‘অামি আমার অপরাধ স্বীকার করে নিচ্ছি’


Published: 2018-01-17 00:59:09 BdST, Updated: 2018-08-16 11:52:24 BdST

জাবি লাইভ : ‘আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নই। কিন্তু আমি ভর্তি জালিয়াতির শিকার। আমি আমার অপরাধ স্বীকার করে নিচ্ছি। সাহেদ ইসলাম ওরফে আল আমিন নামের এক শিক্ষার্থী ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে জালিয়াতির মাধ্যমে আমাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন।’ এভাবেই জাবিতে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার কথা স্বীকার করলেন এক ছাত্রী। জালিয়াতি ধরা পড়ে যাওয়ায় তিনি অনুতপ্ত হয়েছেন। ভবিষ্যতে তিনি আর কখনও এমন কাজ করবেন না এমন শর্তে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এর আগে জাবিতে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হয়ে দীর্ঘ এক বছর ক্লাস করেছেন তিনি। বিষয়টি কেউ টের পায়নি। সম্প্রতি তিনি প্রথম বর্ষের ফরম পূরণ করতে গেলে শিক্ষকদের বিষয়টি সন্দেহ হয়। পরে তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানালে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। জানা গেল মাত্র ২০ হাজার টাকার চুক্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বড় ভাই তাকে জাবিতে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তির সুযোগ করে দিয়েছেন। এর পর দিব্যি তিনি একবছর ক্লাস করে গেছেন। অবশেষে ধরা খেয়ে মুচলেকায় ছাড়া পেয়েছেন ওই ছাত্রী।

এদিকে জালিয়াতি করে ভর্তির পর ধরা খাওয়া ওই ছাত্রীকে ছেড়ে দেয়ায় এনিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এভাবে অপরাধীকে শুধুমাত্র মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়ায় জালিয়াতকারীরা উৎসাহিত হতে পারে। জাবিতে জালিয়াতির মাধ্যমে যারা চান্স পেয়েছে তারা বিষয়টিকে হালকাভাবে নিতে পারে। সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে জালিয়াতিতে ধরা পড়লে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। আর জাবিতে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। শাস্তির আওতায় না এনে এভাবে অপরাধীকে ছেড়ে দিয়ে জাবিতে জালিয়াতি ঠেকানো সম্ভব নয়।

জানা গেছে, জাহাঙ্গীরনরগ বিশ্ববিদ্যালয়ে মোফসেনা ত্বাকিয়া নামের এক শিক্ষার্থী জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হয়ে ১ বছর ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। ওই ছাত্রী শেরপুর জেলার নালিতা বাড়ির মোস্তাফা আহম্মেদের মেয়ে। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনরগ বিশ্ববিদ্যালয়ে সি ইউনিটে (কলা ও মানবিক অনুষদ) মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তি হয়েছেন তিনি। তিনি জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে রোল নং ২২৩৮ বলে পরিচয় দিতেন। তবে এটি ইনস্টিটিউট অব বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের এক শিক্ষার্থীর আইডি বলে জানা গেছে।

প্রক্টর অফিসে স্বীকারোক্তিতে ত্বাকিয়া উল্লেখ করেন, আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নই। কিন্তু আমি ভর্তি জালিয়াতির শিকার। আমি আমার অপরাধ স্বীকার করে নিচ্ছি। সাহেদ ইসলাম ওরফে আল আমিন নামের এক শিক্ষার্থী ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে জালিয়াতির মাধ্যমে আমাকে ভর্তি করিয়ে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, বিভাগীয় সভাপতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা তদন্ত করে জালিয়াতির সত্যতা পেয়েছি। ত্বাকিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেনি। তাকে শাস্তি না দিয়ে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিভাগীয় সভাপতি উজ্জ্বল কুমার মন্ডল বলেন, ক্লাসে ত্বাকিয়ার কোন সঠিক রোল নম্বর ছিল না। কিন্তু সে অনুশীলনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। সর্বশেষ ১ম বর্ষের ফরম পূরণ করতে গেলে তার জালিয়াতির বিষয়ে আমাদের সন্দেহ হয় এবং প্রক্টর অফিসকে অবহিত করি।

ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।