উন্মুক্ত রেলক্রসিং: প্রাণ ঝরেছে রাবি ২ শিক্ষার্থীসহ ৪ জনের


Published: 2018-06-01 21:31:22 BdST, Updated: 2018-10-20 08:54:27 BdST

রাবি লাইভ: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অভ্যন্তরে রেললাইনের ওপর দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তার চারটি ক্রসিংয়ের মধ্যে তিনটিতেই নেই কোনো গেটম্যান ও ব্যারিকেড। অপর ক্রসিংটিতে রয়েছে তাও আবার নামে মাত্র ব্যারিকেড।

যার ফলে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজন। বিগত কয়েক বছরে রেলক্রসিং করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৮জন। দীর্ঘ দিন থেকে চলে আসা এ সমস্যার সমাধান হয়নি আজও। বিগত কয়েক বছরে এই মরণফাঁদে প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটতে থাকলেও ভ্রুক্ষেপ নেই বিশ্ববিদ্যালয় ও রেল কর্তৃৃপক্ষের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে চারুকলা ও কৃষি অনুষদের প্রবেশদ্বার, স্টেশন বাজার, বিশ্ববিদ্যালয় গোরস্থান এলাকায়, মেহেরচন্ডীর কড়াইতলা বাজারের রাস্তায় ও বধ্যভ‚মি থেকে বের হয়ে বুধপাড়া যাওয়ার রাস্তায় রেললাইনের ওপর দিয়ে পারাপার করার জন্য রয়েছে চারটি ক্রসিং। যার তিনটিই অরক্ষিত। নেই কোনো গেটম্যান ও ব্যারিকেড।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা এবং কৃষি অনুষদে যাওয়ার রাস্তা ও স্টেশন বাজার এলাকার এই দুটি ক্রসিং দিয়ে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ নিয়মিত চলাচল করে। শুধু মাত্র চারুকলা গেট এলাকার ক্রসিং দিয়ে প্রতিদিন ওই দুটি অনুষদের প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়মিত যাতায়ত করেন।

আর স্টেশন বাজার সংলগ্ন ক্রসিংটিতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাদার বখশ, জিয়া ও হবিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থীরা সর্বদা চলাচল করে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মেহেরচন্ডী ও বুধপাড়া এলাকার মেসগুলোতে অবস্থান করায় তারাও এসব ক্রসিং পার হয়েই নিয়মিত ক্যাম্পাসে যাতায়াত করেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বড় অংশ নিয়মিত ঝুঁকি নিয়ে এ অঞ্চলের ক্রসিং পারাপার হন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, এই অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বেশ কিছু মানুষের প্রাণ হারাতে হয়েছে। এছাড়াও প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। অনেকেই ট্রেনের গতি বুঝতে না পেরে রেলক্রসিং পার হতে গিয়ে দূর্ঘটনার শিকার হতে হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন বাজারের দুই‘শ গজ পূর্বে রেললাইন থেকে একটি লাশ উদ্ধার করা হয়। ২০১৬ সালের ২৮ আগষ্ট চারুকলা রেলক্রসিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের তৃতীয় বর্ষের সান্তনা বসাক নামের এক ছাত্রী ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান। ২০১৪ সালের ১৪ জুলাই ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যায় ফলিতও-গণিত বিভাগের ছাত্রী ইসরাত আরেফিন।

২০১৩ সালের ৩০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের পাশে শামীমা আক্তার নামে এক গৃহবধূ ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারাতে হয়। একই বছরের ১৩ মে মেহেরচন্ডী এলাকার ক্রসিংয়ে কাটা পড়ে মারা যায় সোহেল রানা নামে স্থানীয় এক যুবক।

অন্যদিকে ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় গোরস্থান সংলগ্ন ক্রসিংয়ে ঢাকা থেকে রাজশাহী গামী ধুমকেতু এক্সপ্রেসের ধাক্কায় রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের গাড়ি ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। গুরুতর আহত হন গাড়ির চালক আজহারুল ইসলাম।

এছাড়া ২০১০ সালের ২৪ জানুয়ারি বধ্যভূমি এলাকার ক্রসিংয়ে শামসাদ পারভীন আনু নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীর ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়। সর্বশেষ ১ জনু দিবাগত রাত ১২ টায় রাবির স্টেশন বাজার সংলগ্ন রেল লাইনে কাটা পড়ে শাহিন (২৫) নামের এক এক যুবকের মৃত্যু হয়।

চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পসলাইভকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ও প্রধান ক্যাম্পাসকে রেল সড়কটি বিভক্ত করার কারনে আমাদের বিকল্প যাতায়াতের পথ না থাকায় প্রতিনিয়তই এই রেলক্রসিং ব্যবহার করতে হয়। প্রায়ই সময় ট্রেন চলে আসলে আমরা বুঝতেও পারি না।

মাঝের মধ্যে ক্রসিংয়ের সময় আতকে উঠতে হয়। অনেক সময় ট্রেন আসছে কি না ভুলে যায়। এতে করে দূর্ঘটনার সম্ভাবনা সব সময় থেকে যায়। এই বিষয়টি নিয়ে আমরা অনেক বেশি উদ্বিগ্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের নিরাপত্তার জন্য একজন গেটম্যান অবশ্যই প্রয়োজন।

তবে রাজশাহী রেলওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মহিউদ্দীন ক্যাম্পসলাইভকে বলেন, ‘সব ক্রসিংয়ে গেট দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা আমাদের আছে। তবে রেললাইনের ওপর দিয়ে যে বিভাগ (যেমন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়) রাস্তা নেবে গেট নির্মাণের খরচ সেই বিভাগকে দিতে হবে।

কিন্তু যে বিভাগগুলো রাস্তা নিয়েছে তারা সাড়া দিচ্ছে না বলেই আমরা কাজ করতে পারছি না। একইভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমরা সাড়া পাচ্ছি না বলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রসিংগুলোতে গেট নির্মাণ করা সক্ষম হচ্ছে না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. লুৎফর রহমান ক্যাম্পসলাইভকে বলেন, আমি ভিসি এবং প্রো-ভিসি দুই জনকেই রেলক্রসিংয়ের বিষয়ে জানিয়েছি। উনারা এ বিষয়ে প্রদক্ষেপ নিবেন বলে আশ্বাস দিয়েছে। তবে আশা করি স্বল্প সময়ের মধ্যেই এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

 

 


ঢাকা, ১ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।