'পিপিই ছাড়াই চিকিৎসা দিয়েছেন, অ্যাম্বুলেন্সও পাননি মৃত্যুর আগে!'


Published: 2020-04-15 22:00:49 BdST, Updated: 2020-05-28 17:38:50 BdST

আজ সকালে একজন ডাক্তার স্যার পালিয়েছেন। কোথায় গিয়েছেন পালিয়ে জানেন? এমন জায়গায় গিয়েছেন যেখান থেকে কোন ক্ষমতাবলেই তাকে আবার ফিরিয়ে আনা যাবে না।
জ্বী, তিনি সরাসরি উপরে গিয়েছেন, অনেক উপরে। ডা. মঈন উদ্দিন, সহকারী অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। আজ সকাল ৭ঃ৫০ মিনিটে কোভিড ১৯ রোগে ইন্তেকাল করেছেন।

উনার দুটি স্ক্রীনশট ইন্টারনেট এ ছড়িয়েছে।

প্রথম স্ক্রীনশট টি তিনি করোনা আক্রান্ত হবার আগের। সেখানে তিনি একজনকে বলছেন,
"আমার জন্য দোয়া করো। হাসপাতালে পিপিই ছাড়াই কাজ করতে হচ্ছে। আপাতত কিছু পিপিই শুধু জুনিয়রদের দেওয়া হয়েছে, কারন তারা তো রোগীর সামনে বেশী এক্সপোজ হয়"

দ্বিতীয় স্ক্রীনশট টি তিনি করোনা আক্রান্ত হবার পরের। সেখানে তিনি রোগাক্রান্ত অসুস্থ্য অবস্থায়, আকুতি জানানো সুরে মেসেজ করেছেন, Is it possible for me to arrange icu ambulance to transfer me kuit hospital (আমাকে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ট্রান্সফার করার জন্য কি একটি ICU এম্বুলেন্স জোগাড় করা সম্ভব?)

নাহ, কোন এয়ার এম্বুলেন্স তিনি পাননি। হাই ফেসিলিটি এম্বুলেন্সও তিনি পান নি।
কোনরকমে একটি প্রাইভেট এম্বুলেন্স এ করে তিনি ঢাকা আসেন।
চিকিৎসাধীন ছিলেন আইসিইউতে। আজ সকাল ৭ঃ৫০ মিনিটে কুর্মিটোলা হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুটা কষ্টের। আমাদের জন্য তার চাইতেও বেশী কষ্টের এবং লজ্জার ঐ স্ক্রীনশট গুলো।

সকাল থেকেই আজ মেঘলা আকাশ। একটু দেরী করে ঘুম থেকে উঠে মোবাইলে দেখলাম স্যার মারা গেছেন। ভাবলাম উনার মত একজন ডাক্তার তৈরী করতে খরচ হয় ১৮-২০ বছর। আর উনি শেষ হয়ে গেলেন ১০ দিনে। (৫ তারিখ শনাক্ত হয়েছিলেন, আজ ১৫ তারিখ)

গতকালের হিসেবে দেখেছি প্রায় ৬০ জন চিকিৎসক অলরেডি আক্রান্ত। প্রচুর ডাক্তার কোয়রেন্টাইনে। একের পর এক হাসপাতাল লকডাউন হচ্ছে। এভাবে পিপিই ছাড়া কাজ করতে করতে একেকজন ডাক্তার মারা যাবেন বা আক্রান্ত হয়ে বিছানায় পড়ে যাবেন হয়তো।

আমি বা আপনি চিকিৎসা পাবো তো?

[সূত্র : Baapon Shahriar Parvez এর ফেইসবুক থেকে]

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ডা. মঈন উদ্দিন। তিনি গরীবের ডাক্তার হিসেবে পরিচিত ছিলেন, কারণ দরিদ্রদের কাছ থেকে তিনি কোন টাকা-পয়সা নিতেন না। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মরত অবস্থায় তিনি করোনায় আক্রান্ত হন। পরে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে মারা যান তিনি।

এদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ডা. মঈনের পরিবারের সব দায় দায়িত্ব নেবে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাত দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান।

এছাড়া দুপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৫০ জনে। সেই সাথে নতুন শনাক্ত হয়েছেন ২১৯ জন। এতে করে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৩১ জনে।

ঢাকা, ১৫ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।