যে কারণে হাবিপ্রবিতে শিক্ষকদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা


Published: 2017-11-21 12:31:53 BdST, Updated: 2017-12-14 04:35:43 BdST

দিনাজপুর লাইভ : হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) শিক্ষকদের ওপর ন্যাক্ক্যারজনক হামলা চালানো হয়েছে। প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের শিক্ষকদের উপর “জয়বাংলা” শ্লোগান দিয়ে হামলা চালিয়েছে ভিসির সমর্থনপুষ্ট শিক্ষার্থীরা। এতে অন্তত ৬ জন শিক্ষক আহত হয়েছেন। সোমবার রাতে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। শিক্ষকরা মনে করছেন ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর হামলা হয়েছে। নেমে এসেছে শাস্তির খড়গ। আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত থাকায় ছাত্র ও পরামর্শ বিভাগের পরিচালককে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা হয়েছে। এভাবে নিপীড়ন ও হামলা চালিয়ে শিক্ষকদের দমানো যাবে না। হাবিপ্রবিতে কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া হবে না বলে উল্লেখ করে শিক্ষকরা।

জানা যায়, সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ডা. এসএম হারুন উর রশিদকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ও পরামর্শ বিভাগের পরিচালক পদ থেকে অপসারণ করে ওই পদে প্রফেসর ড. শাহাদৎ হোসেন খানকে দায়িত্ব দেয়। ওই ঘটনায় প্রগতিশীল শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দেয়।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে গত শনিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও পরামর্শ বিভাগের পরিচালক ডা. এসএম হারুন উর রশিদ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় গ্রহণ করে ২০১৮ সালের অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ম অনুযায়ী রেন্ডমাইজেশন পদ্ধতিতে আসনবিন্যাস না করে জেলা ওয়ারী করা হয়েছে। এছাড়া প্রশ্নপত্র ও ওএমআর শিটের অসামজস্যতা, পরীক্ষা গ্রহণের পর ফলাফলে অনিয়ম এবং শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ভর্তি কমিটির সহযোগী সদস্য সচিব ও প্রক্টরের ভর্তি গাইড ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এবং অনিয়মের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে ফলাফল প্রকাশের জন্য প্রস্তাব করা হলেও তা মেনে না নেয়ায় ভর্তি কমিটির ৬ জন সদস্য ফলাফল শিটে স্বাক্ষর করেননি।

মূলত কর্তৃপক্ষের দোষে মেধাবীরা সুযোগ পায়নি। তাই ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভর্তি পরীক্ষায় বাণিজ্য (সি) ইউনিটের প্রশ্নপত্র এবং ওএমআর শিটের ধারাবাহিকতায় যথেষ্ট গড়মিল ছিল। তাছাড়াও বেশকিছু বাণিজ্য ছাত্র-ছাত্রীর পরীক্ষা মানবিক ও বিজ্ঞান প্রশ্নপত্রে নেয়া হয়, যাতে করে বাণিজ্যের ছাত্রছাত্রীরা তাদের বাণিজ্য বিষয়সমুহে প্রশ্নপত্র পায়নি। বাংলাদেশের সকল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় রেন্ডমাইজেশন পদ্ধতিতে আসনবিন্যাস করা হয়। কিন্তু এবারের ভর্তি পরীক্ষায় জেলা ওয়ারী শিক্ষার্থীদেরকে বসানো হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে ফলাফলের উপর। অনিয়ম করায় পছন্দমত শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ পেয়েছে, আর অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আবার সকল ইউনিটের ফলাফল প্রকাশেও ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। এফ ইউনিটের প্রথম শিফটে শতকরা ১৫ শতাংশ আবার দ্বিতীয় শিফটে শতকরা ৮৫ শতাংশ পরীক্ষার্থী সুযোগ পেয়েছে। একইভাবে অন্যান্য ইউনিটেও ফলাফলে একই ধরনের প্রভাব পড়েছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিকেলে ওই কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন। এই ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদে নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সদস্যরা। শেষ অবস্থা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কক্ষে বসে শিক্ষকরা অবস্থান ধর্মঘট পালন করছে। এতে করে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন ভিসি প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেম।
একপর্যায়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে ভিসিকে ছিনিয়ে নেয়া হয়। এসময় আহত হন হাবিপ্রবি প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের শাজদীক আহমেদ, হাফিজ আল আমীন পলাশম হাসান জামিল, মাসুদ ইবনে আফজাল, আতিকুল হক ও রুবাইয়াত হাসান।

তবে আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানিয়েছে, দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থান থেকে সরে না আসার। অবস্থান ধর্মঘটের নেতৃত্ব দেন প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. আনিস খান, সংগঠনের সহ-সভাপতি ও সাবেক রেজিষ্ট্রার প্রফেসর ড. সাইফুর রহমান, সাবেক প্রক্টর প্রফেসর ড. এটিএম শফিকুল ইসলাম, সংগঠনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিস অনুষদের ডীন ড. মোহাম্মদ ফেরদৌস মেহেবুব, সহ-সাধারন সম্পাদক ও ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ডা. এসএম হারুন-উর-রশিদ, সহ-সাধারন সম্পাদক প্রফেসর ড. নাজিম উদ্দিন, প্রফেসর ড. মামুনুর রশিদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফোরামের অন্যান্য সদস্যরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিষ্ট্রার ও প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. বলরাম রায় জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত ছাত্র ও পরামর্শ বিভাগের পরিচালক ডা. এসএম হারুন উর রশিদকে দায়িত্বে পূণ:বহাল না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

হাবিপ্রবির ভিসি প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেম জানান, ছাত্র ও শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করে তার বাসবভনে নিয়ে গেছে। তবে কেউ প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের শিক্ষকদের উপর হামলা করেনি। তার নেতৃত্বে হামলার যে অভিযোগ উঠেছে, তা তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।


ঢাকা, ২১ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।