দুর্নীতির অভিযোগ; ইউজিসির শুনানিতে যাচ্ছেন না রাবি ভিসি


Published: 2020-09-16 19:22:07 BdST, Updated: 2020-10-25 00:04:45 BdST

রাবি লাইভঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের জন্য আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বদ্যিালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসির) ডাকা শুনানিতে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। বুধবার এক সাক্ষাতকারে উপাচার্য নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ভিসি বলেন, “আমি ইতোমধ্যে চিঠি দিয়ে কর্তৃত্ববিহীন তদন্ত কমিটির তদন্ত বন্ধ করতে অনুরোধ করেছি। কারণ ইউজিসির তদন্ত কমিটি গঠন করার এখতিয়ারই নাই। কমিটি গঠনে কমিশনের যে অ্যাক্ট সেই অ্যাক্টে এই ক্ষমতা নাই। তাছাড়া তদন্ত কমিটি গঠন করতে হলে উপাচার্যের মর্যাদার একধাপ উপরের পদমর্যাদার সদস্যদের দিয়ে করতে হবে। যেহেতু ইউজিসির গঠিত তদন্ত কমিটিতে এর ব্যত্যয় ঘটেছে, সেখানে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।”

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের দ্বিতীয় মেয়াদে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত সংবলিত ৩০০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে জমা দেয় “দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজ” ব্যানারে আন্দোলনরত সাবেক ভিসি মিজানউদ্দীনপন্থী শিক্ষকরা।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ইউজিসি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর অভিযোকারী শিক্ষক চারজনের প্রতিনিধি দলকে, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়াকে শুনানির জন্য ডেকেছে। শুনানির এই আয়োজনকে অভিযোগকারী শিক্ষকরা স্বাগত জানান।

তবে গত ৯ সেপ্টেম্বর ইউজিসি চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউজিসি ডাকা গণশুনানিকে বেআইনি, আদালত অবমাননাকর ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা খর্বের শামিল বলে উল্লেখ করে উপাচার্য এম আবদুস সোবহান।

এদিকে ইউজিসির চেয়ারম্যান বরাবর উপাচার্যের পাঠানো চিঠিকে স্ববিরোধীতা বলে মনে করছেন অভিযোগকারী শিক্ষকরা। তারা বলছেন, উপাচার্য নিজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকের বিরুদ্ধে জুনিয়র শিক্ষকদের দিয়ে তদন্ত কমিটি করেছে।

অভিযোগকারী শিক্ষকদের একজন বাংলা বিভাগের প্রফেসর ডড. সফিকুন্নবী সামাদী। তিনি বলেন, উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান আমার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন হেকেপের লাইব্রেরি উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে। তদন্ত কমিটিতে যারা ছিলো সবাই আমার জুনিয়র। অথচ এখন উপাচার্য নিজের বেলায় এসে পদমর্যাদার বিষয়টি সামনে আনছেন যা স্ববিরোধীতা।

অভিযোগকারী শিক্ষকদের চার সদস্যের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী, ক্রপ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মু. আলী আসগর, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিস বিভাগের অধ্যাপক জিন্নাত আরা ও সোলাইমান চৌধুরী।

সোলাইমান চৌধুরী এবিষয়ে বলেন, “আমরা শুনানিতে অশংগ্রহণ করবো। ৩০০ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রেই আমাদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তারপরেও ইউজিসির যদি কোনো জিজ্ঞাসা থাকে সেটি উপস্থাপন করা হবে।”

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আরআর//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।