চলন্ত বাসে ধর্ষণের চেষ্টা, যা বললেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী


Published: 2018-04-25 01:51:37 BdST, Updated: 2018-08-19 06:12:43 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : রাজধানীতে ভর দুপুরে চলন্ত বাসে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় জবানবন্দি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী। মঙ্গলবার (২৪ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবীর আদালতে জবানবন্দি দেন বাড্ডায় তুরাগ পরিবহনে শ্লীলতাহানির শিকার হওয়া উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ছাত্রী (২২)।

তিনি বলেন, বাসের কন্ডাকটরের (পথপ্রদর্শক) কথা-বার্তা শুনে আমার মনে হয়েছে যে, সে নেশাগ্রস্ত। হেলপার (সহকারি) খুব নোংরা কথা বলছিল। সে বারবার বলছিল ‘আজকের জন্য এই রকম একটি মেয়ে দরকার’। পেছন থেকে শুধু এই কথাটি শুনতে পাই, ‘মেয়েটাকে ধরতে পারলি না।’ বাস থেকে নামার পর আমি কাঁপতে কাঁপতে সুপ্রভাত নামের অপর একটি বাসে উঠে উত্তরায় আমার ক্যাম্পাসে যাই।

জবানবিন্দতে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী আরও বলেন, শনিবার দুপুর ১টায় বাড্ডা লিংকরোড থেকে উত্তরা ৬নং সেক্টেরে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য তুরাগ পরিবহনের একটি বাসে উঠি। বাসে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী ছিল। নতুন বাজারে আসতেই বাসটির সবযাত্রী নেমে যায়। আমি বাসের সামনে মহিলা সিটে একা বসে ছিলাম কিন্তু কন্ডাকটর (মনির) আমাকে বারবার বাসের পেছনের সিটে বসতে বলছিল। কিছুক্ষণ পর বাসের হেলপার (নয়ন) আমার পাশের মহিলা সিটে আমার প্রায় গাঁ ঘেঁষে বসে। হেলপার খুব নোংরা কথা বলছিল। বাসের হেলপার এমন ভঙ্গিতে বসেছিল যেনো আমি সিট থেকে নামতে না পারি। বাসের সবযাত্রী নেমে যাওয়ায় আমি বাস থেকে নামতে চাচ্ছিলাম কিন্তু বাসের হেলপার ও কন্ডাকটর আমাকে নামতে দিচ্ছিল না। কন্ডাকটর বাসের দরজায় দাঁড়িয়ে ছিল।

বাসটি যখন নর্দা ক্রস করছিল তখন হঠাৎ করে হেলপার আমার হাত ধরে। ড্রাইভার বলছিল যে, ‘মেয়েটিকে নামতে দিস না।’ কন্ডাকটর বলছিল, ‘তাড়াতাড়ি বাসটি চালিয়ে বিশ্বরোড নিয়ে যা।’ হেলপার আমার হাত ধরলে আমি তার হাতে আঘাত করি, তখন সে আমার হাত ছেড়ে দেয়। এরপর কন্ডাকটর আমার স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেয়ার চেষ্টা করে। আমার হাতের ব্যাগ দিয়ে তা প্রতিহত করি। কিন্তু কন্ডাকটর আমার দুই হাতে ও পিঠে হাত দিতে থাকে। ততক্ষণে বাসটি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় চলে আসে। সেখানে জ্যাম থাকায় চালক বাসটি চালিয়ে বিশ্বরোডে নিতে পারেনি। হেলপার দরজার কাছে যায়, যাতে আমি নামতে না পারি। তখন আমি চেঁচামেচি করবো এই ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক বাস থেকে নেমে যাই। পেছন থেকে শুধু এই কথাটি শুনতে পাই, ‘মেয়েটাকে ধরতে পারলি না।’ বাস থেকে নামার পর আমি কাঁপতে কাঁপতে সুপ্রভাত নামের অপর একটি বাসে উঠে উত্তরায় আমার ক্যাম্পাসে যাই। সেখানে আমি আমার স্বামী ও বন্ধুদের বিষয়টা বলি।

রিমান্ড শুনানির সময় ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবী বাসচালক, হেলপার ও কন্ডাকটরকে প্রশ্ন করেন, তোমরা কতদূর পড়ালেখা করেছো। উত্তরে চালক বলেন, স্যার পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। অপরদিকে কন্ডাকটর মনির ও হেলপার নয়ন বলেন, আমরা কোনো পড়ালেখা করিনি। তখন বিচারক বললেন, পড়ালেখা না করায় এই অবস্থা।

চালক-সহকারী-কন্ডাকটরের তিন দিনের রিমান্ড : বেসরকারি উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার তুরাগ পরিবহনের বাসটির চালক, সহকারী ও কন্ডাকটর প্রত্যেককে তিনদিন করে রিমান্ড দিয়েছেন ঢাকা মহানরগ হাকিম গোলাম নবী।

১৭ মে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ : এই ঘটনায় দায়ের করা মামলাটির এজাহার গ্রহণ করেছেন আদালত। ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবী মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৭ মে দিন ধার্য করেছেন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে উত্তরা ৬ নং সেক্টরে উত্তরা ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে আসার জন্য উত্তরবাড্ডা এলাকা থেকে তুরাগ পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী। এসময় তিনি ওই বাসের চালকসহ হেলপার ও কন্ডাকটরের যোগসাজশে যৌন হয়রানির শিকার হন। বুদ্ধিমত্তায় তিনি রক্ষা পেয়ে ক্যাম্পাসে যান। পরে সহপাঠীরা ঘটনাটি শুনলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিক্ষার্থীরা তুরাগ বাস আটকে বিক্ষোভ করেন। ওই ঘটনায় গত রোববার ভুক্তভোগী ছাত্রীর স্বামী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ১০/৩০ ধারায় ওই মামলা দায়ের করেন। মামলায় তুরাগ পরিবহনের ওই বাসের অজ্ঞাত চালক, হেলপারসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। এঘটনায় পরে ৩জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ঢাকা, ২৫ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।