ভারপ্রাপ্ত নেতারা আর কি করবে!সাংগঠনিক কমিটি দিতে নির্দেশনা পায়নি ছাত্রলীগের দুই নেতা!


Published: 2019-09-21 21:57:50 BdST, Updated: 2019-11-18 19:52:29 BdST

ঢাবি লাইভ: ছাত্রলীগের সাংগঠনিক ইউনিটগুলোতে কমিটি গঠনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে স্পষ্ট কোন নির্দেশনা পাননি ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত দুই নেতা। তবে নেত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা না পেলেও সাংগঠনিক ইউনিটে কমিটি দেওয়া তাদের ক্ষমতা আছে বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত দুই নেতা।

সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার(১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্যের নেতৃত্বে সংগঠনটির কয়েকজন নেতা গণভবনে শেখ হাসিনার সাথে দেখা করেন।

ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের ১৩ মাস পেরিয়ে গেলেও ছাত্রলীগের ১১১ টি সাংগঠনিক ইউনিটের মাত্র দুটি ইউনিটে নতুন কমিটি গঠন করতে পেরেছে ছাত্রলীগ। ৪টি ইউনিটে সম্মেলন হলেও এখনো কমিটি দেওয়া হয়নি।

গণভবনে উপস্থিত একজন ছাত্রলীগ নেতা এই বিষয়ে শেখ হাসিনার কাছে পরামর্শ চাইলে তিনি ছাত্রলীগ নেতাদের কোন স্পষ্ট নিদের্শনা দেননি বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগের একজন যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘‘বৈঠকের এক পর্যায়ে কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরান প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন।

ছাত্রলীগের বিভিন্ন সাংগঠনিক ইউনিটে কমিটি দেওয়া বাকি আছে এই বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ চান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে কিছু না বলে আমাদেরকে বিভিন্ন জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক সফরের পরামর্শ দেন। সেই জায়গাগুলোতে পাঠচক্র আয়োজনের কথা বলেন।’’ তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী কমিটি দিতেও বলেননি আবার নাও করেননি।’’

এই বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের ইমেজ ধরে রাখতে বলেন। ছাত্রলীগের কারণে দেশের উন্নয়নের সুনাম নষ্ট হোক এটাও তিনি চাননা। এছাড়া ছাত্রলীগকে ত্যাগ করা শিখার এবং লোভ পরিহার করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তারা বলেন, ছাত্রলীগের নেতাদের প্রোটোকল নিয়ে না ঘুরার পরামর্শ দেন। ছাত্রলীগের বিভিন্ন অর্জন, আন্দোলন- সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চায় পাঠচক্র করার পরামর্শ দেন শেখ হাসিনা। তবে কমিটি গঠনের বিষয়ে স্পষ্ট কোন নির্দেশনা দেয়নি।

ছাত্রলীগের বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজ করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করতে বলেছেন বলে জানান তারা।

সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘‘আমরা তো এখন বুঝদার। আপা (প্রধানমন্ত্রী) তো আর এমন বলবে না যে, তোমাদের সাইনিং পাওয়ার দিয়ে দিলাম।

আপা আমাদের বলেছে যে তোমরা তোমাদের কার্যক্রম ভালোমত চালাও, সমস্যা নেই। এই-ওই কাজগুলো কর, সংগঠনকে আরো গতিশীল কর। এই কাজ করার মানে কি? আপা তো তাহলে বলতো যে, তোমাদের এখন কিছু করার নেই, শুধু বইসা থাকো।’’

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যা যা করার ক্ষমতা রাখে, সব ধরনের কার্যক্রম আমাদের চালাতে বলেছেন নেত্রী। এখানে তিনি উল্লেখ করে এমন কিছু বলনেনি যে কোনো কমিটি করো,বা কোনোটি করো না। কমিটি নিয়ে কোনো কথা হয়নি।

উল্লেখ্য- ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় গত বছরের ১১ ও ১২ মে। আড়াই মাস পর ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত হয়।

সম্মেলনের এক বছর পর গত ১৩ মে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়। এরপর গত ১৪ সেপ্টেম্বর কমিটির প্রায় ১১ মাস বাকি থাকতেই চাঁদাবাজির অভিযোগে সমালোচনার মুখে থাকা রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

একই দিন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্যের নাম ঘোষণা করা হয়।

ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//।এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।