ঢাবিতে এশার কক্ষে সেদিন যা ঘটেছিল!


Published: 2018-04-13 00:09:18 BdST, Updated: 2018-09-26 13:39:23 BdST

ঢাবি লাইভ : কোটা সংস্কারের আন্দোলনে অংশ নেয়ায় কবি সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইফফাত জাহান এশার বিরুদ্ধে নির্যাতনের নানা অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে এশা তিন ছাত্রীকে নিজ কক্ষে (৩০৭) ডেকে নিয়ে নির্যাতন করেন। এনিয়ে সেদিনের সেই নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এশাকে জুতার মালা পরিয়ে দেন। ওই ভিডিও ফেইসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ছাত্রী জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে এশা হলের তিন ছাত্রীকে একটি কক্ষে ডেকে নির্যাতন করেন। নির্যাতনের শিকার ছাত্রীদের চিৎকার শুনে সেখানে যান উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী মোর্শেদা আক্তার। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মোর্শেদার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। একপর্যায়ে তার পায়ের রগ কেটে যায়।
অভিযোগ উঠেছে ওই ছাত্রীর পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়েছে। যদিও এশার দাবি ওই ছাত্রী রাগের বশে কক্ষের জানালার কাচে লাথি মারলে তার পা কেটে যায়। এসময় চিৎকার আর হট্টগোলের একপর্যায়ে হলের অন্য ছাত্রীরা সেখানে যান। চিৎকারের কারণ জানতে চাইলে বলা হয় তেলাপোকা দেখে ছাত্রীরা চিৎকার করছে। এসময় হলের বিভিন্ন স্থানে রক্তের ছোপ ছোপ রক্ত দেখে ছাত্রীদের সন্দেহ হয়। তারা উত্তেজিত হয়ে উঠেন। ছোপ ছোপ রক্তের ওই ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে অন্য হলের শিক্ষার্থীরাও সুফিয়া কামাল হলের সামনে এসে জড়ো হন। সাধারণ ছাত্রীরা হলটির মাঠে অবস্থান নিয়ে এশাকে বহিষ্কারের দাবি করেন। নিশ্চয়তা চান নিরাপদভাবে হলে অবস্থানের।

এসময় ‘নির্যাতনকারীর কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘মরতে নয়, পড়তে চাই’, ‘বোনের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’- স্লোগান দিতে থাকে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা। ছাত্রলীগের বাধা উপেক্ষা করে ছেলেদের হল থেকে মিছিল নিয়ে কবি সুফিয়া কামাল হলের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে ৪-৫ হাজার শিক্ষার্থী। এসময় তারা এশাকে বহিষ্কারের দাবি করেন। এক পর্যায়ে এশাকে হল ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কার করা হয় ছাত্রলীগ থেকেও।

বহিষ্কারের আগে এশাকে জুতার মালা পরিয়ে হলচ্যুত করে সাধারণ ছাত্রীরা। বিক্ষুব্ধ ছাত্রীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের হল শাখা সভাপতি এশা আগেও সাধারণ ছাত্রীদের নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে মারধর করতেন। তবে এতদিন ভয়ে কেউ মুখ খুলেনি। এবার তারা মুখ খুলেছে বলেই এই ঘটনার বিচার হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘ছাত্রী মারধরের অভিযোগে ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানসহ সিনিয়র শিক্ষকরা বসে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

ঢাকা, ১২ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।