নানা সমস্যার মুখে রাবি’র ভেটেনারি ক্লিনিক ও কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র


Published: 2017-12-29 19:16:22 BdST, Updated: 2018-09-24 12:28:47 BdST

 

মনিরুল ইসলাম নাঈম: নানা সমস্যার মুখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পশু চিকিৎসা ও কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রটি লক্ষ্য অর্জনে ব্যহত হচ্ছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান হলেও নেই পর্যাপ্ত গবেষণা সামগ্রী। রয়েছে জনবলের ঘাটতি, যাতায়াত ব্যবস্থার সমস্যাসহ নানা সমস্যা রয়েছে বলে দাবী সংশ্লিষ্টদের।

জানা যায়, ১৯৯১ সালে রাজশাহী কৃষি কলেজটি ২০০১ সালের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের অর্ন্তভূক্ত হয়। প্রথমদিকে অনুষদের গবেষণার হিসাবে থাকলেও পরে ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিভাগ শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য দেওয়া হয়। ২০০৪ সালের দিকে পাশ্ববর্তী এলাকার প্রাণীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য ‘ভেটেনারি ক্লিনিক ও কৃত্তিম প্রজনন কেন্দ্র’ হিসেবে চালু করা হয় গবেষণাগারটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ২০০৪ সালে চালু হলেও ক্লিনিকটিতে রয়েছে নানা ধরণের সমস্যা। গবেষনা থেকে শুরু করে অন্যান্য কার্যকম যেন নাম মাত্র চলছে। গবেষণাগারে থাকা, অপারেশন থিয়েটার, গাইনোকোলোজি ল্যাব, ডিসপেনসরি, এক্সরে মেশিনগুলো প্রাচীন হওয়ায় কাজে আসছে না। অনেক সরঞ্জামাদি ব্যবহারের অকেজো হয়ে আছে বলে অভিযোগ শিক্ষর্থীদের।

এদিকে ক্লিনিক ও কৃত্তিম প্রজন কেন্দ্রের প্রায় ১২ একর জায়গার এই বিশাল ক্যাম্পাসটি দেখার জন্য মাত্র তিনজন প্রহরী ও চার জন ফার্ম গার্ড।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই জায়গাটিতে নেই কোন প্রাচীর। ফলে স্থানীয়দের অবাধ বিচারণে সরঞ্জমাদি চুরি, গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া, কর্মরত কর্মচারীদের বিভিন্ন হুমকি ধামকির সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে যাতায়াত ব্যবস্থাও নাজুক। বিভাগের অধ্যায়ণরত একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, “গবেষণার কাজে যাতায়াতের জন্য একটি মাত্র পরিবহণ। তাও আবার শুধু শিক্ষার্থীদের নিয়ে যায়। গবেষণার কাজ শেষ হওয়ার পুর্বে চলে আসে। তখন আমাদের ক্যাম্পাসে আসার জন্য ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেকে দুরে যেতে চায় না।

ভেটেরিনারি ক্লিনিক ও কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের ইনচার্জ ডা. হেমায়াতুল ইসলাম আরিফ ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকমকে বলেন, “ভেটেরিনারী বিভাগটি মূলত প্র্যাকটিক্যাল বিভাগ। যারা এখান থেকে পাশ করে বের হয় তারা সরাসরি ডাক্তারি পেশায় সংযুক্ত হতে হয়।

ব্যবহারিক হওয়ায় পাশ্ববর্তী এলাকার গবদি পুশুগুলো চিকিৎসা দেওয়া হয়। এতে করে একদিনে যেমন স্থানীয় জনগোষ্ঠি উপকৃত হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের গবেষণা কাজ করতে সুবিধা হচ্ছে। কিছু সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীরা গবেষণায় অনিহা এবং উপযুক্ত সেবা প্রদানে হাসপাতালটি প্রতিনিয়ত ব্যর্থ হচ্ছে।

ভেটেরেনারী বিভাগের সভাপতির ড. এসএম কামরুজ্জামান বলেন, “উন্নতমানের ক্লিনিক এর জন্য কমপক্ষে ১০/১২ টি ল্যাব প্রয়োজন। আমাদের ক্লিনিকের জন্য অতিরিক্ত কোন বরাদ্দ দেওয়া হয়না। বিভাগের যে বরাদ্দ দেওয়া হয় সেখান থেকে ক্লিনিকটি পরিচালনা করা হয়। যার কারনে বিভিন্ন ফার্ম এর উপযুক্ত পশু ক্রয় করা সম্ভব হয়না। একটি পরিবহণ ক্লিনিক এর জন্য বরাদ্দ, যার ফলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়ে’।

তবে প্রশাসনের সুদৃষ্টি দিলে ক্লিনিকটি গবেষণা ও স্থানীয় জনগণের সেবায় আরো কার্যকারী ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশাবাদি তারা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতায় সমস্যাগুলো তৈরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশ্বদ্যালয় প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহা ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কমকে বলেন, “ মূল ক্যাম্পাস থেকে বাইরে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগ থাকে তারা যথাযথ ভাবে ক্লাশ, গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা আগ্রহ নিয়ে পড়াশুনা করছে।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের গাফলতিতে কারনে শিক্ষার্থীরা গবেষণায় অংশগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করছেনা। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের আন্তরিকতা বাড়াতে হবে। তবে ক্লিনিকটি আধুনিকায়ন করার পরিকল্পনা আছে”।

 


ঢাকা, ২৯ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।