যেভাবে টাকার পাহাড় গড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র


Published: 2018-11-07 13:18:20 BdST, Updated: 2018-11-14 11:17:21 BdST

চবি লাইভ : আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের রবিউল নামে এক ছাত্রের কোটিপতি হওয়ার গল্প শুনেছি। তিনি কোটিপতি হয়েছেন ইয়াবা বিক্রি করে। আর এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক ছাত্রের বিপুল বিত্ত বৈভবের মালিক হয়ে যাওয়ার গল্প শুনবো। তবে তিনি ইয়াবা বিক্রি করে নয়। বিপুল টাকার মালিক হয়েছেন অন্য উপায়ে। এই ছাত্রটিও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আনোয়ার হোসেন নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের ওই ছাত্রের বাড়ি চট্টগ্রামে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে তার কানাকড়িও ছিল না। তবে এখন তিনি বিপুল বিত্ত বৈভবের মালিক হয়ে গেছেন। চট্টগ্রাম শহরে গড়েছেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তার লাইফ স্টাইলটাই এখন বদলে গেছে। কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বিন্দাপাড়ার সোলতান আহমেদের এই ছেলেটির এভাবে বদলে যাওয়ার রহস্য উন্মোচন হয়েছে। তিনি কিভাবে এতো টাকার মালিক হয়েছেন তা খুঁজে পেয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

চট্টগ্রাম বিশইবদ্যালয়ের এই ছাত্রকে সোমবার (০৫ নভেম্বর) কলা ভবনের সামনে থেকে আটক করা হয়। চবির ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে গত ২৮ অক্টোবর জামশেদুল কবির নামে বাংলা বিভাগের সাবেক এক ছাত্র আটক হন। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনোয়ারকে আটক করা হয়। পরে তাকে হাটহাজারী মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নিয়াজ মোরশেদ রিপন।

আনোয়ার জিজ্ঞাসাবাদে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি বিপুল টাকার মালিক হয়েছেন। শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতি এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত তিনি। এভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকার পাহাড় বানিয়েছেন তিনি। চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজারে কুতুবদিয়া কম্পিউটার ও সোনার তরী ট্যুরিজম নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক এই আনোয়ার। এই প্রতিষ্ঠান দুটির অন্তরালে আনোয়ার পরীক্ষা জালিয়াতি কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন।

পাশাপাশি ১৫ লাখ টাকা দিয়ে নিজের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়েতে একটা চাকরি ঠিক করে রেখেছে। তার এসব জালিয়াতির সঙ্গে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক জড়িত।

গত ২৮ অক্টোবর রোববার বিকেলের শিফটে সম্মিলিত ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষা চলাকালীন ড. ইউনূস ভবনের ১০৯ নং কক্ষ থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জামশেদকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক এই শিক্ষার্থী তৌহিদুল হাসান পিয়ালের (ভর্তি পরীক্ষার রোল-৫২২৭৮৯) অ্যাডমিট, রেজিস্ট্রেশন কার্ড নিয়ে পরীক্ষা দিতে আসেন। তখন তাকে আটক করা হয়।

প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বলেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেব। প্রক্সির ব্যাপারে জিরো টলারেন্সে আছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ঢাকা, ০৬ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।