এনইউ: সমাবর্তনসহ ৫ দফা দবিতে মানববন্ধন


Published: 2020-02-06 19:51:05 BdST, Updated: 2020-04-07 12:41:13 BdST

এনইউ লাইভঃ বৈষম্য দূর ও দক্ষ জনশক্তি তৈরী করার লক্ষ্যে সমাবর্তনসহ শিক্ষা পদ্ধতি সংস্কারের পাঁচদফা দাবি জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ঐক্য পরিষদ।

বৃহস্পতিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনসহ পাঁচদফা দাবিতে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ঐক্য পরিষদ।

তাদের দাবিগুলো হলো :
১. প্রতিবছর নিয়মতান্ত্রিক ভাবে সমাবর্তন আয়োজন করতে হবে ৷
২. কলেজগুলোতে সরকার নির্ধারিত ফি এর অতিরিক্ত আদায় করা যাবে না।
৩. সকল বিভাগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক ব্যবহারিক কোর্স চালু এবং গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৪. মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিক্ষক ও ক্লাসরুম সংকট দুর করতে হবে।
৫. কলেজগুলোকে শুধু সনদ প্রাপ্তির কেন্দ্র না করে সংস্কারের মাধ্যমে কর্মমুখী শিক্ষা পদ্ধতি চালু করতে হবে৷

মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, সমাবর্তন অনুষ্ঠান একজন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষা পরবর্তী সবচেয়ে বড় উপহার। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার ২৮ বছর পরেও সফলতার সাথে কোনো সমাবর্তন আয়োজন করেনি। ২০১৭ সালে ১ম বার সমাবর্তন আয়োজন করা হলেও যা ছিলো অসম্পূর্ণ।

তারা বলেন, আপনারা জানেন ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে চলে আসছে। বারবার প্রশ্ন উঠেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষা পদ্ধতি সংস্কার না হওয়ায় শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন জাগার অন্যতম কারণ। শিক্ষক সংকট, শ্রেণী সংকট, যত্রতত্র অনার্স খুলে বসার ফলে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়নি।

তারা আরো জানান,জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীপ্রতি বার্ষিক ব্যয় মাত্র ৭৪১ টাকা। যা দৈনিক হিসাব করলে দাঁড়ায় ২.০৩ টাকা। অর্থাৎ ১ টি লজেন্সের সর্বনিম্ন দাম থেকেও কম। কেননা বাজেটের ১০০% যে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যায় হয় না তা বর্তমান পরিস্থিতিতে তদন্তের প্রয়োজন আছে বলে মনে করছি না। সেখানে বঙ্গবন্ধু মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীপ্রতি বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৪ লাখ টাকা।

আর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীপ্রতি এ ব্যয় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী প্রতি বার্ষিক ব্যয় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৯০২ টাকা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৮ হাজার ৯৬২ টাকা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ২ লাখ ৩২ হাজার ২৪২ টাকা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৭০৬ টাকা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ লাখ ৪২ হাজার টাকা, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৪ হাজার ৯২৪ টাকা, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় ১১ হাজার ৫৯২ টাকা।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক রহমতুল্লাহ বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গবেষণায় যেভাবে বরাদ্দ পাচ্ছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষকদের সে সুযোগ নেই। ভালো মানের গবেষণাগার নেই। প্রায় ১৭% শিক্ষক পদ শূন্য। কোন কোন কলেজে সেটা ৫০%।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যাল একটি বেকার তৈরীর কারখানা। এক গবেষণায় দেখা গেছে শিক্ষিত বেকারদের মধ্যে ৬৭ ভাগই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে খোদ শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, "যত্রতত্র অনার্স খুলে আমরা শিক্ষিত বেকার তৈরি করে ফেলেছি।আমরা শিক্ষিত বেকার তৈরি করতে চাই না।"

এমতাবস্থায় বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে তথ্য প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করলে তৈরী হবে দক্ষ জনশক্তি। আর দক্ষ জনশক্তিই পারে টেকসই কর্মসংস্থান তৈরী করতে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সাথে জড়িত বেকার তৈরীর কারখানার শব্দটির পরিবর্তে জড়িয়ে যাবে দক্ষ জনশক্তি তৈরীর কারখানা।

তিনি আরো বলেন, আজ আমাদের কেন রাস্তায় নামতে হয়। এদেশের শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদরা কি করেন। আমরা তাদের বলতে চাই, আমাদের দাবিগুলো মেনে নিন, আমরা আর রাস্তায় নামতে চাই না।

সরকারি কুরালামপুর কলেজের শিক্ষার্থী অনন্যা বলেন, আমাদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত ক্লাস নেয়া হয়না। আমাদের বিভিন্ন সময় অতিরিক্ত ফি নেয়া হয়। আমাদের কলেজগুলোতে কোন আইসিটি ল্যাব নাই। ডিজিটাল বাংলাদেশে আমাদের এই অবস্থা।

ঢাকা, ০৬ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।