হঠাৎ নিস্তব্ধতা!


Published: 2020-04-10 19:02:18 BdST, Updated: 2020-05-25 07:18:39 BdST

সাজ্জাদ হোসেন,এনএসইউ:  দূরের অজানা উৎস থেকে এক করুন আর্তনাদের আওয়াজে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। জানালা দিয়ে বাহিরে তাকাতেই দেখা গেল রাতের অন্ধকারের বুক ছিঁড়ে একটা সূক্ষ্ম আলোর রেখা ফুটে ওঠেছে। আর তারই পথ ধরে একটা অ্যাম্বুলেন্স ছুটে যাচ্ছে সে করুণ আর্তনাদের পানে। আরেকটি উৎকন্ঠাময় রাতের অন্ধকার দূর হয়ে পৃথিবীটা নতুন আলোতে আলোকিত হচ্ছে একটু একটু করে।

চারদিকে সুনশান নিরবতা। দূরের গাছে ডালে বসে এক মনে ডেকে চলেছে ভোরের পাখি। যেন স্নিগ্ধতার পরশে পুরো পৃথিবী ঘুমের ঘোর ভেঙ্গে চোখটা মাত্র খুলছে। এমন মোহনীয় সৌন্দর্যকেই সম্ভবত কবি নাম দিয়েছিল ভয়ংকর সৌন্দর্য। যা ধরা দেয় অনেক ত্যাগ আর চাপা আর্তনাদের পর।

পুরো বাংলা আজ লক-ডাউন। খুব বেশি দিন হয় নি বাঙালি এশব্দের সাথে পরিচিত হয়েছে। কিছুদিন আগেও গ্রাম্য বৃদ্ধদের বুঝাতে হয়েছে একে কারফিউ বলে। এরপরও মানুষ সচেতন হয়নি আর সময়ের ব্যবধানে আজ বাংলার অবশিষ্ট নগরীগুলো আজ মৃত্যুপুরী। নিস্তব্ধতার মায়াজালকে ছিন্ন করে মস্ত বড় অজগরের মত সড়কে হঠ্যাৎ করে সাইরেন বাজিয়ে দ্রুত গতিতে পার হয়ে যায় লাশবাহি গাড়িগুলি।

তখন রাস্তার কুকুরগুলো ক্ষুধার্ত চোখে একটু খাবারের আশায় গাড়িগুলো দেখে ডাকতে শুরু করে করুণ আর্তনাদে। এ যেন তাদের বাঁচার জন্য একটু খাবারের আকুতি। মানুষগুলোও আজ অসহায়। বাজারের বড়দোকানটা আজ শূন্য পড়ে আছে , পাড়ার মোড়ের ফার্মাসিটাও আজ বন্ধ। হাসপাতালগুলো আজ মৃত লাশের ভারে ভারী হয়ে উঠেছে । ওই গ্রামের চেয়ারম্যানটা যে তার পরিবারের জন্য অসহায়দের চাল চুরি করে লুকিয়ে রেখেছিল, সে চাল শেষ হবার আগেই আজ সে বেওয়ারিশ লাশের সারিতে পড়ে আছে, পাশে নেই তার সেই প্রিয়জনরা।

নামকরা বিখ্যাত চিকিৎসকের ছেলেটিকে মরতে হল হাসপাতালে বারান্দায় চিকিৎসা না পেয়ে। কারণ হাসপাতালগুলোতে নেই তিল পরিমাণ জায়গা আর পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রী। দিন দিন লাশের সারিতে যোগ হচ্ছে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা স্বাস্থ্যকর্মীদের নাম। সারাজীবন মৃত মানুষের কবর খোঁড়া লোকটির কবর খোঁড়ার মত কেউ নেই। যে পুলিশ, সেনাবাহিনীর সদস্যরা মানুষকে ঘরে থাকতে বুঝানোর জন্য সকাল-সন্ধ্যা ঘাম ফেলেছিল আজ তাদের কেউ কেউ কফিনে বন্ধী।

সরকার প্রধান আজ খুবই অসহায়। পুরো বিশ্বের মত সোনার বাংলাও আজ মৃত্যুর ভয়াল থাবায় দিশেহারা। অর্থনীতি আজ স্থবির, খাদ্যের মজুর প্রায় শেষ। এসংকট কিভাবে সমাধান করবে সে চিন্তায় সরকার আজ ব্যাকুল। বিরোধীদের এখন আর সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দিতে শোনা যাচ্ছে না। হঠ্যাৎ নিস্তব্দ পুরো পৃথিবী, হঠ্যাৎ নিস্তব্দ এ সোনার বাংলা। লাশের সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। মৃত দেহের সৌরভে ভয়ংকর রকমে ভারী হয়ে উঠছে বাংলার আকাশ-বাতাস ।

ভয়ংকর নিস্তব্দতার সৌদর্যে গ্রাস করেছে পুরো বিশ্বকে। আরেকটি আর্তনাদ ভেসে আসছে। মৃতদেহের গাড়িটি ছুটে যাচ্ছে নতুন গন্তব্যের দিকে। দরজার বাইরে পড়ে আছে আরও একটি কফিন। তারপর আবার হঠাৎ নিস্তব্ধতা।

বি.দ্র: গল্পটি পুরোপুরি কাল্পনিক। আমরা যদি সচেতন না হই তাহলে খুব দ্রুতই হয়ত বাংলার বুকে এদৃশ্য দেখা যাবে। এখনি সচেতন না হয়ে যদি অকারণে বাইরে ঘুরতে থাকি, তাহলে হয়ত ৩ মাস পরে এটিই হতে পারে এ সোনার বাংলার রূপ। আসুন নিজে বাঁচি, দেশকে বাঁচাতে আপন ঘরে থাকি।

ঢাকা, ১০ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এসএই্চ//টিআর

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।