''মোর্শেদ হাসান চাকুরিচ্যুত হওয়ার মত অপরাধী নয়''


Published: 2020-09-17 18:46:10 BdST, Updated: 2020-10-21 11:09:42 BdST

ঢাবি লাইভঃ ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশের ৫৬ ধারার ৩ উপধারা ১ম স্ট্যাটিউটের ৪৫ ধারার ৩ উপধারা অনুযায়ী নৈতিক স্থুলজনিত অপরাধ, অদক্ষতা এবং চাকুরি বিধি পরিপন্থী কাজের সাথে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা চাকুরি থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। উপরোক্ত শর্ত অনুযায়ী ড.মোর্শেদ হাসান খান দোষী সাব্যস্ত নন বলে দাবি করেছেন জাতীয়তাবাদী ও ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।

২৬শে মার্চ ২০১৮। দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় সাদা দলের যুগ্ম-আহবায়ক 'জোতির্ময় জিয়া' শিরোনামে একটি নিবন্ধ লিখেন। নিবন্ধে জাতির পিতার অবমাননা ও মুক্তি যুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি অভিযোগ এনে তাকে চাকরি থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়।

দুই বছর পরে গত ৯ই সেপ্টেম্বর বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য মো.আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সর্বোচ্ছ নীতিনির্ধারণী সভা সিন্ডিকেট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়(ঢাবি)-এর শিক্ষক মোর্শেদ হাসানকে চাকরিচ্যূত করেন।

এর প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে মানববন্ধন করেন জাতীয়তাবাদী ও ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহবায়ক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক মোঃ লুৎফর রহমানের সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজিস টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো: হাসানুজ্জামান, প্রাণ রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মামুন আহমেদ, চারুকল অনুষদের সাদা দলের আহবায়ক ইসরাফিল (প্রাং) রতন সহ প্রায় অর্ধশত শিক্ষক।

সাদা দলের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মানববন্ধনের সভাপতি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

মানববন্ধন

 

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীন মত প্রকাশ, মুক্তবুদ্ধি লালন ও চর্চাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। একটি দৈনিক পত্রিকার সূত্র ধরে উদ্ভূত প্রতিক্রিয়া ও পরিস্থিতিতে অধ্যাপক ড.মোর্শেদ হাসান খান নিবন্ধটি প্রত্যাহার করেন এবং দুঃখ প্রকাশ করে গণমাধ্যমে বিবৃতি দেন। এর পরেও একটি মহলের চাপে তাকে চাকুরিচ্যুত করার মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।আমরা বিশ্বস্ত সূত্র জানতে পেরেছি তাকে একটি বিশেষ মহলের চাপে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

তিনি আরো বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশের ৫৬ ধারার ২ উপধারা অনুযায়ী রাজনীতি বা স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। যেহেতু তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাই তিনি নিবন্ধ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন এবং দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন। এরপরেও তাকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের জন্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এমনকি পুরো জাতির জন্য,লজ্জার বিষয়।

অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সিদ্ধান্ত কে বাতিল করে ড.মোর্শেদ হাসান খান কে চাকুরিতে পুনর্বহাল করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।

সঞ্চালকের বক্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি অধ্যাপক মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে। এছাড়া জাতীয় ভাবে আমাদের আরো দুটি অনুষ্ঠান রয়েছে এক হলো মুজিববর্ষ আরেকটি হলো স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন। এই তিনটি মাহেন্দ্রক্ষণে একটি জাতি হিসেবে আমাদের অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা রয়েছে।

কিন্তু এরই মাঝে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক কে তার স্বাধীন মত প্রকাশের কারণে চাকুরিচ্যুত করার মতো ঘটনা আমাদের কে ব্যথিত করে। এই ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য, শিক্ষক সমাজের জন্য এমনকি পুরো জাতির জন্য লজ্জার বিষয়। আজকের মানববন্ধনের পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার ভুল বুঝতে পারবে।এবং অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান কে চাকুরিতে পুনর্বহাল করবেন বলে আশা রাখি।

ড.মোর্শেদ হাসান খান

 

মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজিস টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো: হাসানুজ্জামান, প্রাণ রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মামুন আহমেদ সহ আরো অনেক।

যা লিখেছিলেন মোর্শেদ হাসান: ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত ‘জ্যোতির্ময় জিয়া’ নিবন্ধে অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান লেখেন, “আওয়ামী নেতাদের বেশিরভাগই স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তাদের পরিবার পরিজনসহ ভারতে চলে গেলেন এ দেশবাসীকে মৃত্যু ফাঁদে ফেলে দিয়ে নেতৃত্বহীন অবস্থায়। যাকে ঘিরে এ দেশের মানুষ স্বপ্ন দেখত সেই শেখ মুজিবুর রহমানও।

জাতির এ সঙ্কটকালীন মুহূর্তে ত্রাতারূপে আবির্ভূত হন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। দেশপ্রেমের মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত এই টগবগে যুবকের কণ্ঠে ২৬ মার্চ রাতে বজ্রের মতো গর্জে ওঠে স্বাধীনতার ঘোষণা। স্বাধীনতার ডাক এসেছিল শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পর, তার আগে নয়। আমার জানা মতে, তিনি কোনো স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।”

নিবন্ধের আরেক জায়গায় স্বাধীনতার পরের বর্ণনা দিতে গিয়ে মোর্শেদ হাসান লিখেছেন, “দেশবাসী দেখলো শেখ মুজিব একদলীয় বাকশালী শাসনব্যবস্থা চালু করে নিজেই যেন দাঁড়িয়ে গেলেন নিজের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে। ১৯৭২ থেকে ৭৫-এর ১৫ অগাস্টের আগ পর্যন্ত দেশে বাক স্বাধীনতা বলতে কিছুই ছিল না।”

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম) //এমএম//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।