শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিংয়ের আরও তথ্য ফাঁস!


Published: 2018-02-19 02:58:30 BdST, Updated: 2018-10-20 10:59:23 BdST

শাবি লাইভ : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিংয়ে আরও তথ্য ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। র‌্যাগিংয়ে শিকার হওয়া শিক্ষার্থীরা ভয়ে তাদের ঘটনা প্রকাশ না করলেও তাদের বড়ভাই ও পরিবারের কাছে তা প্রকাশ করছেন। আর এসব বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে স্ট্যাটাস দেয়া হচ্ছে। এসব স্ট্যাটাসে র‌্যাগিংয়ের নামে নির্যাতন ও নির্মমতার বিষয়টি প্রকাশ পাচ্ছে। সাস্টিয়ানদের অভিমত র‌্যাগিংয়ের নামে নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আরো কঠোর হতে হবে।

শাবির এক শিক্ষার্থী আমরা সাস্টিয়ান নামে একটি গ্রুপে লিখেছেন, আমার এক কলেজ ফ্রেন্ডের ছোটভাই এবার সাস্টে ভর্তি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সিলেটে আমি তার গার্ডিয়ান যেহেতু তার পরিচিত আর কেউ নেই। গতকাল সে আমাকে ফোন দিয়ে বললো তার বড় ভাইয়েরা মেসে ডাকছে, আমি আড্ডায় ব্যস্ত ছিলাম আমিও বললাম যাও কিছু হবেনা। কারণ আমার এতটুকু বিশ্বাস ছিল সাস্টে এখনো পশু লেভেলের র‌্যাগিং কেউ করেনা।

আমার ধারণা ভুল ছিল, তাকে অমানবিকভাবে র‌্যাগিং করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা র‌্যাগিং শেষে একটা সমাপ্তি দেয়া হয় সেটাও দেয়া হয়নি। তার মানে কী এটা আমি র‌্যাগিং ধরে নেব না অন্যকিছু? ছোট ভাইয়ের ঘটনার পর থেকে তাকে অনেক বোঝালাম। সে এখন স্বাভাবিক। আর কোন বড় ভাই রাতে তাকে ফোন দিলে প্রক্টোরিয়াল বডির সাহায্য নিতে বলে দিয়েছি। প্রক্টর জহির স্যার আর সহকারি প্রক্টর পহিল স্যারের নম্বর আপাতত দিয়ে দিয়েছি।
আজকে বিভিন্ন নিউজ পোর্টালে দেখলাম আরও ভয়াবহ অবস্থা। কোন এক জুনিয়রকে র‌্যাগিংয়ের সময় নগ্ন করে সেই ছবি আবার ফেইসবুকে ভাইরাল করে দিয়েছে কিছু অমানুষ। আমার মনে হয় আইসিটি আইনে মামলা করা উচিত এইসব (?) নামে। সত্যি বলতে এই (?) গুলোকেই আবার র‌্যাগিং করা দরকার ঠিক ইন্ডিয়ান মুভি Table no 21 এর মতো।

শাবির আরেক শিক্ষার্থী, আমরা সাস্টিয়ান গ্রুপে লিখেছেন, আমার গ্রামেরই একটা ছেলে সাস্টে চান্স পেয়ে আমার মাধ্যমেই হলে উঠেছে। তো গত কয়েকদিনের র‌্যাগিংয়ে এখন তার ভার্সিটি ছেড়ে দেয়ার উপক্রম হয়েছে। এমনকি ভার্সিটি ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে সে তার বাসায় আলাপও করেছে। তো আজ যখন তার অভিভাবক আমাকে জিজ্ঞেস করল যে, "তোদেরকে কি ভার্সিটির ছাত্র বলা যায়? যারা একটা ছেলেকে দিয়ে নেগেটিভ কার্যকলাপ করায়, উলঙ্গ করিয়ে নাচায়, সারা রাত ধরে রুমে আটকে র‌্যাগিং করে। এখন যদি বড়ভাইদের নির্যতনে ও ভার্সিটি ছেড়ে দেয় তাহলে এতো কষ্ট করে এখানে চান্স পাওয়ার কী আবশ্যকতা ছিল?"
সত্যিই তখন আমার বলার মতো কিচ্ছু ছিল না। মাথা হেট হয়ে যায় আমার।

আমার মনে হয় সামান্য একটু র‌্যাগিংয়ে জন্যে শাবিপ্রবি সম্পর্কে বাইরের মানুষের কাছে বাজে ধারনা জন্মানোর কোন মানেই হয় না আমাদের। তাই কোন আইন করে নয়, চলুন আমরা নিজেরাই র‌্যাগিং থেকে সরে আসি। তাহলে এমনিতেই বিষটার একটা সুন্দর সমাধান বেরিয়ে আসবে।

আমরা সবাই চাইলে এটা অবশ্যই সম্ভব। কারণ, সাস্টিয়ানরা সবই পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাবিতে এবার ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ র‌্যাগিংয়ের শিকার হচ্ছেন। এদের কাউকে কাউকে র‌্যাগিংয়ের নামে নির্যাতন করা হলেও ভয়ে তারা মুখ খুলছে না। তবে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে র‌্যাগিংয়ের তথ্য ফাঁস হয়ে যাচ্ছে।

ঢাকা, ১৯ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।