চীনে করোনা আক্রমণঃ কেমন আছেন বাঙালী প্রবাসীরা?


Published: 2020-02-03 18:50:39 BdST, Updated: 2020-04-08 14:01:46 BdST

ডঃ এম শাহানুল ইসলামঃ গত দেড় মাস ধরে চীনসহ সারা বিশ্বে চলছে নতুন করোনা ভাইরাস নিয়ে সৃষ্ট নিউমোনিয়া রোগের আতঙ্ক। প্রায় ১৫ হাজার মানুষ এতে আক্রান্ত এবং ২০ হাজার মানুষ রয়েছেন সন্দেহের তালিকাতে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মারা গেছে ৩০০ জনের বেশি কিন্তু সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৫০ জনের মতো। আমি থাকি তিয়ানজিনে। উহান হতে প্রায় ১২০০ কিমি দূরে। আমার রাজ্যে ৮৩ জন সন্দেহভাজন আর ৫০ জনের মতো আক্রান্ত যারা সকলেই উহান হতে ঘুরে এসেছে।

ফলে আমাদের রাজ্যে নিজের ঘোষণাগুলি কার্যকরঃ
১. সকল অফিস-স্কুল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ।

২. মুখোশ না পরে বাইরে যাওয়া নিষেধ।

৩. কর্তৃপক্ষ হতে ফ্রি মুখোশ দেবার কথা; তা এখনও পৌঁছায়নি।

৪. হাত, মুখ, কাপড় পরিষ্কার রাখতে হবে বাইরে হতে ফিরে এসেই।

৫. শাক, সবজি, খাবার কয়েকবার ধুয়ে ও ভালভাবে সিদ্ধ করে রান্না করতে হবে।

৬. প্রতিদিন সকাল ১১টায় তাপমাত্রা কত তা মাপতে হয় পাশের ভবনের অফিসে গিয়ে।

৭. যারা স্কুলে আছে, বাইরে যেতে হলে আগে থেকে আবেদন করতে হয়।

৮. যারা স্কুলের বাইরে যেমনঃ দেশে বা অন্য রাজ্যে, তাদের স্কুলে ঢোকা নিষেধ।

৯. বেশিরভাগ সময় দরজা জানালা বন্ধ করে রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।

১০. আর কোন সমস্যা হলেই যেন কর্তৃপক্ষকে সাথে সাথে জানানো হয়।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক

 

আমরা নিজেরাও কিছু কিছু ব্যবস্থা নিয়েছি। যেমনঃ স্কুলের ল্যাব হতে শিক্ষকের অনুমতি সাপেক্ষে মুখের মাস্ক নিয়ে এসেছি কারণ বাজারে যাওয়া কঠিন ও অনলাইন সাপ্লাই সময় মতো আসছে না আমাদের স্কুলের মুসলিম ক্যান্টিন হতে ২৪ প্যাকেট নুডলস ফ্রি দিয়েছে। যেহেতু আমার স্ত্রীও একজন ছাত্রী তাই আমি পেয়েছি ৪৮ প্যাকেট। অন্যান্য কিছু বিশ্ববিদ্যালয় হতেও দেখলাম খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

কাছের এক সবজির দোকানির নম্বর নিয়ে আমরা কয়েকজন মিলে তাকে নানারকম সবজি ও ফল অর্ডার করতেই তারা গাড়ি করে দিয়ে গিয়েছে। যদিও দাম একটু বেশি মনে হয়েছে।

খুব মেপে রান্না করি যেন বেশি দিন চলে যায় এই খাবারে। বাকিটা আল্লাহ ভরসা। ঘর হতে বেরোই না খুব প্রয়োজন না হলে। যেমনঃ পানির ড্রাম ভরে পানি নিয়ে আসি ল্যাবের ফিল্টার হতে। স্কুল ছুটি তাই খাবার পানির পাম্প এর ভবনটা বন্ধ থাকবে মার্চ পর্যন্ত।

অন্যদিকে শুনতে পেলাম উহান হতে যে ৩৬১ জনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাদেরকে ১৪ দিনের নজরদারীতে রাখা হয়েছে হাজী ক্যাম্পে। সেখানেও আছে নানা সমস্যা, অসন্তোষ অব্যাবস্থাপনা… তবুও আমি মনে করি বাংলাদেশের হিসেবে এই দূর্নীতির বাজারে সরকার তার সাধ্যমতো করেছেন।

আজ তুষারপাত হলো। বাতাস হতে সমস্ত জীবাণু নিয়ে মাটিতে পড়লো। হয়তো কিছুক্ষণের জন্য পরিষ্কার বাতাস পাবো। জানালা খুলে দিয়েছি। অল্প অল্প তুষার গায়ে এসে পড়ছে। ভাবছি, থেকে যাব চীনে? নাকি দেশেই চলে যাব… নিজেদের শহরে আক্রান্তের সংখ্যা যত বাড়ে, আমাদের দুশ্চিন্তাও তত বাড়ে।

এর মাঝেই গতকাল শুনলাম বার্ড ফ্লূ তে ৪৫০০ মুরগী মারা গিয়েছে মধ্য চীনে। এখনতো মুরগী খেতেও ভয় করবে। যদিও তারা বলেছেন ৩ মাসের মধ্যে করোনার প্রতিষেধক আসতে পারে তবুও সামনে আরও ভয়াবহ অবস্থা যদি হয়, সেই কারণে দোকানপাট যদি বন্ধ হয়ে যায়, এয়ারপোর্ট যদি বন্ধ হয়ে যায় তখন তো দেশেও ফিরতে পারবো না। জনপ্রতি যেখানে বিমান ভাড়াও (কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা) বৃদ্ধির দিকে।

তবুও আশায় বুক বেঁধে রাখি এই ভেবে যে, “সুতরাং যখন তোমরা শুনবে যে, কোন শহরে প্লেগ প্রভৃতি মহামারী দেখা দিয়েছে, তখন সেখানে যেও না। আর যদি কোন এলাকাতে এ রোগ দেখা দেয় এবং তুমি সেখানেই থাক, তবে সেখান থেকে পলায়ন করবে না।”
[বুখারী ৩৪৭৩, মুসলিম: ২২১৮]

লেখক: ডঃ এম শাহানুল ইসলাম,
তিয়ানজিন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, তিয়ানজিন, চায়না।

ঢাকা, ০৩ ফেব্রুয়ারী (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।