''বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে পরীক্ষা ও ভর্তির দাবি, ইউজিসির না''


Published: 2020-04-11 13:07:58 BdST, Updated: 2020-09-21 08:11:12 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: হায়রে মালিক সমিতি! সব জায়গাতেই নিজের স্বার্থ। দেশের ও দেশের জনগনের স্বার্থকে দেয়া হচ্ছে জলাঞ্জলী। তারা হেন কাজ নেই যা করতে পারেন না। গোটা বিশ্ব যখন মহামারি ও করোনার থাবায় কাঁপছে ঠিক তখনই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহনের ছদ্দাবরণে টাকা হাতিয়ে নিতে চান বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি। কথা গুলো ভূক্তভোগী অভিবাবক ও শিক্ষার্থীদের। তারা জানান, নিজেদের স্বার্থেই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আহ্বান স্থগিতের দাবি জানিয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি।

অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণ ও শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আহ্বান স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন ওই সমিতি। এদিকে বিশ্বমহামারী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকালীন সময়ে বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণ, মূল্যায়ন ও শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম বন্ধ রাখতে সমিতির চিঠি পেয়ে শুক্রবারই দ্বিতীয়বারের মত ইউজিসি আহ্বান জানিয়েছে। বলেছে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে এই আবেদন। শুক্রবার দ্বিতীয়বারের মত ইউজিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেয়া হয়।

সংশ্লিস্টরা এর কড়া সমালোচনা করেছেন। তারা নাম প্রকাশন না করার শর্তে বলেছেন আমাদের নাম জানলে ওরা শেষ করে ফেলবে। আমাদের সন্তানদের পড়া শুনার ভাগ্যের আকাশে কলোঘনঘটা নেমে আসবে। তাদের নিয়ম কেবলই তাদের স্বার্থে। এর চাইতে আর কি বলবো।

জানা গেছে অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণ ও শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আহ্বান স্থগিতের দাবি জানিয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি। গত ৮ এপ্রিল ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহর কাছে লেখা চিঠিতে সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির এ দাবি জানান।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণ ও শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম বন্ধ রাখতে ইউজিসির আহ্বান-সংক্রান্ত সংবাদ গত ৬ এপ্রিল বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ নিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। চলমান দুর্যোগের সময় অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।

শেখ কবির বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর শিক্ষার্থীদের বাসায় অবস্থান করে অনলাইনে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশনা অনুসারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি অনলাইনে শিক্ষা সহায়তার জন্য আইটি সহায়ক সেল গঠন করে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য উপযোগী। অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রক্রিয়ার অধিকাংশ কার্যক্রম অনলাইনে করে। তাছাড়া পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনের উন্নত প্রযুক্তি স্থাপন করেছে।

এভাবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করা সম্ভব হচ্ছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম নেই। এ ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে সেমিস্টার সূচি অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব না হলে সেশনজট ও শিক্ষা ব্যয় বাড়বে।

ভর্তি কার্যক্রম ব্যাহত হলে নতুন বিশ্ববিদ্যালগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে জনবলের বেতন-ভাতা প্রদান ও চাকরি অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। চিঠিতে ইউজিসির অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণ ও শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম বন্ধ রাখা-সংক্রান্ত আহ্বান আপাতত স্থগিত করে সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানানো হয়।

তবে সংশ্লিস্টরা জানান, করোনাতংকের কারণে কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। ব্যাংকের জন্যে সামান্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। লকডাউনের সময় ব্যাংকে গিয়ে বেতন দেয়া বা বিকাশ -রকেট ও নগদে বেতন দেয়া অনেকটাই সমস্যার সৃস্টি করবে। অনেক শিক্ষার্থী ও অভিবাবক আক্রান্ত হতে পারেন প্রাণঘাতি করোনায়।

তাছাড়া মরনঘাতি করোনাভাইরাসের কারণে অনেক অভিবাবকের চাকুরী নেই, বেতন ভাতা পাচ্ছেন না নিয়মিত। এসব নানান সমস্যায় ইউজিসি তার সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন বলে অনেক শিক্ষক, অভিবাবক ও শিক্ষার্থীরা দাবী তুলেছেন। বলেছেন তাদের সিদ্ধান্তই সময়োপযোগী।

এদিকে বিশ্বমহামারী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকালীন সময়ে বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণ, মূল্যায়ন ও শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন-ইউজিসির আহ্বান পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। শুক্রবার দ্বিতীয়বারের মত ইউজিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের ২৭টি জেলাকে ইতোমধ্যে লকডাউন করা হয়েছে। দেশের সকল শ্রেণি ও পেশার জনগণকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার বিষয়টি সরকার কর্তৃক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ঢাকার সাথে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের সকল ধরনের যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শ্রেণির ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণ এবং মূল্যায়নসহ সকল শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য ইতোমধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে কভিড-১৯ এর ভয়াবহতা পূর্বের চেয়ে আরো বিস্তৃত হচ্ছে। কমিশন মনে করে যে, উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে পরীক্ষা গ্রহণ ও সামার সেমিস্টারে ভর্তি কার্যক্রম চালু রাখার মতো কোনো অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান নেই।

বর্ণিতাবস্থায়, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত বিষয়ে কমিশন ও সরকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। চলমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় রেখে কমিশন কর্তৃক গত ৬ এপ্রিলে জারিকৃত গণবিজ্ঞপ্তি পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। উদ্ভুত পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটলে কমিশন কর্তৃক বর্ণিত বিষয়ে পরবর্তীতে পরামর্শ/নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরণ করা হবে।

নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও ব্যাপক বিস্তার রোধকল্পে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সরকার কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন ও অনুসরণ করার জন্য উচ্চশিক্ষা পরিবারের সকলকে পুনরায় অনুরোধ জানানো হলো

ঢাকা, ১১ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।