সেই রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেনের কুকাম...গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে একি করলেন রেজিস্ট্রার!


Published: 2021-02-19 17:05:58 BdST, Updated: 2021-03-06 02:27:21 BdST

গবি লাইভ: বেসরকারী গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে একি করলেন রেজিস্ট্রার! তিনি কেন এসব করলেন, তার পিছনে কার ইন্ধন রয়েছে, এর খেশারত কেনইবা দেবেন শিক্ষার্থীরা এনিয়ে চলছে নানান আলোচনা ও সমালোচনা। এখন ওই রেজিষ্ট্রার আর চাকুরিতে নেই।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) সাবেক রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেনের গত বছরের জুনে দেয়া জরিমানা সংক্রান্ত এক মৌখিক আদেশের বাস্তবায়ন না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিষয়টি সাংবাদিকদের অবগত করেছেন। বলেছেন এর সুরাহা কিভাবে হবে।

সংশ্লিস্টরা জানায়, গত বছরের ১ জুলাই অনলাইনে শুরু হওয়া সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার এক সপ্তাহ পূর্বে ২৪ জুন সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয় প্রশাসন। বকেয়া পরিশোধ না করলে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না মর্মে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এর দুদিন পর ২৭ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের সাথে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, ছাত্র সংসদ, সাংবাদিক সমিতি, ছাত্র পরিষদসহ অন্যান্যরা আলোচনায় বসে। তখন রেজিস্ট্রার জানান, বকেয়ার ৫০% পরিশোধ করে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। আর ১০ জুলাইয়ের মধ্যে যারা বকেয়া পরিশোধ করবে তাদের জরিমানা দিতে হবে না।

তিনি আরো জানান, একই সাথে যারা ইতোমধ্যে পাঁচ হাজার জরিমানাসহ বকেয়া পরিশোধ করেছেন, তাদের জরিমানার টাকা পরবর্তী সেমিস্টারে যুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি। রেজিস্ট্রারের এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে তখন একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।

তবে সাত মাস পেরিয়ে গেলেও তৎকালীন রেজিস্ট্রারের এই ঘোষণার বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের। তারা বলেন, আমরা ২৭ জুন তারিখে দেয়া ওই ঘোষণার আগেই জরিমানাসহ টাকা পরিশোধ করেছি।

কিন্তু জরিমানার পাঁচ হাজার টাকা পরের সেমিস্টারে যুক্ত করা হয়নি। ফলে তারা পরীক্ষার ফল দেখা এবং পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাসে অংশগ্রহণ করা নিয়ে সমস্যায় আছেন বলে জানান শিক্ষাথীরা।

শিক্ষার্থীরা জরিমানাসহ বকেয়া পরিশোধ করেন গত বছরের ২২ জুন। ঘোষণা অনুযায়ী, তাদের সকলেরই জরিমানার টাকা পরের সেমিস্টারে যুক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু সর্বশেষ ২৭ জানুয়ারি প্রকাশিত বকেয়া তালিকায় তাদের সকলেরই পাঁচ হাজার টাকা বাকি দেখানো হয়েছে।

গবির হিসাব ও অর্থ বিভাগের পরিচালক মো. আব্দুল কাদের এ বিষয়ে জানান, লিখিত না পেলে মৌখিক আদেশে তো আমরা কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারি না। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তৎকালীন সময়ে রেজিস্ট্রারের মুখের কথাতেই অনেক কিছু বাস্তবায়ন হতো। লিখিত নোটিশ তিনি কমই দিতেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ছাত্রীর সাথে অশ্লীল ফোনালাপ ফাঁসের পর ১২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেনকে অব্যাহতি দেয় ট্রাস্টি বোর্ড। এখন তিনি অন্যত্র কাজ করছেন।

ঢাকা, ১৯ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।