শাবি ছাত্রের গায়ে ৭০ সেলাই : ‘আর মারিস না, মরে যাব’


Published: 2019-03-25 06:54:09 BdST, Updated: 2019-04-24 10:35:01 BdST

শাবি লাইভ : ‘আমি তোর বড় ভাই। আমাকে আর মারিস না। আমি তো মরে যাব।’ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র রাজীব সরকারের ওপর হামলার সময় তিনি ছোটভাইয়ের কাছে এভাবেই কাকুতি মিনতি করছিলেন। এসময় হামলাকারী ছোটভাই জবাব দেয় ‘তোকে মারতেই তো এসেছি।’ এভাবে হত্যার উদ্দেশে হামলা চালানো হয় শাবি ছাত্র রাজীবের ওপর। তাকে বেশ কয়েকজন মিলে কোপানোর পর মাথা থেঁতলে দেয়া হয়েছে। এক পর্যায়ে মৃত ভেবে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

জানা গেছে, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাথা-পিঠ ও হাতে ৭০টির মতো সেলাই নিয়ে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছেন রাজীব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক। শনিবার প্রধান ফটকে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপায় ক্ষমতাসীন দল ছাত্রলীগের প্রতিপক্ষ গ্রুপের নেতাকর্মীরা। হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে এ নিয়ে রোববার ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।

রাজীব সরকার নিজের ওপর হামলার বিবরণ দিয়ে দোষীদের শাস্তি চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন। এতে তিনি অভিযোগ করেন, শনিবার টিউশনির উদ্দেশে হল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় গেটে যান রাজীব সরকার। মোবাইলে রিচার্জ করে গেটের বিপরীত দিকে ঈমানিয়া ভ্যারাইটিজ স্টোরের সামনে দাঁড়ালে তিনটি মোটরবাইক গেট থেকে বের হয়ে সোজা তার সামনে এসে থামে। তিনটি মোটরসাইকেলে মোট নয় আরোহী ছিল। আরোহীরা মোটরসাইকেল থেকে নেমে এলোপাতাড়ি রাজীবের ওপর হামলা করে। প্রথমে মুজাহিদুল ইসলাম রিশাদ (ইংরেজি বিভাগ, ২০১৬-১৭) তার পিঠে দা দিয়ে কোপ দেয়। এরপর আইপিই বিভাগের শোভন, আমিনুল ইসলাম (সমুদ্র বিজ্ঞান, ২০১৬-১৭), আবদুল বারী সজীব (লোকপ্রশাসন ২০১৪-১৫) ও বাংলা বিভাগের কাওসার আহমেদ সোহাগ এলোপাতাড়ি তার গায়ে, হাতে, পায়ে ও পিঠে রড দিয়ে মারতে থাকে। উপায়ান্তর না দেখে ঈমানিয়া ভেরাইটিজ স্টোর ও জননী এন্টারপ্রাইজের মধ্যবর্তী ফাঁকে ঢুকে আটকা পড়েন রাজীব। তখন লোক প্রশাসন বিভাগের সুমন মিয়া ও সুজন বৈষ্ণব রাজীবের মাথায় দা দিয়ে কোপায়।

রাজীব অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করেন, সে সময় আমি তাদের অনুরোধ করলে তারা আরও হিংস্র হয়ে ওঠে। সুমনকে আমি বন্ধু বলে অনুরোধ করলে সে আরও আঘাত করতে থাকে। এরপর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ইফতেখার আহমেদ রানা ও অজ্ঞাতনামা একজন লাঠি দিয়ে সজোরে আমার গায়ে গুঁতো দিতে থাকে। আমি হাত দিয়ে ফেরানোর চেষ্টা ব্যর্থ হই। আমাকে ফেলে রানা ও সে অন্যদিকে চলে গেলে ভাবি তারা চলে গেছে। আমি একটু বের হয়ে আসলে রিশাদ পুনরায় আমাকে মারতে আসে। আমি তখন রিশাদকে বলি যে, ‘আমি তোর বড় ভাই। আমাকে আর মারিস না। আমি তো মরে যাব।’ তখন উত্তরে সে বলে, ‘তোকে মারতেই তো এসেছি।’ রিশাদ তখন রড দিয়ে ১২-১৪টি আঘাত করে। আমি উপুড় হয়ে পড়ে গেলে তারা আমাকে মৃত ভেবে ফেলে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর আমি বের হয়ে ঈমানিয়া স্টোরের সামনে এসে পড়ে যাই। সেখানে অনেকক্ষণ পড়ে থাকার পর আশপাশের মানুষজনের সহায়তায় আমি হাসপাতালে পৌঁছাই। জানা যায়, এরা সবাই শাবি ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেনের অনুসারী।

ঢাকা, ২৫ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।