নির্বাচনের পরেও কি রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া হবে?


Published: 2020-11-10 18:22:06 BdST, Updated: 2021-01-22 10:11:24 BdST

এনএসইউ লাইভঃ নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি এর সাউথ এশিয়ান ইন্সটিটিউট অফ পলিসি এন্ড গভর্নেন্স (এসআইপিজি) এর অধীনস্থ সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ (সিপিএস) এর উদ্যোগে ১০ নভেম্বর “মায়ানমারের নির্বাচন ২০২০ এবং রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে এর প্রভাব” শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ১১ টায় জুম এ শুরু হওয়া এ ওয়েবিনারে বাংলাদেশ, ভারত, ও কানাডা থেকে অংশ নেয়া বক্তারা সদ্য অনুষ্ঠিত মায়ানমারের নির্বাচন ও এর সম্ভাব্য পরবর্তী অবস্থা রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কী ভূমিকা রাখবে, তা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেন।

চার দশকেরও বেশি সময় যাবৎ রাষ্ট্রহীন অবস্থায় বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বিষয়টি গভীরভাবে বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করে ২০১৬-২০১৭ সালে বিরাট সংখ্যক রোহিঙ্গার মাতৃভূমি মায়ানমার ত্যাগের মাধ্যমে। গণহত্যা ও জাতিগোষ্ঠী নিধনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

সিপিএস এর সমন্বয়কারী ড. ইশরাত জাকিয়া সুলতানা স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে ওয়েবিনারের সূচনা করেন। তিনি বলেন ২.৬ মিলিয়ন মানুষকে যে দেশে সরকারিভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখা হয়, সে দেশের নির্বাচন পরবর্তী অবস্থা রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আদৌ আগ্রহ দেখাবে কিনা, তা সন্দেহের বিষয়।

ওয়েবিনারে ভারতের ও পি জিনদাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নেগিনপাও কিপগেন রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ভারত এর প্রত্যাশিত ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হবার প্রেক্ষাপটে বলেন ভারত নিজ দেশে অবস্থানরত প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনে ব্যার্থ হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা - এসব বিষয়ে অগ্রাধিকার দেবার কারণে ভারত সব সময়ই মায়ানমারের সমর্থক, পাশাপাশি ভারত ভূ-রাজনৈতিক সুবিধার জন্য মায়ানমারের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এর অবনতি করতে চায় না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এ.এস.এম. আলী আশরাফ বলেন, স্পষ্টতই এ নির্বাচন ছিল প্রহসনের নির্বাচন। মায়ানমারের নির্বাচনে চীনের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তিনি বলেন, চীনের সাথে মায়ানমারের দীর্ঘ সীমান্ত, বাণিজ্য সম্পর্ক, রাখাইনে অর্থনৈতিক এলাকা তৈরি এবং ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে চীন রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মায়ানমারের উপর তেমন প্রভাব রাখছে না।

রোহিঙ্গাদের উপর মায়ানমার নির্বাচনের প্রভাব বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে এসআইপিজির সিনিয়র ফেলো ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন যে, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি। মায়ানমারের অন্যান্য দলগুলোও তেমন কোন প্রভাব বিস্তার করতে না পারায় মায়ানমারের এবারের নির্বাচনের ফলাফল আগেই অনুমানযোগ্য ছিল।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এম. জসিম উদ্দিন রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মায়ামারের এই নির্বাচন তেমন কোন নতুন ভূমিকাই ফেলবে না বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, প্রত্যাবাসন কার্যকর না হবার জন্যে দায়ী পূর্বের অবস্থার কোনো পরিবর্তন এ নির্বাচনের ফলাফল বয়ে আনবে না।

অপরদিকে কানাডার কনফ্লিক্ট ও রেজিলিয়েন্স গবেষণা কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ড. কাউসার আহমেদ বলেন, মায়ানমারে প্রতি চীন ও ভারতের মৌন সম্মতি কোনভাবেই রোহিঙ্গা সংকট ঘিরে সৃষ্ট ভূ-রাজনীতির উন্নয়নে তেমন কিছু আশা করা খুবই কঠিন। আর মায়ানমারের সাথে ভারত, থাইল্যান্ড, জাপানের সম্পর্কের দিকে তাকালেও বুঝা যায় তাদের নানাবিধ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কারণে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বিশেষ কোনো অগ্রগতি হবে না। তাই মায়ানমারের উপর আন্তর্জাতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করা ব্যতিত এই সংকটের কোন সমাধান হবে না বলেও তিনি মনে করেন।

কানাডিয়ান রোহিঙ্গা ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ এর লিড স্ট্র্যাটেজি এবং ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর শিক্ষার্থী জেইভেত ইলোম বলেন, মায়ানমারের অন্যান্য সংখ্যালঘু মুসলমান জনগোষ্ঠীও রোহিঙ্গাদের মতই এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি যাদেরকে কৌশলে নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে।

ওয়েবিনার সঞ্চালনায় ছিলেন এসআইপিজির সিনিয়র ফেলো ও সাবেক রাষ্ট্রদূত শহীদুল হক। তিনি উল্লেখ করেন, মায়ানমারের নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ হয়েছে সে বিষয়ে একটি বিরাট প্রশ্ন রয়ে যায় যখন দেশের সব জাতিগোষ্ঠীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখা হয়। মায়ানমারে আসলেই গণতন্ত্র আছে কি না, প্রতিবেশী হিসেবে ভারত ও চীনের ব্যর্থতা এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহলের নিরবতার প্রতিও তিনি মনোযোগ আকর্ষণ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি জটিল সমস্যা। এই সংকটের গুরুত্ব অনুধাবন করেও এর মোকবিলায় পুরো বিশ্ব যদি আমাদের সাহায্য না করে তাহলে আমাদের নিজেদেরই এর বিকল্প সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের সত্যিকার বন্ধু-রাষ্ট্রের সাথে আরো বলিষ্ঠ সমন্বয় চালিয়ে যেতে হবে এবং বাস্তবসম্মত কৌশল অবলম্বন করতে হবে।

ঢাকা, ১০ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।