মধ্যরাতে শাবি ছাত্রীকে হলের ওয়াশরুমে আটকে চুরি!


Published: 2018-09-20 12:45:58 BdST, Updated: 2018-10-16 01:49:22 BdST

শাবি লাইভ: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে দু:সাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। হলে ছাত্রীরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ওই চুরির ঘটনা ঘটে। এর আগে চোরের দল জানালার গ্রিল কেটে হলে প্রবেশ করে।

এসময় এক ছাত্রী তারে দেখে ফেলায় তাকে ওয়াশরুমে আটকে দেয়া হয়। পরে মোবাইল চুরি করে নিয়ে যায় চোরের ল। এসময় মশারির ভেতর হাত দিয়ে মোবাইল চুরি করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ওই ছাত্রী জেগে উঠে।

আটমাসের ব্যবধানে ছাত্রী হলে আবারো এমন দু:সাহসী চুরির ঘটনায় ছাত্রীরে মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিজের হলে রাতের বেলাও শান্তিতে ঘুম নিয়ে ছাত্রীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ অবস্থায় নিজেদের নিরাপত্তাসহ সাতদফা দাবি বেঁধে দিয়েছে শাবির আবাসিক হলের ছাত্রীরা। ওই সাতফাকে আমলে নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাবি ভিসি প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

গত বৃহস্পতিবার ভোরে প্রথম ছাত্রী হলে চুরির ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করে আবাসিক ছাত্রী হলে। এর আগে গত ২০ জানুয়ারী বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলে চুরির ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে হলের রান্না ঘরের গ্রিল কেটে কয়েকজন চোর ভেতরে প্রবেশ করে। বৃহস্পতিবার ভোরে ১৩১ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্রী মেহের ওয়াশরুমে গেলে চোর রুমের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়।

পরে ওই ছাত্রীর কক্ষ থেকে মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয় চোর। একই কক্ষে আরেক ছাত্রীর মশারীর ভেতরে হাত ঢুকিয়ে মোবাইল ফোন নিতে গেলে ছাত্রীর ঘুম ভাঙে। পরে তার চিৎকারে চোরেরা জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়। হলের ১২৯ ও ১৩০ নম্বর রুমের জানালার গ্রিলও কাটার চেষ্টা করেছিলেন চোরের দল।

ছাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুটি হলে ধারাবাহিকভাবে চুরির ঘটনায় আমরা আতংকের মাঝে আছি। আমারে ভাগ্যে খারাপ কিছু হতে পারতো।

হল প্রভোস্ট প্রফেসর আমিনা পারভীন বলেন, ছাত্রীদের নিরাপত্তার আমরা কাজ করছি। চোরদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রীদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

ছাত্রীদের সাত দফা দাবিগুলো হচ্ছে, হলের পার্শ্ববর্তী দুইটি টিলায় পুলিশ চেক পোস্ট স্থাপন, সিকিউরিটি অফিসারের পত্যাগ ও কক্ষ অফিসার নিয়োগ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পর্যাপ্ত নাইটগার্ড নিয়োগ, চোররে চক্র সনাক্ত করে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা, কাটাতারের বেড়ার উচ্চতা বৃদ্ধি করা, কার্যকর সিসিটিভি ক্যামেরার সংখ্যা বৃদ্ধি করা, জরুরী কল বা বেল সিস্টেম চালু করার দাবি জানান ছাত্রীরা।

এদিকে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভিসি প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। কমিটির সদস্যরা হলেন স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড মিনারেল সায়েন্সের ডীন প্রফেসর ড. এজেডএম মঞ্জুর রশিদ, প্রথম ছাত্রী হলের প্রভোস্ট প্রফেসর আমিনা পারভীন ও প্রক্টর জহির উদ্দিন আহমেদ।

 

ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।