বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুলে শিক্ষার্থীদের গচ্চা যাচ্ছে বিপুল অর্থ


Published: 2018-06-01 22:17:25 BdST, Updated: 2018-08-19 03:52:19 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭ সালের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফল বৃহস্পতিবার (৩১ মে) বিকেল চারটার পর প্রকাশ হয়েছে। এবার পাসের হার ৯৫ দশমিক ৩০ শতাংশ। এই ফল চারটা থেকেই মেসেজ ও সন্ধ্যা ৬টা থেকে ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দফতর থেকে জানানো হয়।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দফতর থেকে বিকেল ৩টা ১১ মিনিটে গণমাধ্যমে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। এতে জানানো হয় উক্ত ফল জানতে শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে nu<space>hp2<space>Roll লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠিয়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (www.nu.edu.bd এবং www.nubd.info) থেকে জানা যাবে।

সংশোধিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির ছবি

 

একাধিক শিক্ষার্থী যোগফলের কাছে অভিযোগ করে বলেন, এই নিয়মে মেসেজ পাঠালে উত্তরে জানানো হচ্ছে দুঃখিত, আপনার এসএসসি বোর্ডের নাম (এনইউ) সঠিক নয়। এছাড়া বিভিন্ন বোর্ডের নামের কোড ফিরতি মেসেজে জানানো হচ্ছে।

প্রতিবেদনের স্বার্থে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, শুধু hp2 এর বদলে h2 লিখে মেসেজ পাঠালে ফল জানা যাচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, “গণমাধ্যম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফল প্রকাশের বিষয়টি জানা যায়। সেখানে যতি ভুল বার্তা থাকে তাহলে সকলে ভুল করাটা স্বাভাবিক। এছাড়া যেকোন ফল প্রকাশ বা ভর্তির ফরম পূরণসহ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ওয়বেসাইট স্লো থাকে। তখন বাধ্য হয়েই ১৬২২২ নম্বরে মেসেজ পাঠিয়ে ফল জানতে হয়। আর সেখানে যদি ভুল বার্তা থাকে তাহলে ধরে নেওয়া যায় কর্তৃপক্ষ ভুল নয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. ফয়জুল করিম যোগফলকে বলেন, ‘hp2 হচ্ছে অনার্স দ্বিতীয় পার্ট এর সংক্ষিপ্ত কোড। বিকেল ৫টা ৩৪ মিনিটে মুঠোফোনে এপদ্ধতিতে ফল আসেনা জানালে তিনি বলেন, তাহলে এখনও বোধহয় আপডেট হয়নি নাকি? h2 দিয়ে মেসেজ পাঠালে ফল পাওয়া যাচ্ছে জানালে উত্তরে তিনি বলেন, আপনি বিষয়টি জানানোতে ভাল হল। আমি নিয়ন্ত্রণ বিভাগকে এখনই জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, কিছুসময়ের মধ্যে মেসেজে ফল জানার প্রক্রিয়াটি সংশোধন করে দিচ্ছি। পরে সন্ধ্যা ৬টা ২৬ মিনিটে শুধু hp2 এর স্থলে h2 বসিয়ে সংশোধিত লেখা একটি বার্তা পাঠানো হয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে।

সংশোধিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির ছবি

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দফতর থেকে পাঠানো দুটি বার্তায়ই জানানো হয়, এবার ৩০ টি বিষয়ে দেশের ৬৭৪ টি কলেজের তিন লাখ ২৭ হাজার ৮৮৬ জন পরীক্ষার্থী ২৩৪ টি কেন্দ্রে ওই পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে নিয়মিত এক লাখ ৯২ হাজার ৭৫৬ জন, মানোন্নয়ন এক লাখ ২৪ হাজার ২০২ জন ও অনিয়মিত ১০ হাজার ৯২৮ জন শিক্ষার্থী। উত্তীর্ণের হার ৯৫ দশমিক ৩০ শতাংশ।

ঘেঁটে দেখা গেছে, একবার মেসেজ পাঠালে খরচ হয় ২টাকা ৪৪ পয়সা। পরীক্ষায় তিন লাখ ২৭ হাজার ৮৮৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এরা যদি একবার করে ভুল মেসেজ পাঠায় তাহলে খরচ হবে ৮ লাখ টাকার বেশি। আর গড়ে যদি অর্ধেক শিক্ষার্থী ফল জানতে মেসেজ পাঠিয়ে থাকে তাহলে চার লাখের অধিক। যদি কেউ একাধিকবার ভুল মেসেজ পাঠিয়ে থাকে তাহলে এর পরিমাণ আরও বেশি।

আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট দুর্বল থাকায় মেসেজের মাধ্যমে সঠিক কোড লিখে ফল জানতে হয়। তখনও একই পরিমাণ টাকা খরচ হয়। এতে করে দেখা যায় একটি ভুল ও একটি সঠিক মেসেজে শিক্ষার্থীর ৪টাকা ৮৮ পয়সা খরচ হয়। আর ৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৮৬ জন পরীক্ষার্থী ক্ষেত্রে টাকার পরিমান হয় ১৬ লাখের অধিক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভুলের জন্য শিক্ষার্থীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্চা যাওয়া প্রসঙ্গে মো. ফয়জুল করিম কোন মন্তব্য করতে চাননি।

আইটি বিশেষজ্ঞ সুজন বিশ্বাসের অভিমত, শুধু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সকল শিক্ষাবোর্ড ও চাকরির পরীক্ষাসহ বহু ধরণের ফি সরকারি মুঠোফোন অপারেটর টেলিটকের মাধ্যমে প্রদান করা হয়।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যখন বিভিন্ন অপারেটর থেকে মেসেজ পাঠায় তখন সাথে সাথে নির্ধারিত ফি কেটে নেওয়া হয়। ওই টাকার একটি অংশ যেমন টেলিটক পায় তেমনি একটি ক্ষুদ্র অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ও পাওয়া কথা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. ফয়জুল করিম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় মেসেজের কমিশন পায় কি-না বিষয়টি আমার জানা নেই।’

যেকোন ফল প্রকাশ হলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটের গতি কমে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কত করব বলেন? ঠিকাদারদের কাছ থেকে সার্ভার কিনি আমরা। টেন্ডারের মাধ্যমে কিনতে হয়। দেখা গেল, তাদের বলি একটা, করে আরেকটা।

বিশ্ববিদ্যালয় কারিগরি বিষয় না বুঝায় ঠিকাদাররা ঠকাচ্ছে কি-না এমন প্রশ্নে তিনি সম্মতি জানিয়ে বলেন, “খরচ হচ্ছে কিন্তু সার্ভিস পাচ্ছি না। সরাসরি কিছু কেনার সুযোগ আমাদের নেই। সব ই-টেন্ডারে কিনতে হয়। সরাসরি কেনার সুযোগ থাকলে দেখে কিনতে পারতাম। ই-টেন্ডারে কারা বিক্রয় করছে তাও আমরা জানিনা।”

 

 

ঢাকা, ১ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।