আন্দোলনে অচল বশেমুরবিপ্রবি, হলগুলোতে খাদ্য সরবরাহ বন্ধ


Published: 2020-02-17 23:59:56 BdST, Updated: 2020-07-12 09:50:57 BdST

বশেমুরবিপ্রবি লাইভঃ গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) ইতিহাস বিভাগের অনুমোদনে দাবিতে চলমান ১২তম দিনে আন্দোলন, বিক্ষোভ মিছিল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক, প্রশাসনিক কার্যক্রম সচলে মানববন্ধন এবং শেখ হাসিনা কৃষি ইন্সটিটিউট শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচীতে অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। হলগুলোতে রয়েছে খাদ্য সরবরাহ বন্ধ।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা সোমবার জয় বাংলা চত্বরে একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু করতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। অপরদিকে ইতিহাস বিভাগের চারশতাধিক শিক্ষার্থী বিভাগ অনুমোদনের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে। এসময় তাদের স্লোগানে ধ্বনিত হয় পুরো ক্যাম্পাস। পাশাপাশি শেখ হাসিনা কৃষি ইন্সটিটিউট এর শিক্ষার্থীরাও ক্লাস-ল্যাব রুম, শিক্ষক সংকট নিরসন এবং স্থায়ী বিভাগের দাবিতে আন্দোলন ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ইতিহাস বিভাগের একটানা আন্দোলনে তারা ক্লাস পরীক্ষাসহ ব্যাকলগ, সাপ্লিমেন্ট পরীক্ষায় বসতে পারছে না। তাছাড়া সার্টিফিকেট এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আটকে রয়েছে। অতিদ্রুত এসমস্যার সমাধান করে একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু করতে আহবান জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী রাসেল বলেন, আমাদের বিভাগ অনুমোদনের যৌক্তিক দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন এবং অবস্থান কর্মসূচী চালিয়ে যাবো।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শেখ রেহানা, শেখ রাসেল এবং স্বাধীনতা দিবস হলে ইতিমধ্যে সুষ্ঠু ম্যানেজমেন্ট এবং পরিচালনা পর্ষদের অবহেলার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের খাদ্য সরবরাহ ৪ থেকে ৫ দিন বন্ধ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বঙ্গমাতা, শেখ রেহেনা এবং শেখ রাসেল হলের ক্যান্টিন তথা খাদ্য বিভাগ পরিচালিত হয় কর্মচারীদের দ্বারা। কর্মচারী পরিষদের যোগসাজশে এসকল হলে খাবার পরিবেশন বন্ধ রয়েছে বলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন এবং তার সত্যতা অনুসন্ধানে এমনই এক তথ্য উঠে আসে আমাদের হাতে। বিজয় দিবস হলের খাদ্য পরিবেশনের দায়িত্বে রয়েছেন ইসহাক চৌধুরী ক্যান্টিন। তাকে খাদ্য পরিবেশন থেকে বিরত রাখতে বলেন কর্মচারী পরিষদের দায়িত্বশীলরা।

এবিষয়ে কর্মচারী পরিষদের সভাপতি তরিকুল বলেন, প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে রাখায় আমাদের যাতায়াত এবং কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কারণে হলগুলোতে নিরাপত্তা রক্ষী, বাবুর্চি কাজ করতে পারছে না। তাছাড়া হলগুলোতে পানি ও খাদ্য সরবরাহ এবং পরিবেশন বন্ধ রাখার যে অভিযোগ উঠেছে তা ভিত্তিহীন।

চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. নুরুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আন্দোলনের ফলে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজসমূহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কারো সাথেই আমরা দাপ্তরিক যোগাযোগ করতে পারছি না। এমনকি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি সংক্রান্ত কাজসমূহও আটকে আছে। এভাবে চলতে থাকলে ৩০০ এর অধিক শিক্ষার্থী হয়তো বৃত্তি থেকে বঞ্চিত হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলতি ভারপ্রাপ্ত ভিসি প্রফেসর ড. মো: শাহজাহান বলেন, ‘আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারী ইউজিসিতে একটি মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। মিটিং এ ইতিহাস বিভাগের অনুমোদনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।’

উল্লেখ্য, গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ইতিহাস বিভাগে ভর্তি বন্ধ সহ বিভাগের অনুমোদন না দেওয়ায় এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা ওই দিন রাত থেকে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিভাগের অস্তিত্বের জন্য আন্দোলন এবং অবস্থান কর্মসূচী পালন করছে।

ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।