করোনা ঝুঁকি: ঢাবি ক্যাম্পাস বন্ধের ঘোষণা চায় শিক্ষার্থীরা


Published: 2020-03-14 19:45:22 BdST, Updated: 2020-04-08 07:31:08 BdST

ঢাবি লাইভঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে এক সাথে অনেক শিক্ষার্থীর বসবাস সেই সাথে ফ্যাকাল্টিতে এক সাথে বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা শিক্ষার্থীরা একসাথে ক্লাস করার কারনে বিশ্ববিদ্যায়টি মহামারী করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, করোনার আক্রমণে যেকোন সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আক্রান্ত হতে পারে।

তাই আক্রান্ত হওয়ার আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফেইসবুক গ্রুপে শিক্ষার্থীরা লেখালেখি করছেন।

অনেকে বলছেন, " নিজেদের বাঁচানোর জন্য ভার্সিটি বন্ধ চাই।" কেউ বলছেন ক্যাম্পাস বন্ধ চাওয়াটা অবশ্যই যৌক্তিক। কারণ একবার করোনার প্রকোপ ঢাবির ক্যাম্পাসে ছড়ালে এ থেকে উত্তরণ সহজ হবে না।

এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৩৫টি দেশ ও অঞ্চলে করোনা দেখা দিয়েছে। অনেক দেশ তাদের দেশের সবকিছু বন্ধ রেখেছে।

বাংলাদেশে করোনার বিস্তৃতি এখনো ভয়ংকর ভাবে ঘটে নাই। তাই বলে যে ঘটবে না এমন তো না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সহ অনেকেই বলছে করোনা নিয়ে বাংলাদেশ অনেক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোন সময় ছড়াতে পারে এই ভয়ংকর মহামারী ভাইরাস।

আইন বিভাগ করোনার কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ করতে শিক্ষকদের কাছে দরখাস্ত জমা দিয়েছেন।

করোনা ভাইরাস সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তানবীর হাসান শান্ত নামের এক শিক্ষার্থী ‘স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়' নামক গ্রুপে পোস্ট দেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া ছাড়া ক্যাম্পাস বন্ধ হবেনা। আপনি মরবেন, এরপর সেটা প্রশাসনের নজরে আসবে। অথচ এখন আমাদের সবার ই বাড়িতে থাকা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হইছে গণজমায়েত থেকে দূরে থাকতে, ক্লাসরুমে ১৮০ জন শিক্ষার্থী ক্লাস করে সেটা কি গণজমায়েত নয়? হলে তার মিনিমাম ১৫০০/২০০০ শিক্ষার্থী একসাথে চার দেয়ালের মাজখানে থাকেন সেটা কি গণজমায়েত নয়? সব কিছু নিয়ে রাজনীতি করলেও এই করোনা নিয়ে রাজনীতি করবেন না। কারণ একবার ক্যাম্পাসে ডুকলে আপনার বাসভবন, কোয়ার্টার ও রেহাই পাবেনা। ক্যাম্পাস বন্ধ চাই।"

সায়েন্স ফ্যাকাল্টির এক শিক্ষার্থী পোস্ট দিয়েছে, "আমাদের সায়েন্স ফ্যাকাল্টির হলগুলোর গণরুমে তুলনামূলক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকলেও অন্যান্য ফ্যাকাল্টির হলে তা কখনোই কম নয়। শুনলাম বিজয় একাত্তরে নাকি এক রুমে ৩০০+ শিক্ষার্থী থাকে। আমাদের বাসা গুলোতে প্রতিনিয়ত প্রায় ১০০জন করে যাওয়া-আসা করে। ক্লাসরুমে ও তো সবাই একসাথে ক্লাস করা হয়। অনেকে বলতেছেন যে, এখনো বন্ধ করার মতো পরিস্হিতি আসে নাই। এর দ্বারা আপনারা কি বোঝাতে চাচ্ছেন? তার মানে কি এই যে, আগে কয়েকজন আক্রান্ত হতে হবে তারপর আপনারা বন্ধ করে দিবেন। ঢাবিতে সব জেলার শিক্ষার্থীই আছে তাই এমন সিদ্ধান্ত নিবেন না যাতে পরে খারাপ অবস্থায় পড়তে হয়।"

আল মামুন নামের একজন বলেন, "আমি ব্যাক্তিগত ভাবে করোনা ভাইরাস নিয়ে খুবই আতংকিত, প্রতিদিন এত এত মানুষের সংস্পর্শে এসে আরো ঝুঁকির দিকে যাচ্ছি, তাই আমি চাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হোক।"

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধের ব্যাপারে কতৃপক্ষের সিদ্ধান্ত কি জানতে চাইলে প্রক্টর গোলাম রাব্বানী ক্যাম্পাসলাইভ২৪ কে বলেন, " শিক্ষার্থীদের চেয়ে তো আমি সাংবাদিকদের কর্নসান বেশি দেখছি। যখন ডেঙ্গু হয়েছে আমরা মোকাবেলা করছি এখন করোনা হলেও আমরা মোকাবেলা করবো। ডেঙ্গুতে আমরা সতর্ক ছিলাম বলেই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হইনি এবারও আমরা সতর্ক আছি আশা করি ক্ষতিগ্রস্ত হবো না। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের চিন্তা ভাবনা আপাতত নেই আমাদের। "

ঢাকা, ১৪ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএম//টিআর

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।