মালিকরা কোটি কোটি টাকা নিয়ে খুলে বসেছেন নতুন নতুন ব্যবসায়িক উইংবেতন পাচ্ছেন না ড্যাফোডিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা


Published: 2020-05-05 20:53:13 BdST, Updated: 2020-05-28 13:37:19 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: রাজধানীর বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছেন না বলে জানাগেছে। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালেয়ে বেতনের ৫০ শতাংশ কেটে বাকি অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। এনিয়ে শিক্ষক- কর্মকর্তািদের মাঝে ক্ষোভের সৃস্টি হয়েছে। তারা বলছেন শিক্ষার্থীদের দেয় অর্থ মালিক পক্ষ নিয়ে অন্য কাজ করছেন। নানান কায়দা কৌশলে কোটি কোটি টাকা নিয়ে খুলে বসেছেন নতুন নতুন ব্যবসায়িক উইং। তারা আরো জানান নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করলেই সব কিছু বেরিয়ে আসবে।

জানাগেছে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি, অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি , ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ, প্রাইম ইউনিভার্সিটি, ইর্স্টান ইউনিভার্সিটি, অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ও ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে সকলকে মার্চ মাসের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বেতন পরিশোধ করা হলেও এপ্রিল মাসের বেতন পরিশোধ করা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিস্টরা আরো জানান ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির মালিক পক্ষ বিভিন্ন ব্যবসায়িক নতুন নতুন শাখা প্রশাখা খুলে বসেছেন। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক বিদেশী শিক্ষার্থীও পড়া শুনা করেন। টাকার অভাব নেই তাদের।

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির স্টাফদের মার্চের বেতনের ৩০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছে টিউশন ফি, ভর্তি ফি ও পরীক্ষার ফি না পাওয়ায় বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী নবীকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় না হলে আমাদের কিছু করার ক্ষমতা নেই। এ কারণে শিক্ষক ও স্টাফদের পুরো বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বাবদ আমাদের মাসিক সাড়ে ৩ কোটি টাকা প্রয়োজন হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীদের কাছে টাকা না পেলে কারও বেতন নিয়মিত পরিশোধ করা সম্ভব হবে।

তবে আশার দিক হচ্ছে দেশের শীর্ষমানের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নিয়মিত তাদের স্টাফদের বেতন পরিশোধ করছেন। তার মধ্যে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি রয়েছে।

সারাদেশে ১০৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোর্সে সাড়ে তিন লাখের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষক ও ১৩ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা উপার্জন হলেও ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা। তাছাড়া হিডেন অনেক টাকাও আয় হয় তাদের।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ কবির বলেন, বর্তমান সংকটের মধ্যে আমাদের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সকল স্টাফদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করলেও কিছু বিশ্ববিদ্যালয় পারছে না। শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা ও নতুন ভর্তি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা সরকারের সকল মহলের সঙ্গে আলোচনা করেছি।

তিনি আরোও বলেন প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সরকারের কাছে ডিপোজিট হিসেবে ৫ কোটি বা তার বেশি জমা রয়েছে। বর্তমান সংকটে সে অর্থ আমদের ঋণ হিসেবে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস, পরীক্ষা ও শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে কিছু দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে করতে বলা হয়েছে। এটি শুরু হয়ে গেলে কিছুটা সংকট নিরসন হবে।

শেখ কবির আরো বলেন, প্রতিটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয়েছে শিক্ষক ও কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধ করতে। তারা তাদের সাধ্য মতো পরিশোধের চেষ্টা করছেন। বুঝতেই পারছেন বাস্তব সমস্যা তো আছেই।

ঢাকা, ০৫ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।