"বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় জীবন্ত কারাগার"


Published: 2019-04-22 23:43:01 BdST, Updated: 2019-07-17 19:28:32 BdST

সানবিন ইসলাম টিটুঃ বিশ্ববিদ্যালয় শব্দটির সাথে জড়িয়ে আছে একটা আদর্শিক ও আন্তজার্তিক ধারণা। যেটা সংকীর্ণতার কারণে এই ধারণা সম্পূর্ণ বিকশিত হতে পারছে না।বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক ধারণা প্রান্তিক এলাকাতে পৌঁছে দেওয়া আরও কঠিন কাজ। স্বাভাবিকভাবে আমি যখন গ্রামে যাই গ্রামের সহজ সরল প্রাণবন্ত মানুষগুলো এখনো আমাকে প্রশ্ন করে বাবা কোন কলেজে চাকুরি হয়েছে।

আমার শুনে খুব ভালো লাগে এবং আমাকে সময় নিয়ে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। কারণ এই সরল মানুষদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় ধারনা বুঝানো এত সহজ কাজ নয়। যদিও এই সরল প্রাণের লোকদের বিশ্ববিদ্যালয় ধারণা না বুঝলেও তেমন সমস্যা নেই।কিন্তু যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাদেরকে গভীরভাবে অনুধাবণ করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণাকে।

বিশ্ববিদ্যালয় হবে সেই প্রতিষ্ঠান হবে যে প্রতিষ্ঠান 'অলটারনেটিভ ভয়েস' কে সবসময় শ্রদ্ধার চোখে দেখবে;যে জায়গায় শিক্ষক, ছাত্র, সবাই যে যার মতামতকে অনুধাবণ করবে এবং বিস্তার ঘটাবে।

বিশ্ববিদালয় এবং আন্দোলন একে অপরের পরিপূরক। কারণ আমাদের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে সৃষ্টি হয়েছে ব্রিটিশ ও পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অংশ হিসাবে। এছাড়া দেশের চল্লিশোত্তর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার পিছনে ঐতিহাসিক ঘটনা জড়িত। তেমনি এক বিশ্ববিদ্যালয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

দক্ষিণবাংলা মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার বাতিঘর হচ্ছে এই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি রাজনৈতিক রুপদানের চেষ্টা করা হয়েছে।যেটা বাংলাদেশের অন্যান্য নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যদিও সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে ১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রস্তাবিত ধারণা নিয়ে তারই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বাস্তবায়ন করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।
এর মাধ্যমে বরিশালের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, মুক্তিযোদ্ধা ও সুশীল সমাজের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।

আমি যখন ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়েন করি তখন আমার কাছে মনে হয়েছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ গবেষকদের কর্মদক্ষতায় বিশ্ববিদ্যালয়টি বাংলাদেশ তথা বিশ্বে সুনাম অর্জন করবে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে এই অনুমান ভুল মনে হয়েছিল কারণ এই বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে গবেষণা ও বিদেশ থেকে ডিগ্রী প্রদান করার করার উৎসাহ দেয় কথায়, কার্যত আপনাকে আর্থিক বৈষম্যের মধ্যে ফেলে দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশে 'ভাগ করো ও শাসন করো' নীতির প্রবেশ ঘটেছে।যেখানে আপনি দেখতে পাবেন শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্রদের মধ্যে বিভাজন! একটা শ্রেনী এই বিভাজন সৃষ্টির মাধ্যমে আমাদের ব্যস্ত রাখে দলাদলি করতে। এই শ্রেণী না হয় শিক্ষকবান্ধব, না হয় ছাত্রবান্ধব! যদিও তারা তাদের স্বার্থে সবার উপরে অবস্থান করে থাকে। তাদের তোষণ নীতি আজীবন চলতে থাকে।

আন্দোলন একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের চালিকাশক্তি। কারণ ছাত্ররা কখনো অন্যায্য আন্দোলন করে না! প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য, নিপীড়ন, নির্যাতন বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া, সংগ্রাম করা, প্রতিরোধ গড়ে তোলাই তাদের কাজ। বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে হবে অবাধ, স্বাধীন, মুক্ত মতামত প্রকাশের জায়গা সেখানে এটাকে জীবন্ত কারাগার বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

হুমকি দিয়ে আন্দোলন দমন করা যায় না বরং এই হুমকি আন্দোলনকে আরও বেগবান করে। বর্তমান বাস্তবতায় এই আন্দোলন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে ভবিষ্যত কর্মপন্থা নির্ধারণে দিক প্রদান করবে। পরবর্তী প্রধাণরা যাতে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে সেটাই হোক এই আন্দোলনের প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

লেখক: সানবিন ইসলাম টিটু
প্রভাষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা, ২২ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আরএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।