রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে দুদকের অভিযান: ঘুষসহ আটক ৬


Published: 2019-12-02 20:57:23 BdST, Updated: 2019-12-06 14:54:45 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ দুর্নীতির অভিযোগে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই অভিযানে শিক্ষাবোর্ডের ৬ কর্মকর্তাকে ঘুষের টাকাসহ আটক করে। সোমবার অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

এসময় দুদকের পক্ষ হতে ওই ৬ কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। দুদক রাজশাহীর উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এই ঘটনায় আটককৃত করা হলেন- শিক্ষাবোর্ডের পত্র প্রাপ্তি শাখার অফিস সহকারী মুরাদ আলী, স্ক্রীপ্ট শাখার দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী রুবেল খান ও মাধ্যমিক সনদ শাখার আসলাম হোসেন ওরফে চৌধুরীকে হাতেনাতে প্রার্থীদের আবেদন ফরম ও ঘুষসহ আটক করা হয়।

পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট শাখায় নিয়ে যাওয়া হলে শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ইসমাইল হোসেন, পত্র প্রাপ্তি শাখার শহিদুল ইসলাম ও সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আহসান আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন তারা।

রাজশাহী দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা যায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীদের সনদপত্র উত্তোলন, নাম সংশোধন, ফলাফল সংশোধন, ভর্তি বাতিল, এক কলেজে ভর্তি বাতিল করে আবার নতুন কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পাদনে সরকার নির্ধারিত ফি-এর জন্য অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়।

এছাড়াও বিদ্যালয় মঞ্জুরী নবায়ন, মহাবিদ্যালয়ের এডহক কমিটি, বিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ খোলা, কার্যনির্বাহী কমিটি, অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি ও মহাবিদ্যালয়ের ছাড়পত্র প্রদানসহ বিভিন্ন কাজে উৎকোচ গ্রহণ ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগে একজন ভুক্তভোগী দুদককে হটলাইন ১০৬ নম্বরে জানান।

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই আজ সকালে দুদক টিম গোপনে অভিযানকালে সেবা প্রত্যাশীদের থেকে নাম সংশোধন, সনদপত্র উত্তোলন ও সনদপত্র ইংরেজী ভার্সন রূপান্তরের নামে শিক্ষা বোর্ডের কর্মচারীরা নির্ধারিত ফি-এর অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ১২০০ টাকা গ্রহণ করছেন। আবেদন ফরম গ্রহণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সেবা প্রদানের নিশ্চয়তা প্রদান করছেন।

এছাড়াও কাউন্টারের মাধ্যমে আবেদনপত্র নেয়ার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ আবেদন ফরম বিভিন্ন কর্মচারীর সাহায্যে সরাসরি নিয়ে তা বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ ঘুষের বিনিময়ে কাজ করে দিচ্ছেন। আর ঘুষের টাকার ভাগ তাৎক্ষণিকভাবেই বিভিন্ন শাখার স্টাফদের দিচ্ছে মর্মে দেখা যায়। এমন চিত্র প্রায় সব শাখাতেই লক্ষ করা যায়।

সেবার জন্য প্রত্যাশীরা এসএমএস-এর মাধ্যমে ডেলিভারী কাউন্টার হতে সংশ্লিষ্ট সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও সেবাটি তারা পাচ্ছেন না। প্রার্থীগণ বাড়তি টাকা দিয়ে সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করলে পরে সেই সেবা প্রদান করা হয়। সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার পর্যালোচনা করলে এ ঘটনার সত্যতা দেখতে পায় দুদক।

এসবের প্রেক্ষিতে ৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎকোচ গ্রহণের বিষয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিব ড. মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় দুদকের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়।

এসময় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিব ড. মোয়াজ্জেম হোসেন, অভিযুক্ত ৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ প্রদান করেন।
এছাড়া তিনি দুদকের অভিযানের ভিত্তিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চালু থাকা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে আগামীকাল একটি সভা আহ্বানপূর্বক অনিয়ম চিহ্নিত করে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

অভিযান পরিচালনাকারী দুদক শিক্ষাবোর্ডে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুকরণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইডি কার্ড ঝুলানো, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপন ও বহিরাগত দালাল চিহ্নিত করে তাদের বোর্ডে প্রবেশে নিষিদ্ধকরণসহ নানা বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন।

এ প্রসঙ্গে দুদক রাজশাহীর উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর জানান, ‘বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতেই আজকের এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে অভিযোগরে সত্যতা মেলে। এসময় ৬ জনকে আটক করা হয়।

পরে শিক্ষাবোর্ডে সচিবকে বিষয়টি জানানো হলে, তিনি (সচিব) বিভাগীয় ব্যবস্থাগ্রহণের কথা জানিয়েছেন দুদককে। সেই সাথে আটককৃত ৬ কর্মীর বিরুদ্ধে দুদক কমিশনে প্রতিবেদন প্রদান করা হবে।’

ঢাকা, ০২ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।