ওসি এই মামলা নিয়ে লুকোচুরি খেলছে!নর্থ সাউথের কারা জড়িত চলছে নজরদারি, তরিকুল ফের রিমান্ডে


Published: 2020-05-13 22:41:41 BdST, Updated: 2020-05-25 13:36:07 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: তরিকুল ইসলাম মুমিন। আপতমস্তক একজন দুর্নীতিবাজ। প্রতারক। এর প্রমাণও আছে। নর্থ  সাউথের অনেকেই জানেন এ বিষয়টি। পুলিশের ভাষায় সে খুবই ধুর্ত ও চালাক প্রকৃতির লোক। হালে আলোচিত। সমালোচিত। তোলপাড় চলছে তার নানান কাহিনী, জাল-জালিয়াতি ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বাণিজ্য, প্রোভিসি নিয়োগ ও ট্রেজারার নিয়োগ নিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নথি বের করে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়ার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ব‌হিষ্কৃত সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম মুমিনের আবারো দু’‌দি‌নের রিমা‌ন্ড মঞ্জুর ক‌রে‌ছেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ঢাকার মে‌ট্রোপ‌লিটন ম‌্যা‌জি‌স্ট্রেট নিভানা খা‌য়ের জে‌সী এ রিমান্ড মঞ্জুর ক‌রেন। চারদি‌নের রিমান্ড শে‌ষে মু‌মিন‌কে বুধবার আদাল‌তে হাজির ক‌রে ফের পাঁচদি‌নের রিমান্ড আবেদন ক‌রেন তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার ওসি শামীম উর রশীদ। মুমিনের পক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত ৮ মে মুমিন ও তার তিন সহযোগীকে ৪দিন করে রিমান্ডের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। ইতোমধ্যে রিমান্ড চলাকালে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফরহাদ ও বিনিয়োগ বোর্ডের কর্মচারী নাজিম উদ্দিন দোষ স্বীকার করে আদাল‌তে জবানবন্দি দিয়েছেন। নাজিম উদ্দিনের নাম মামলার এজাহারে না থাকলেও তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে আসে।

তবে পুলিশ এই মামলা নিয়ে লুকোচুরি খেলছে। তেজগাওঁ থানার ওসি শামীম উর রশীদের সঙ্গে ক্যাম্পাসলাইভ থেকে যোগাযোগ করলে তিনি মিথ্যা তথ্য দেন। বলেন, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির জন্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আসলে তিনি রিমান্ডের আবেদন করেন। ডিসি তেজগাঁও এর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা বলতে পারবে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমাও গ্রেফতারের পর দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। বলেছেন মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ফাইলটি তরিকুলের লোকের কাছে সে দিয়েছিল। নিজের দোষের কথা স্বীকারও করেছে অবলিলায়। তারা তিনজনই বর্তমা‌নে কারাগারে আছেন।

প্রসঙ্গত, পুলিশের তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার রুবাইয়াত জামান বলেন, জালিয়াতির এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৭ মোহাম্মদ রফিকুল আলম বাদী হয়ে গত ৫ মে তরিকুল, অফিস সহকারী ফাতেমা ও ফরহাদ নামে একজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় তরিকুলকে ভোলা থেকে গ্রেফতর করা হয়।

মামলার বিবরণী‌তে জানা যায়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এনামুল হক, বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদের নাম প্রস্তাব করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নথি পাঠানো হয়। এ নথি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করার পর তিনি অধ্যাপক ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন।

পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নথিটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি পর্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমার কাছে এলে তিনি এম আবদুস সালাম আজাদ অনুমোদন পাননি বলে ফোনে তরিকুলকে জানিয়ে দেন।

এরপরই তরিকুলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নথিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কৌশলে বের করে ফরহাদ নামে একজনের হাতে তুলে দেন ফাতেমা। সেই নথিতে তরিকুল ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া টিক চিহ্নটি ‘টেম্পারিং’ করে সেখানে ক্রস চিহ্ন দেন। একইভাবে অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফের নামের পাশে ক্রস চিহ্ন দিয়ে এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন। প্রায় এক মাস আগে নথিটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এ নথি হস্তান্তরের আগে ফাতেমা ১০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে গ্রহণ করেন এবং হস্তান্তরের পরে আরেক দফায় ১০ হাজার টাকা তার ছেলের বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নেন বলে মামলায় বলা হয়।

জালিয়াতি করে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়া নথিতে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর এবং প্রজ্ঞাপন জারির পর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষের চেয়ারে দুই দিন বসেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর এম আব্দুস সামাদ আজাদ। জালিয়াতির ঘটনা ধরা পরে ওই প্রজ্ঞাপন বাতিলের পর তিনি আর সেখানে যাননি।

দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রে জানাগেছে তরিকুলের একটি বড় সিন্ডিকেট রয়েছে। এর সঙ্গে নথ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তা অনেক আগে থেকেই জড়িত। এরা একটা সিন্ডিকেট করে মোটা অংকের টাকা লুটে নিয়েছে কয়েক বছর ধরে। তরিকুলও সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শুনা করেছে। কিন্তু পাশ করতে পারেনি।

সূত্র আরো জানায়, তরিকুলের সঙ্গে একজন প্রভাবশালী ট্রাস্টি, সাবেক একজন প্রো-ভিসি, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন পরিচালক, বিওটির একজন কর্মকর্তা ও দুটি বিশেষ বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ২/৩ জনের ছিল সখ্যতা। তরিকুলের মোবাইল ফোন চেক করলেই সকল তথ্য বেরিয়ে আসবে। তারা কখন কোথায় পরিকল্পনা করেছিল, কারা কারা ওই জালিয়াতির ঘটনায় সরাসরি জড়িত সবই বেরিয়ে আসবে।

তবে ভিন্ন একটি সূত্র জানায়, বিষয়টি যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি জড়িত তাই আরো ২/১টি গোয়েন্দা সংস্থা এ নিয়ে তদন্তে মাঠে নেমেছে। জানাগেছে তরিকুল গ্রেফতারের পর ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শীর্ষকতা বিদেশে চলেগেছেন। বিষয়টি নিয়ে খোদ বিশ্ববিদ্যারয় ক্যাম্পাস ও একটি বিশেষ সংস্থার কাছে তথ্য আছে বলেও জানাগেছে।

ঢাকা, ১৩ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।