'পর্যাপ্ত আয়োজন ছাড়া অনলাইন ক্লাস বৈষম্য আরও বৃদ্ধি করবে'


Published: 2020-05-03 20:05:27 BdST, Updated: 2020-05-28 19:02:44 BdST

ঢাবি লাইভ : করোনাভাইরাস জনিত পরিস্থিতিতে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালগুলোতে পর্যাপ্ত আয়োজন ছাড়া অনলাইন ক্লাস শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য আরও বৃদ্ধি করবে বলে মনে করছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট। করোনাভাইরাস সৃষ্ট এই সংকটে অনলাইনে ক্লাস না নিয়ে শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে ত্রাণ কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা, কনট্যাক্ট ট্রেসিং এবং স্যাম্পল কলেক্টিং এর জন্য স্বেচ্ছাসেবক ব্রিগেড গঠন করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সেমিস্টারের টিউশন ফি মওকুফ করার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। রবিবার সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল কাদেরী জয় ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স একটি যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সারা দেশে ছড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নেটওয়ার্কের দুর্বলতার কথা আমরা সবাই জানি। একই সাথে সকলেরই অনলাইনে ক্লাস করার উপযোগী ডিভাইস আছে এমন ভাবাটা বাতুলতা। এই করোনাকালীন দুর্যোগের সময়ে মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো যখন তাদের দৈনন্দিন খরচ সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছেন সেখানে ইন্টারনেটের খরচ বহন করা তাদের উপরে বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা ছাড়া কিছু নয়।

'দেশের উচ্চশিক্ষার বৃহৎ একটি অংশ এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করে, এটা ভাবা কোনভাবেই উচিত নয় যে শুধুমাত্র সামর্থ্যবানদের সন্তানেরাই এখন এসকল প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনা করছে। তাই আমরা মনে করি উপযুক্ত আয়োজন, যেমন সকলের জন্য ডিভাইসের আয়োজন নিশ্চিত করা, ইন্টারনেট সুবিধাকে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে করা এবং সকল অঞ্চলে নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করা এবং ক্লাসকে অংশগ্রহণমূলক করার জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া ছাড়া এধরণের সিদ্ধান্ত শিক্ষাব্যবস্থায় চলমান বৈষম্যকে আরো বেশি প্রকট করবে।'

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের এই দুর্যোগের সময়ে শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র ঘরে বসে ক্লাস করবে, দেশের সংকটাপন্ন মানুষের পাশে দাড়ানোর কোন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ থাকবে না, এটাও দুঃখজনক। আমরা দেখছি শুধুমাত্র প্রশাসন এবং সরকার একা এই মহামারী মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে। পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীরও অভাব রয়েছে। আর প্রয়োজনী নিরাপত্তা নিশ্চিৎ করতে না পারায় একে একে স্বাস্থ্যকর্মীরা যে হারে আক্রান্ত হচ্ছেন, তাতে সামনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

তাই শিক্ষার্থীদের এখনই পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষার ব্যাবস্থা করে তাদের সমন্বয়ে ত্রাণ কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা, কনট্যাক্ট ট্রেসিং এবং স্যাম্পল কলেক্টিং এর জন্য স্বেচ্ছাসেবী ব্রিগেড গঠন করা উচিৎ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালরে এক সেমিস্টারের টিউশন ফি মওকুফ করার দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনেই বলা আছে, এটা একটা অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। অথচ আমরা দেখছি বছর বছর এই বিশ্ববিদ্যালয় শত শত কোটি টাকা মুনাফা করেছে, লাগামছাড়া টিউশন ফি নিয়েছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে।

নামে বেনামে ফি আরোপ করেছে শিক্ষার্থীদের ওপর। এই সম্পর্কিত কোন নীতিমালাও প্রণীত হয়নি এখনও। এই দুর্যোগে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের এক সেমিস্টারের ফি মওকুফ করা উচিত।' 'অযুহাত দেয়া হচ্ছে ফি না নিলে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেতন কীভাবে দেয়া হবে। আমরা বলতে চাই এত বছর যে শত কোটি টাকা মুনাফা করেছে সেখান থেকেই শিক্ষক কর্মকর্তাদের বেতন দেয়া হোক।

শিক্ষার্থীদের টিউশন বা খন্ডকালীন কাজ নেই, ঘরে ঘরে উপার্জন বন্ধ, কৃষক ফসলের দাম পাচ্ছে না, অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের আয়ের পথ বন্ধ। এদের সন্তানেরাই তো এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়ে। তাই এই ফি এর বোঝা আরো সংকটাপন্ন করবে দেশের মানুষকে। করোনা পরবর্তী যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হবে, তাও ভোগাবে মানুষকে। তাই ফি কেবল শিথিল বা নমনীয় নয়, অবিলম্বে এক সেমিস্টার ফি মওকুফ করার দাবি করছি।

ঢাকা, ০৩ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।