ভিসিদের বয়ান : ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বনাম ‘জানোয়ার’!


Published: 2019-09-23 12:41:34 BdST, Updated: 2019-10-21 16:41:34 BdST

মন্তব্য প্রতিবেদন : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ভিসির কথা মনে আছে নিশ্চই। হ্যাঁ প্রফেসর ড. ইমামুল হকের কথা বলছি। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি দিয়েছিলেন তিনি। এর পর থেকেই শুরু হয় দুর্বার আন্দোলন। শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়েই চলে যেতে হয়েছে তাকে। শুধু তাই নয় আন্দোলন চলাকালে থলের বিড়ালও বেরিয়ে আসে। বেরিয়ে আসতে থাকে নানা দুর্নীতির তথ্য। একপর্যায়ে শিক্ষকরাও আন্দোলনে যোগ দেন। পরিচয় প্রকাশ পেতে থাকে সেই ভিসির। খোঁজ নিয়ে দেখা যায় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সের ছাত্র ছিলেন, তবুও তিনি যুদ্ধে অংশ নেননি। এমনকি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ শুনেও তিনি মুক্তিযুদ্ধের ডাকে সাড়া দেননি। ক্যাম্পাসলাইভে এমন তথ্য নিয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্ট করা হয়। ওই রিপোর্টের পর সেই ভিসি প্রফেসর ড. ইমামুল হকের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। খোদ শিক্ষার্থীরা তাকে রাজাকার আখ্যা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকেন। তাদের দুর্বার আন্দোলনে পতন হয় একজন স্বৈরাচার ভিসির।

এবার শিক্ষার্থীদের জানোয়ার সম্বোধন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন। তিনি শিক্ষার্থীদের তুচ্ছ ঘটনায় বহিষ্কার করে অভিভাবকদের সামনেই জানোয়ার বলে সম্বোধনন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ভিসির বিরুদ্ধেও শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন। তার বিরুদ্ধেও বেরিয়ে আসছে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ। তিনিও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিয়ে আর ক্যাম্পাসে আসতে পারছেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তার পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ক্যাম্পাসে চলছে দুর্বার আন্দোলন। তার ভাগ্যে কি আছে তা আমরা জানি না। তবে সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের প্রতি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির আচরণ কেমন হওয়া উচিৎ তা নিশ্চই শিখিয়ে দেয়ার কিছু নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবাই তার সন্তান। তাদের জানোয়ার বলে গালি দেয়া কতটুকু সমীচিন! এমন গালি দিয়ে নিজের বংশ পরিচয় নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন ভিসি নিজেই। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে ওই ভিসির বংশ পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।

আমরা মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের আচরণ সংযত হওয়া প্রয়োজন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ গার্ডিয়ান। তাদের মুখে এমন ভাষা শোভা পায় না। শিক্ষার্থীদের তারা সন্তানের মতো আগলে রাখবেন এ প্রত্যাশা রাখি। সন্তান ভুল করলে তারা তাদের শাষণ করবেন। তাই বলে সামান্য ভুলে তাকে ত্যাজ্যপুত্র করে একেবারে ঘর থেকে বের করে দেয়া কতটুকু সমীচিন তা নিশ্চই ভেবে দেখবেন। মানবিক হোক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের আচরণ। এই প্রত্যাশা রইলো...

ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।