কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মানছে না ইবি ছাত্রলীগ


Published: 2017-11-26 19:55:07 BdST, Updated: 2018-04-25 04:55:35 BdST


ইবি লাইভ: কেন্দ্রীয় নির্দেশনার ৭ মাস পার হলেও এখন পযর্ন্ত ইসলমী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আজও ঘোষণা করা হয়নি। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্ভর হয়ে পড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দলীয় কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন কর্মীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৬ এপ্রিল সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের শাহিনুর রহমান শাহিনকে সভাপতি ও একই বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের জুয়েল রানা হালিমকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় কমিটি। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, কেন্দ্রীয় সভাপতি এম সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন প্রমুখ।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দায়ীত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের নেতৃবৃন্দকে স্ব-স্ব ইউনিটে অবস্থান করে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় সংসদের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এখনও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটে আসেননি এবং আসবেন কিনা সেটারও কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছেনা।

বারবার কেন্দ্র থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটির জন্য তাগাদা দিলেও কমিটির গঠনের এখন পর্যন্ত কোন লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পদপ্রত্যাশী একাধিক ছাত্রলীগ নেতা। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই সদস্যের কমিটি দীর্ঘ সাত মাস অতিবাহিত করলেও এখনও হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারে নি।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেননি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন এবং সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম।

এদিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং অনেক কর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে বলেও জানা যায়। সম্মেলনে অর্ধশতাধিক সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী নেতারা তাদের কাক্সিক্ষত মূল্যায়ন না পাওয়ায় অনেকেই ক্যাম্পাস ও রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক পদ প্রত্যাশি একাধিক ছাত্রলীগ নেতা প্রতিবেদককে বলেন, ‘রাজনীতি করার জন্য পদ থাকাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পাঁচ মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি। সংগঠনে কোনো পদ না থাকায় পরিবার ও কর্মীদের কাছে বিভিন্নভাবে জবাবদিহি করতে হয়। পদ না পাওয়ার কারণে কর্মীরা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ছে বলে তিনি জানান।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবকে কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনিচুর রহমান আনিস বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ঘোষণা আসার পরও তারা কেন যে সময় নষ্ট করছে সেটা আমার বোধগম্য নয়। তবে ছাত্রলীগের রাজনীতি চাঙ্গা করতে পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিকল্প নেই।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পদপ্রত্যাশী ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রজীবন প্রায় শেষের দিকে। ক্যাম্পাসে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই ছাত্রলীগের সাথে একনিষ্ঠভাবে জড়িত রয়েছি। সারাজীবন নেতাদের পিছনে পিছনে ঘুরে গেলাম কিন্তু নেতা হতে পারলাম না। একটি পদ হয়তো চাকরীর জন্য সহায়ক হত সে সৌভাগ্যও হয়ত হবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা হয়েছে খুব দ্রুতই যাচাই-বাছাই ও খোঁজ খবর নিয়েই কমিটি দেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি এম সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়-নি। তবে ইবি শাখার কেন্দ্রীয় সংসদের দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতা নুরুন্নবী প্রতিবেদককে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়-নি।

 

ঢাকা, ২৬ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।