রুয়েটে ভিসি নিয়োগ, শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন!


Published: 2018-05-26 16:29:58 BdST, Updated: 2018-06-18 15:21:13 BdST

রুয়েট লাইভ: রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) চায়ের দোকান থেকে শুরু করে প্রশাসন ভবনে শুরু হয়েছে আলোচনা, সমালোচনা ‘কে হচ্ছেন রুয়েট ভিসি’। এনিয়ে ক্যাম্পাসে চলছে নানা গুঞ্জন।

জানা গেছে, রুয়েটের বর্তমান ভিসির দায়িত্ব গ্রহণের চার বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ২৮ মে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য (রাষ্ট্রপতি) নতুন ভিসিকে পরবর্তী চার বছরের জন্য দায়িত্ব দেবেন।

রুয়েট ভিসি পদের মেয়াদ শেষ না হতেই ইতিমধ্যে এ পদে দায়িত্ব পেতে গ্রুপিং লবিং শুরু করে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক। এরই মধ্যে নতুন ভিসি নিয়োগ নিয়ে রুয়েটের শিক্ষক রাজনীতি বেশ জমজমাট উত্তেজনা বিরাজ করছে। কে হচ্ছেন পরবর্তী ভিসি তা নিয়ে চলছে নানা জনের নানা মত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সরকারের উচ্চপর্যায়ে লবিং চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এদিকে রুয়েটের প্রো-ভিসির পদটিও সাড়ে তিন বছরের অধিক সময় ধরে খালি রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৮ মে, যন্ত্রকৌশল বিভাগের প্রফেসর মোহা রফিকুল আলম বেগকে রুয়েট’র ষষ্ঠ ভিসি হিসেবে চার বছরের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চলতি মাসের ২৮ মে তার দায়িত্ব শেষ হতে যাচ্ছে।

রুয়েট’র শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চান শুধু সিনিয়রের ভিত্তিতে নয় শিক্ষা ও গবেষণা, নেতৃত্বদানের ক্ষমতা ও যোগ্যতা বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ভিসি নিয়োগ দেয়া হোক। রুয়েট’র তিন জন সিনিয়র প্রফেসর বলেন, ভিসি পদটির সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ সরাসরি জড়িত, এ পদটি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় সুষ্ঠভাবে চালোনো সম্ভব নয়। আর তাই রুয়েটের প্রশাসনিক, একাডেমিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের স্বার্থে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য কোন শিক্ষককে ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিলে রুয়েট আরও গতিশীল হবে।

রুয়েটের বাইরের কাউকে ভিসির দায়িত্ব দিলে শিক্ষকদের মাঝে বোঝাপড়ায় সমস্যা ও মনোমালিন্য এমনকি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিতে পারে। যার ফলে বিশৃঙ্খল হওয়ার একটা সম্ভবনা থাকে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে জটিলতা ও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী হতে পারে।

রুয়েট’র আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের অনেকেই বলছেন, ভিসি পদে দলীয় পরিচয়কে মূখ্য বিবেচনায় না নিয়ে কোনো সৎ. নীতিবান, মেধাবী ও যোগ্য ব্যক্তিকেই যেন নিয়োগ দেয়া হয়। তবে আওয়ামীপন্থীদের অধিকাংশই বলছেন, দলীয় শিক্ষকদের মধ্য থেকেই যোগ্য ও প্রশাসনিক দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিকেই দায়িত্ব দেয়া হোক।

জানা গেছে, এরই মধ্যে বিভিন্ন বিভাগের ৫ জন প্রফেসর ভিসি পদে দায়িত্ব পেতে বিভিন্ন মহলের যোগাযোগ রাখছেন। এই প্রফেসররা এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে বিভিন্ন পদে দায়িত্বে রয়েছেন। সাবেক একজন ভিসিও নতুন করে আবারও সেই পদটি নিতে চেষ্টা চালাচ্ছেন।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, বর্তমান ভিসি প্রফেসর মোহা: রফিকুল আলম বেগ দ্বিতীয় বারের মত ভিসি পদে বহাল থাকতে পারেন। পুনরায় নিয়োগ পেতে বিভিন্ন মাধ্যমে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে লবিং শুরু করেছেন।

তিনি শিক্ষা-গবেষণাসহ নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডে সফলতা দেখিয়েছেন। তবে ভিসি হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে গৃহীত সিদ্ধান্তে তার নেতৃত্ব কিছুটা হলেও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে শিক্ষকদের মাঝে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতারও অভিযোগ তুলেছেন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান ভিসির পর ওই পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম উঠে আসছে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মো: মর্ত্তুজা আলীর নাম।

তিনি এর আগে রুয়েট’র ভারপ্রাপ্ত ভিসি, প্রো-ভিসি, রেজিস্ট্রার ও ছাত্র কল্যান পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের মধ্যে প্রভাবশালী বলেও জানা গেছে।

প্রশাসনের শীর্ষ পদে নিয়োগ পেতে যন্ত্রকৌশল অনুষদের ডীন ও গ্লাস এন্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি প্রফেসর শামীমুর রহমান জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি বর্তমানে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।

রুয়েটের প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট কমিটির ডিরেক্টর ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর আব্দুল আলিমের নামও বেশ শিক্ষকদের মাঝে বেশ ভালভাবে শোনা যাচ্ছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য।

ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজির (আইআইসিটি) এর পরিচালক ও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর শহীদ উজ জামান ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেতে বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি রুয়েট’র সিন্ডিকেট সদস্য।
রুয়েট’র ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি প্রফেসর এনএইচএম কামরুজ্জামান সরকারও ভিসি পদের জন্য বেশ দৌঁড়ঝাপ করছেন। তিনি বর্তমানে শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতির দায়িত্বে আছেন।

ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর মো. রফিকুল ইসলাম শেখ এবং পুরকৌশল বিভাগের প্রফেসর ড. তারিফ উদ্দীন আহমেদও পরবর্তী ভিসির দায়িত্ব পেতে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করছেন বলে জানা গেছে।

তবে এ বিষয়ে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের রাষ্ট্রপতির কাছে দাবি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে থেকে ভিসি পদে এমন কাউকে নিয়োগ দিবেন যিনি সৎ, প্রশাসনিক দক্ষ, নীতিবান, মেধাবী, যোগ্য এবং দেশ প্রেমিক ব্যক্তি। আমরা আশাবদী এবং রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাপ্তির জায়গা একটাই থাকবে এমন শিক্ষককে নিয়োগ দেবেন যে দল, মতের উর্ধ্বে থেকে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থেই কাজ করবে।

 


ঢাকা, ২৬ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।