে আলোকপাত করেন। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও গবেষণার ক্ষেত্র আমরা এমন একটি জায়গায় নিয়ে যেতে চাই যাতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকাকে উর্ধে তুলে ধরতে পারি । বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ পুরো পাবনাবাসী তথা বাংলাদেশ যেন এই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গর্ব করতে পারে।"

আলোচনা সভার প্রধান আলোচক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবেক হাই-কমিশনার প্রফেসর ড. এম সাইদুর রহমান খান বলেন, "বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার যুগান্তকারী পদক্ষেপ। সমাজকে এগিয়ে নিতে গেলে আমাদের প্রযুক্তিতে এগিয়ে যেতে হবে।

প্রযুক্তিতে এগিয়ে যেতে তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব আরোপ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামের উপর। তিনি আরও বলেন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞান চর্চা ও জ্ঞান তৈরি এই দুইটি কাজ করে থাকে, প্রথমটি বিভিন্ন পুস্তকের মাধ্যমে এবং অপরটি গবেষণার উপর নির্ভর করে।

এক্ষেত্রে তিনি ছাত্র ও শিক্ষকদের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। ছাত্রদের পড়ালেখায় মনোযোগী হওয়া ও শিক্ষকদের ক্লাসে পড়ানোর বিষয়ে আরও যত্নশীল হওয়ার পরামর্শ দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাধর্মী কাজে আরও বেশি অংশগ্রণের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ্য করেন তিনি। অবশেষে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দশক পূর্তি উপলক্ষ্যে শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সকলকে শুভেচ্ছা জানান।"

আলোচনা সভার সভাপতি ভিসি প্রফেসর ড. এম রোস্তম আলী তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের একজন যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। তিনি আরও বলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে যে পদক্ষেপ গুলো গ্রহন করছেন তা বাস্তবায়ন করে তিনি যেন তার কর্মতৎপরতার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে পারেন সে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের থেকে সহযোগিতামূলক পদক্ষেপ আশা করেন।

এসময় ভিসি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা আমলে নিয়ে বলেন এসব সমস্যা সমাধান একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা চট করে এগুলো সমাধান সম্ভব নয় এর জন্য প্রয়োজন সময়ের। তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রেরণ করেছি এবং তা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রোজেক্ট পাশ হলেই নতুন একাডেমিক ভবন, অডিটোরিয়াম, আবাসিক হল সকল অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এরসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের দাবি শহিদ মিনার নির্মাণের বিষয়ে বলেন অতিসত্বর একটি আধুনিক দৃষ্টিনন্দন শহিদ মিনার নির্মাণ করা হবে।

উক্ত আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল এর প্রভোস্ট ড. এম মুশফিকুর রহমান, প্রক্টর ড. প্রীতম কুমার দাস, পরিবহন পুলের প্রশাসক মো: গালিব হাসান, বিভিন্ন অণুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, বঙ্গবন্ধু হল ও শেখ হাসিনা হলের সহকারি প্রভোস্টবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষিকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদ চৌধুরী আসিফ, সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম বাবু সহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ।

 

ঢাকা, ০৫ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।