‘বয়ফ্রেন্ড’ ছেড়ে শাবি ছাত্রের সঙ্গে প্রেম, ভর্তি জালিয়াতি ফাঁস!


Published: 2018-01-18 12:50:55 BdST, Updated: 2018-02-24 16:18:09 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতির তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে প্রেম সংক্রান্ত জটিলতায়। জাবিতে ভর্তির প্রলোভনে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এনিয়ে মনোমালিন্যর পর ওই ছাত্রী শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। সম্পর্কের দোলাচলে একে অপরের তথ্য ফাঁস করে দিয়ে কথিত প্রেমিক যুগল তাদের ছাত্রত্ব হারিয়েছেন। এদের মধ্যে একজনকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হলেও অন্যজনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাবিতে ভর্তির সুযোগ করে দেয়ার নাম করে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আল আমিন তাকিয়া নামে এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তাকিয়া জাবিতে অপেক্ষমান তালিকায় ছিলেন। পরে তাকে জাবিতে ভর্তির সুযোগ করে দেয়ার কথা বলে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন আল আমিন। এর মধ্যে ২০ হাজার টাকা ওই ছাত্রকে বিকাশের মাধ্যমে দেয়া হয়। বাকি টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর দেবেন বলে অঙ্গীকার করেন।

এদিকে জাবি ছাত্র আলআমিন জালিয়াতির মাধ্যমে ওই ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে ভর্তির সুযোগ করে দেন। অন্য একজনের আইডি ব্যবহার করে ওই ছাত্রী জাবিতে দীর্ঘ একবছর ক্লাসও করেছেন। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে ওই বিভাগের প্রধান ত্বাকিয়ার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানান। পরে ত্বাকিয়াকে আটক করা হলে মঙ্গলবার তিনি জালিয়াতির বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে তাকে মুচলেকা দিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়।

এসময় ওই ছাত্রী জানান, জাবির আল আমিন নামে এক ছাত্র তাকে অর্থের বিনিময়ে ভর্তির সুযোগ করে দিয়েছেন। ওই ছাত্রের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বলেও তিনি প্রশাসনের কাছে স্বীকার করেন। একপর্যায়ে তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। তার পরেও ওই ছাত্র তাকে ব্ল্যাকমেইল করছিলেন বলে তাকিয়া জানিয়েছে। তাকিয়া জানান, ফেইক আইডির মাধ্যমে আল আমিনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছে। তার সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে ওই ছাত্র ইতিমধ্যে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এদিকে তাকিয়ার কথার সূত্র ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে ওই জাবি ছাত্র আল আমিনের প্রতারণা ও ভর্তি জালিয়াতির বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া যায়। তাই তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মামলারও প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

এদিকে আল আমিন জানান, ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার বেশিদিনের সম্পর্ক ছিল না। সম্প্রতি ওই ছাত্রীর সঙ্গে শাবির এক ছাত্রের সম্পর্ক হয়েছে। এবিষয়ে তার সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় তাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে ওই ছাত্রী। তিনি ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত নন বলেও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

জাবি রেজিস্টার আবু বকর সিদ্দিক জানান, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ছাত্রীকে ভর্তি চেষ্টার অভিযোগে ওই ছাত্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া পরিচয় গোপন করে ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের নামে প্রতারণা ও ভর্তি করিয়ে দেয়ার ঘটনায় মামলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অধিকতর তদন্তের জন্য প্রফেসর রাশেদা আক্তারকে প্রধান করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে ৩ সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে সেই ছাত্রী ত্বাকিয়াকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে এক বছর ক্লাস করার পর বিভাগীয় সভাপতির সন্দেহের পরিপেক্ষিতে মঙ্গলবার প্রক্টর অফিসে জিজ্ঞাসাবাদে ত্বাকিয়ার জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। ত্বাকিয়া স্বীকারোক্তি দেন, আল-আমিন তার কাছ থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তি বাবদ ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করে ও বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা নেন। এমন স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আল আমিনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ঢাকা, ১৮ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।