নাড়ির টানে খোঁজে ফেরেন রাবি শিক্ষার্থীরা


Published: 2018-05-24 21:22:02 BdST, Updated: 2018-10-20 19:37:05 BdST

রাবি লাইভ: ছোটবেলায় রমযানে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন মিলে একসাথে ইফতার করার এক বিচিত্র অনুভূতির যে অভিজ্ঞতা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরেও তা ভুলতে পারিনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পড়ালেখা অবস্থায় বার বার মনে পড়ে সে সময়ে বাবা-মা, ভাইবোনদের সাথে ইফতার করার অনুভূতিগুলো তা এখন শুধুই স্মৃতির পাতায় মানসপটে খেলা করে।

এ সময়ে এসে ক্যাম্পাসে বন্ধু আর সিনিয়রদের সাথে পারিবারিক আবহে ইফতার করার অনুভ‚ তিটা সত্যিই আলাদা। যেন বার বার ফিরে যাই সেই নাড়ির টানে। সবাই মিলে ইফতার কিনতে যাওয়া, তৈরী করা, একসাথে ইফতার করা, এই মূহুর্তগুলোতে খুঁজে পাই নিজ পরিবারের আমেজ।

পরিবার থেকে অনেক দূরে থেকেও এখন আর খুব বেশি মনেই হয় না যে পরিবার থেকে দ‚রে আছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্বরে ইফতার তৈরী করতে করতে এ ভাবেই নিজের আবেগগুলো প্রকাশ করছিলেন আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবুল বাসার আহমেদ। শুধু আবুল বাসার নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের ইফতার নিয়ে সবার এমনি আবেগ, অনুভূতি।

শুধু রমযান মাস নয়, যাদের বছরের অধিকাংশ সময় কাটে পরিবার থেকে দূরে। প্রতিদিনের সূর্য যখন পশ্চিম দিকে হেলতে শুরু করে তখন জমে উঠে বন্ধুদের সাথে এক প্রাণবন্ত ইফতার আড্ডা। সেই মুহূর্তে এসে সারাদিনের ক্লান্তি আর পরিবার থেকে দ‚রে থাকার কষ্ট টুকু ভুলিয়ে দেয় খুব সহজে। ঠিক যেমনটা বলছিলেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বিজয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্বরে ইফতার আয়োজনে শিক্ষার্থীরা

 

তিনি আরো বলেন, ‘ক্যাম্পাস বন্ধ হলেও জরুরি কাজ থাকায় বাড়িতে যেতে পারছি না। পরিবার ছাড়া ইফতার করতে খারাপ লাগছে। কিন্তু হলে বন্ধুদের সাথে ইফতার করার কারণে কিছুটা হলেও ভালো লাগে কাজ করে।

বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে ইফতার করলে সম্পর্কও গভীর হয়। যার ফলে সবার মাঝে গড়ে ওঠে আন্তরিকতা, ভালবাসা, এবং ঐক্যর মিল বন্ধনের এক মধুর সম্পর্ক। ’কারো কারো এবার ক্যাম্পাসে শেষ ইফতার বলে বেশ মন খারাপ। স্মৃতিপটে ভেসে উঠছে বন্ধুদের সাথে কাটানো এতদিনের মধুর সময়গুলো। ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী ইমদাদুল হক সোহাগ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার পড়াশোনা শেষের দিকে।

মাস্টার্সের পরীক্ষা চলতি বছরে শেষ হবে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাব, ভাবতেই খারাপ লাগছে হলে হৈ হুল্লোড় করে সবার সাথে আর ইফতার করা হবে না। এ সময়টুকু খুব মিস করব।’

শুধু আবাসিক হল নয় ক্যাফেটেরিয়া, ইবলিশ চত্বর, পরিবহন মার্কেট, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, টিএসসিসির সবুজ চত্বর, হবিবুর হলের মাঠ, মমতাজ উদ্দীন কলা ভবনের সামনের চত্বরসহ ক্যাম্পাসের প্রায় প্রতিটি স্থানে শিক্ষার্থীরা ইফতার করার জন্য মিলিত হন। সবাই গোল হয়ে বসে মেতে উঠেন ইফতারের আনন্দে।

এদিকে মুসলিম শিক্ষার্থীরা এক সাথে ইফতার করে না। তাদের সাথে বন্ধু হিসেবে পাশে নিয়ে হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক সাথে মেতে ওঠে ইফতার মাহফিলে। এতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ধর্মের এক অসাম্প্রদায়িক মিল বন্ধনের প্রতিক হিসেবে দাঁড়িয়েছে ইফতার মাহফিল।

 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্বরে ইফতারের পূর্ব মূহুর্ত শিক্ষার্থীদের আলোচনা

 

বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন আবাসিক হলের সামনে, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর, স্টেশন বাজার, কাজলায় ইফতারের দোকান বসেছে। সেখানে হরেক রকমের ইফতার বিক্রি করা হচ্ছে। এসব দোকানে পাওয়া যাচ্ছে ছোলা, মুড়ি, জিলাপি, বুন্দিয়া, বেগুনি, পেঁয়াজুসহ বিভিন্ন আইটেমের ইফতার।

কেউ কেউ আবার রুমেই ইফতার রান্না করছেন। বেগম রোকেয় হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সারমিন ইতি বলেন, ‘বাইরের দোকানের ইফতারের মান খারাপ, বাজারে জিনিস-পাতির দাম একটু বেশি হলেও ভাল স্বাদের ইফতাদের জন্য নিজেরাই রান্না করি, কিছু ফলম‚ল দোকান থেকে কিনে নিয়ে আসি এবং রুমমেটদের নিয়ে একসাথে ইফতার করি।’

 

 


ঢাকা, ২৪ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।