মহাত্মা গান্ধী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের শিক্ষক


Published: 2018-10-11 23:18:03 BdST, Updated: 2018-12-12 20:51:16 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: পিছিয়ে নেই এদেশের তরুণ শিক্ষকরা। তারাও এখন দেশী ও বিদেশী প্রতিষ্ঠানের পুরস্কার পাচ্ছেন। অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন সভা ও সেমিনারে। ‘মহাত্মা গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল কনগ্রেস অন মাল্টিডিসিপ্লিনারি স্টাডিজে’ গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এদেশের এক তরুণ শিক্ষক। ওই মাল্টিডিসিপ্লিনারি স্টাডিজে’ অংশ নিয়েছেন সাহিত্যিক, তুর্কি স্কলারশিপ ফেলো ও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সরোজ মেহেদী।

জানাগেছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির হোটেল লিজেন্ড ইন-এ ‘ইনস্টিটিউট অব ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড স্যোশাল রিসার্চেস’র আয়োজনে গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনে স্পিকার হিসেবে যোগ দেন তিনি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক-শিক্ষাবিদদের এ মিলনমেলা ২৮ সেপ্টেম্বর শেষ হচ্ছে। সম্মেলনে ‘প্যারিস অ্যাটাক, রিসেন্ট স্টুডেন্ট মুভমেন্ট ইন ইন্ডিয়া অ্যান্ড স্যোশাল মিডিয়া’ শিরোনামে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেহেদী।

এ বিষয়ে সরোজ ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘কিভাবে স্যোশাল মিডিয়া বিকল্প মিডিয়া হিসেবে মূলধারার গণমাধ্যমকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে তা তুলে ধরা হয়েছে এই গবেষণা প্রবন্ধে। বিষয়টি দেখাতে গিয়ে আমি ২০১৫ সালে প্যারিসে জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএল’এর নারকীয় হামলা ও ২০১৬ সালে ভারতজুড়ে হওয়া ছাত্র বিক্ষোভকে কেস স্টাডি হিসেবে নিয়েছি।

দু’টি ঘটনাতেই আমরা দেখি, মূলধারার গণমাধ্যমগুলো সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বা তাদের মতামত তুলে ধরতে পারছে না নানা কারণে। তবে মানুষ বসে নেই। তারা তাদের মতামত তুলে ধরতে স্যোশাল মিডিয়ার মতো বিকল্প প্ল্যাটফর্মকে বেছে নিচ্ছে।’ সরোজ মেহেদী মনে করেন, ‘স্যোশাল মিডিয়া দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বিধায় মূলধারার গণমাধ্যমগুলোর ওপর একটা বিশাল চাপ তৈরি হচ্ছে। যেটা তাদের পলিসি পরিবর্তনে বাধ্য করছে।’

২০১৬ সালে দ্য বিথ ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপলায়েড সায়েন্স-বার্লিন, জার্মানি, আকদেনিজ ইউনিভার্সিটি ও খোজায়েলি ইউনিভার্সিটি অব টার্কির যৌথ আয়োজনে সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনগ্রেস অন মিডিয়া স্টাডিজে ‘অটপসি অব নিউ মিডিয়া ফ্রম আসপেক্ট অব স্যোশাল মিডিয়া’ শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেহেদী।

একই বছর স্লোভাকিয়ার কনস্টানটাইন দ্য ফিলোসোফার ইউনিভার্সিটি থেকে ‘দ্য এফেক্ট অব ইন্ডিয়ান পপ কালচার অন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয় তার।
২০১৭ সালে ওআইসির অর্থায়নে সুদানের খার্তুমে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড মুসলিম ইয়ুথ সামিট অ্যান্ড এক্সিবিশানে ‘রোল অব ইয়ুথ ইন স্যোশাল মুভমেন্ট অ্যান্ড স্যোশাল মিডিয়া’, এবং একই বছর ইস্তানবুলের গেলিশিম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত থার্ড ইন্টারন্যাশনাল নিউ মিডিয়া কনফারেন্সে ‘স্যোশাল মিডিয়া অ্যান্ড ইটস ইমপোরটেন্স ইন মডার্ন এরা’ শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেহেদী।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক চেয়ারপারসন ও সোশ্যাল সায়েন্স ফ্যাকাল্টির সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. হেলেনা ফেরদৌসীর সঙ্গে যৌথভাবে ‘রাশিয়া-টার্কি ক্ল্যাশ অ্যান্ড মিডিয়া ইন ২০১৫: এ স্টাডি অন বাংলাদেশি জার্নালিস্টস’ শিরোনামে একটি গবেষণাকাজ সম্পন্ন করেন তিনি।

গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ও যোগাযোগ বিভাগের শিক্ষক সরোজ মেহেদী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় পড়ার সময় দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০১৪ সালে দৈনিক যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করার সময় তিনি তুরস্ক সরকারের বৃত্তি নিয়ে ইস্তানবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে যান।

পরে তিনি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ফান্ড নিয়ে হাঙ্গেরির প্যাননিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও তুরস্কের কাদির হাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইউরোপিয়ান স্টাডিজের ওপরে দু’টি ক্রেডিট প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেন। ২০১৭ সালে জার্মানির অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়ন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে বার্লিনে একটি আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামে যোগ দেন তিনি।

এছাড়া তিনি বেলজিয়াম, হাঙ্গেরি, অস্ট্রিয়া, ইউক্রেন, তুরস্ক প্রভৃতি দেশে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামেও যোগ দেন।

 

ঢাকা, ১১ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।