বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও গোপালগঞ্জ বিদ্বেষী ভিসি নাসির


Published: 2019-10-07 14:50:14 BdST, Updated: 2019-10-23 17:39:00 BdST

রনি মল্লিকঃ ছাত্র জাগরণের মুখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী ভিসির পতন হলো। আর এই পতনের পর ভিসির অপকর্মের পচা লাশের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশ ব্যাপী।

আমার আফসোস হচ্ছে কিছু তথাকথিত আওয়ামী নামধারী মীরজাফরদের জন্য যারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন। এই সকল মীরজাফরদের জ্ঞাতার্থে শিক্ষক নিয়োগে ভিসির গোপালগঞ্জ এবং বঙ্গবন্ধু আদর্শের বিদ্বেষপনা নিয়েই আমার এই লেখাটি।

ভিসি স্যার দাবি করেন, তিনি নাকি গোপালগঞ্জের লোকদের চাকরি দিয়েছেন, তাহলে তার নিয়োগকৃত ২৫০জনের অধিক শিক্ষকের মধ্যে গোপালগঞ্জের শিক্ষক মাত্র ৩০জন কেন? শিক্ষকদের মাঝে গোপালগঞ্জ বেল্ট সংখ্যালঘু কেন? গোপালগঞ্জে কি শিক্ষক হওয়ার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন মেধাবী চাকরি প্রার্থী ছিলো না?

তিনি দাবি করেন, তিনি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। তাহলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সংগঠন ছাত্রলীগের পদধারী, মেধাবী প্রার্থীদের বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বিরোধী চিহ্নিত ও প্রমাণিত শিবির-ছাত্রদলের ক্যাডারদের শিক্ষক হিসেবে কীভাবে নিয়োগ দিয়েছেন?

বঙ্গবন্ধুর প্রাণের সংগঠন ছাত্রলীগ থেকে কুকুর তার কাছে বেশি উৎকৃষ্ট। তাইতো তিনি বলেছিলেন, "আমি আমার বিভাগে কুকুর নিয়োগ দিবো, তবু ছাত্রলীগ করা কাউকে শিক্ষক নিয়োগ দিবো না" প্রমাণ চান? তো অসংখ্য প্রমাণ আমার হাতে আছে সবগুলো নিয়ে লিখতে গেলে কয়েক পাতা লাগবে। কয়েকটা স্যাম্পল দিচ্ছি মিলিয়ে নেন।

প্রথমত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসনের ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট বয় গোপালগঞ্জের সন্তান, হল ছাত্রলীগের সম্পাদক আরেফিনকে শেখ পরিবারের সুপারিশের পরেও নিয়োগ দেন নাই ভিসি নাসির।

দ্বিতীয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি গোপালগঞ্জের সন্তান, মেধাবী ছাত্র সুলতান মাহমুদকে শেখ পরিবারের জোরালো সুপারিশের পরেও নিয়োগ দেওয়া হই নাই।

তৃতীয়ত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোপালগঞ্জে সন্তান, রাস্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ফার্স্ট ক্লাস সেকেন্ড রিয়াজ মাহমুদকে শেখ পরিবারের সুপারিশ থাকলেও তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

চতুর্থত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোপালগঞ্জের কৃতি সন্তান আরিফকে শরীফ এনামুল কবির স্যারের জোরালো সুপারিশসহ সকল যোগ্যতা থাকার পরেও তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়া হয়নি।

পঞ্চমত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সম্পাদক গোপালগঞ্জের সন্তান, মেধাবী শিক্ষার্থী রিয়াজ মোল্যাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সুপারিশের পরেও তাকে নিয়োগ দেননি।

আরো প্রমাণ চান? অসংখ্য প্রমাণ দিতে পারবো। আমাদের শুধু একটা প্রমাণ দেন তো, তিনি যে ২৫০জনের অধিক শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন তার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন শিক্ষক আছেন?

আমার কাছে কিন্তু প্রমাণসহ তালিকা আছে যেটা ডিজিএফআই ও এনএসআই তদন্ত করেছে। তিনি প্রায় ৫০ জনের অধিক চিহ্নিত ও প্রমাণিত শিবির-ছাত্রদলের পদধারী নেতাকে, মেধাবী নামক তকমা দিয়ে শিক্ষক বানিয়েছেন যাদের নাম খুব শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে।

এতো কিছু জানার পরেও, দেখার পরেও যে সমস্ত কথিত বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আওয়ামী মীরজাফররা ভিসির দালালি এবং চামচামি করেছেন। তারা কি গোপালগঞ্জের পবিত্র মাটির সাথে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সাথে দেশরত্ন শেখ হাসিনার বিশ্বাসের সাথে বেইমানি করছেন না?

তাছাড়া বঙ্গবন্ধুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নাসির ৫ বছরে নির্মাণ করেননি শহীদ মিনার। বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণের আগেই অর্থ আত্মসাৎ করার মতো জঘন্য কাজও তিনি করেছেন। যেটা বঙ্গবন্ধুর মা, মাটি, পূর্ণভূমি এবং তার জীবনোৎসর্গকে অবমাননা, অবজ্ঞা, অপমানিত করেছে।
মনে রাখবেন মীরজাফরদের জয় সাময়িকই হয়! বাংলা কিন্তু সিরাজ-উদ-দৌলাদেরই রয়।

লেখক: রনি মল্লিক, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বিশিষ্ট লেখক ও সমালোচক, গোপালগঞ্জ।

ঢাকা, ০৭ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।