রাবিতে আম পাড়া নিয়ে যা বললেন প্রো-ভিসি


Published: 2018-06-01 02:12:36 BdST, Updated: 2018-06-18 15:25:03 BdST

রাবি লাইভ : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গাছ থেকে আম পাড়ায় এক ছাত্রকে পুলিশে দেয়া নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী ক্ষুধা নিবারণের জন্য আম পেড়েছিলেন এমন কথা শোনার পর তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফোকলোর চত্বর সংলগ্ন আম বাগান থেকে ওই ছাত্রকে আটক করে পুলিশে দেয়া হয়। শুধুমাত্র আম পাড়ার জন্য কোন শিক্ষার্থীকে পুলিশে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশাসনের সমালোচনা করে বিভিন্ন মন্তব্যও করেছেন। ওই শিক্ষার্থীর নাম আনোয়ারুল ইসলাম আনু। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

এদিক রাবির প্রো-ভিসি প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘তারা বস্তা ভর্তি করে আম পাড়ছিল। যদি খাওয়ার জন্যই পাড়বে তাহলে বস্তা ভর্তি করে কেন? এই বিষয়টি আমি ওই ছাত্রের কাছে জানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সে অস্বাভাবিক আচরণ করছিল। তাই তাকে পুলিশে দেয়া হয়। আনুর আর্থিক অবস্থা খারাপ এবং আম খেয়েই সে গত কয়েকদিন দিনাতিপাত করছে, বিষয়টি প্রো-ভিসির দৃষ্টি গোচর করা হলে তিনি বলেন সত্যি যদি তার আর্থিক সমস্যা থেকে থাকে তবে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রকল্যাণ তহবিল থেকে সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। তবে তাকে বিষয়টি আমাদের জানাতে হবে। তাছাড়া প্রশাসন জানবে কিভাবে? আর্থিক সমস্যারও সমাধান আছে, কিন্তু শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজে জড়িয়ে পড়া কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন প্রো-ভিসি।

জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় পুরাতন ফোকলোর এলাকার বাগান থেকে আম পাড়ছিল আনু ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী পলাশ। এর মধ্যে আনুর অার্থিক অবস্থা খারাপ বলে গত কয়েকদিন ধরে তিনি আম খেয়েই আছেন। হলে খাওয়ার মত তার কোন টাকা ছিল না বলে বন্ধুরা জানিয়েছেন। এদিকে ওই শিক্ষার্থীরা আম পাড়ার সময় পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দফতরের প্রশাসক ড.এফ এম আলী হায়দার। তিনি আনু ও পলাশকে ডেকে গাছগুলো লিজ হয়েছে জানিয়ে আম পাড়তে নিষেধ করেন। পরে শিক্ষক আলী হায়দার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহাকে জানান। প্রো-ভিসি ঘটনাস্থলে এসে আম পাড়ার কারণ জানতে চাইলে সেখানে বচসা হয়। একপর্যায়ে প্রো-ভিসি তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টহল পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

ওই শিক্ষার্থী আনু বলেন, আম পাড়ার সময় সেখানে অনেক লোক জড়ো হয়ে গিয়েছিল। লজ্জায় আমার সমস্যার কথা আমি স্যারকে বলতে পারিনি। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলেছিলাম আপনারা আমাকে দুই মিনিট সময় দিলে সমস্যার বিষয়টি বলতে পারতাম। কিন্তু প্রশাসন আমাকে পুলিশে দেয়। আমি সমস্যার কথা পরে মতিহার থানার ওসিকে খুলে বলি। সব শুনে সন্ধ্যার পর তারা আমাকে ছেড়ে দিয়েছে।

ঢাকা, ০১ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।