নোবিপ্রবির ক্যাম্পাস গবাদিপশুর অবাধ চারণক্ষেত্র


Published: 2018-09-19 18:10:57 BdST, Updated: 2018-12-11 13:22:36 BdST

নোবিপ্রবি লাইভ: গরু-ছাগলের অবাধ চারণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেখা গেলেও মেলেনি তার কোন প্রয়োগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রায়ই দেখা যাই যত্রতত্র গবাদিপশুর অবাদ বিচরণ। ক্যামেরায় দেখা যাচ্ছে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য্য বর্ধণের জন্য লাগানো গাছপালা খাওয়ার দৃশ্য।

প্রায়শই বিশ্ববিদ্যালয় গোলচত্বরে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কর্যের বাউন্ডারির ভেতর নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে গরু-ছাগলের চলাচল এবং সেখানে থাকা গাছপালা খাবার দৃশ্য দেখা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এ বাউন্ডারির ভিতর এসব গরু-ছাগলগুলো এলো কোথা থেকে। ক‌ে এদের মালিক।

এ দৃশ্য শুধু যে গোলচত্বরের, তা নয়। ক্যাম্পাসের চলাচলের রাস্তায়, অডিটোরিয়ামের চারপাশে, মাঠে, ধানক্ষেতে, হলের আশে-পাশে, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ডর্মেটরি সবখানেই একই দৃশ্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, "প্রায় প্রতি বছরই বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ভর্তি পরীক্ষার আগে একটা বড় অংকের টাকার গাছপালা লাগানো হয়। কিন্তু এ সকল গবাদিপশুর অবাদ বিচরণের ফলে তা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।"

নোবিপ্রবিতে কর্মরত কয়েকজন আনসার ও মালিদের সাথে কথা হলে তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর ঘুরাঘুরি করা এ গরু গুলো নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান এর বাংলোর। তবে ভিসির বাংলোর গরুর সংখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে কেউই এর সঠিক সংখ্যা জানাতে পারেনি। কেউ বলে ৬ টা, কেউবা ৯। কেউ আবার বলেন ৩টা।

ভিসি প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান জানান, "আমার কিছু গরু আছে, তবে সেগুলো সব সময়ই বাধা থাকে। এগুলো কারো কোন ক্ষতি করে না। তবে বাহিরের থেকে কিছু গরু-ছাগল ক্যাম্পাসের ভিতরে আসে। সে ব্যাপারে আমরা আরও কঠোর হব।"

তবে বিশেষ সূত্রে জানা যায়, ভিসির অজান্তেই তার নাম ব্যবহার করে কিছু নিম্নশ্রেনির কর্মচারী অনৈতিক উপায় টাকা উপার্জন করছে। তারা বাহির হতে আগত গরুগুলোকে ভিসির গরু বলে চালিয়ে দিচ্ছে এবং সে সকল গরুর মালিক থেকে দেখভাল বাবদ চাঁদা গ্রহণ করছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার প্রফেসর মোমিনুল হকের সাথে আলাপ হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি। কে কারা এর সাথে জড়িত তা নিয়ে তিনি ভিসির সাথে কথা বলবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেট এন্ড হাউজিং শাখায় খোঁজ নিলে সেকশন অফিসার আব্দুল হামিদ জানান, অবাধে ঘুরাঘুরি করা এ গরুগুলো বেশির ভাগই বাহিরে থেকে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংলগ্ন পকেট গেইট ব্যবহার করে এগুলো ভিতরে প্রবেশ করছে। স্টেট শাখার পক্ষ থেকে ঐ গেটে একজন আনসার নিযুক্ত করার জন্য ঊর্ধতন প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তারা।

এ বিষয় জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, "ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় গোবর পড়ে থাকে। এসব দেখেও প্রশাসন নিরব। প্রশ্ন হচ্ছে এসব বিষয়ে প্রশাসনের টনক কবে নড়বে। ক্যাম্পাস আমাদের। তাকে সুন্দর এবং পরিষ্কার রাখার দায়িত্বটা যেমন আমাদের তেমনি প্রশাসনের ও এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।"

 

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।