বন্যপ্রাণী হত্যাঃ জিএফএম’র প্রতিবাদ


Published: 2020-06-17 21:19:44 BdST, Updated: 2020-08-06 06:32:27 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ বন্যপ্রাণী হত্যার প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গ্রিন ফাইটিং মুভমেন্ট (জিএফএম)। বুধবার সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা নাবিল আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিবৃতির মাধ্যমে এ প্রতিবাদ জানায় তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, হালদা নদীতে ডলফিন, সিলেটের জৈন্তাপুরে, মাদারীপুরের বানরের ঘটনা ও পাখি আর ডলফিন হত্যাসহ প্রতিদিনই কোনো না কোনো প্রাণী হত্যা করা হচ্ছে। মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের কারণে বনভূমি উজাড় হওয়া, সীমান্তে মাইন পোঁতা এবং বনের বিভিন্ন যায়গায় তথাকথিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে হাতি চলাচলের করিডোর।

গণমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, গত তিনদিনে পর পর তিনটি হাতির মরদেহ উদ্ধার হয়েছে দেশের বনাঞ্চলে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১৩ বছরে মানুষের হাতে ৬২টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। আর ২০১১ থেকে ২০১৩ সালে প্রতি বছর মারা গেছে গড়ে ৫টি করে। ২০১৪ সালেই মারা গেছে ৭টি। এর পরের ৪ বছরের তথ্য নেই। তবে গত ৯ মাসে ১২টি হাতি মারা গেছে। গত ৭ মাসে শুধু লামায়ই মারা গেছে ৪টি বন্য হাতি। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মরার ঘটনা ঘটছে অনেক। বিদ্যুৎ বিভাগের অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ লাইনের কারণে মারা যাচ্ছে একের পর এক বণ্যপ্রাণী । কিন্তু এ বিষয় এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো তৎপরতা দেখা যায় নি বন বিভাগের। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে অনেক তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

দেশের অন্যতম তিনটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, ফাঁসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, এবং মেধাকচ্ছপিয়া ন্যাশনাল পার্কের ভিতর দিয়ে ১২৮ কিমি দীর্ঘ রেললাইন নির্মাণ কাজ শেষ হবে ২০২২ সালে। এই প্রকল্পে জীববৈচিত্র্যের ব্যাপকহারে ক্ষতি হবে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের প্রায় ২৭ কিলোমিটার বন্যহাতির জন্য মরণফাঁদে পরিণত হবে। ওই রেললাইনের অন্তত ২১টি স্থানে পড়বে হাতির বসতি এবং চলাচলের পথ।

পৃথিবীর কোনো দেশে সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে রেললাইন নিয়ে যাওয়ার নজির নেই। বর্তমান চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের পাশ দিয়ে এ রেললাইন নিয়ে যাওয়া হলে কোনো সমস্যা হতো না।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বা এ বিষয়ে জনগণের কাছে জবাবদিহিতার অভাব ও দায়িত্বে অবহেলার ফলে আমরা একের পর এক হারাচ্ছি বন ও বন্যপ্রাণী। যা পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত দিক থেকে ক্ষতির মুখে ফেলছে আমাদের।

আমরা বলবো এর জন্য প্রথমে প্রাণী রক্ষায় দায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থাগুলো ও বন বিভাগকে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে প্রাণী হত্যায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এধরনের কাজ সংঘটিত করার চিন্তা না করে। আমরা আরো জানতে চাই, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে যে আইন আছে তার প্রয়োগ হয়েছে কতটিতে? কয়টি ঘটনার তদন্ত হয়েছে?
দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাক্তিদের দায়িত্বে অবিহেলার কারণে কোনো ধরনের জবাবদিহিতার মুখে পড়তে হচ্ছে কিনা?

পরিবেশ সংরক্ষণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ পরিবেশের জন্য অশনি সংকেত বলে মনে করছে গ্রিন ফাইটিং মুভমেন্ট (জিএফএম)।

ঢাকা, ১৭ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//টিআর

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।