কি আছে ভাগ্যে!ঢাবিতে আমরণ অনশনে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা


Published: 2019-06-28 22:21:58 BdST, Updated: 2019-09-22 06:13:44 BdST

ঢাবি লাইভঃ এবার আমরণ অনশনে যাচ্ছেন ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা। তাদের দাবী আমাদের প্রাণের সংগঠনে শৃংখলা ও ন্যায় বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা আমরণ অনশনে থাকবেন। এর জন্যে প্রয়োজনে জান- প্রাণ গেলেও আমরা তাই করবো। চার দফা দাবি পূরণে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে কোনো আশ্বাস না পেয়ে আমরণ অনশন শুরু করেছেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে তাঁরা আমরণ অনশনে বসেন আজ শুক্রবার দুপুর দুইটা থেকে । দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে বলে তারা জানিয়েছেন। বলেছেন আমাদের আর কোন উপায় ছিল না। তাই বাধ্য হয়েই এই পথ বেঁচে নিতে হয়েছে।

প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি মানতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া অংশের সদস্যরা। তবে এই সময়ের মধ্যে দাবির পক্ষে কোনো আশ্বাস না পেয়ে আজ তারা আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন।

ছাত্রলীগে কমিটিতে পদবঞ্চিতদের দেওয়া চার দফা দাবি হলো- আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ, পদ শূন্য ঘোষিত ছাত্রলীগের কমিটির ১৯ জনের পদসহ নাম প্রকাশ, বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে পদবঞ্চিতদের মধ্য থেকে যোগ্যতার ভিত্তিতে কমিটিতে পদায়ন এবং মধুর ক্যানটিনে (১৩ মে) ও টিএসসিতে (১৯ মে) তাদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার ৷

আন্দোলনকারীদের মধ্যে আছেন ছাত্রলীগের গত কমিটির প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু, কর্মসূচি ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন, সমাজসেবা সম্পাদক রানা হামিদ, উপদপ্তর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, স্কুল ছাত্রবিষয়ক উপসম্পাদক সৈয়দ আরাফাত, সদস্য তানভীর হাসান সৈকত প্রমুখ।

পদ বঞ্চিতদের মারধরের দৃশ্য

 

এর আগে গত ১৩ মে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণার দিন থেকেই পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া অংশের নেতারা নানাভাবে অসন্তোষ ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। মাঝে আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেন তাঁরা। কিন্তু আজ সোমবার বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই তাঁরা আবার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত অংশের একাধিক নেতা বলেন, কমিটি থেকে এখন পর্যন্ত ‘বিতর্কিত’দের বাদ দেওয়া হয়নি। বর্তমান কমিটিতে মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, বিবাহিত, ব্যবসায়ী, অছাত্র, জামায়াত-বিএনপির ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্তরাও পদ পেয়েছে। এমন বিতর্কিতদের নিয়ে সোমবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো তাঁর প্রতি অশ্রদ্ধারই বহিঃপ্রকাশ।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের গত কমিটির কর্মসূচি ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন বলেন, '৩২-এ (ধানমণ্ডি ৩২) তো রাজাকারের সন্তান ও বিতর্কিতদের নিয়ে ফুল দেওয়ার কথা না। যারা ছাত্রলীগ করেছে, তাদের নিয়ে সেখানে যাওয়ার কথা। এটা একটা ষড়যন্ত্র।'

রাকিব বলেন, ‘আমরা এ ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার জন্য এখানে বসেছি। আমাদের দাবি হলো, বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে কমিটি পুনর্গঠন করতে হবে। আমাদের বোনদের ওপর হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি প্রহসনমূলক তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এতে যে বিচার পেয়েছি, তাও প্রহসনমূলক। আমরা এ বিচার আগেই প্রত্যাখ্যান করেছি। আমরা চাই, একটি সুষ্ঠু তদন্ত কমিটি ও সুষ্ঠু তদন্ত প্রতিবেদন।’

ঢাকা, ২৮ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।