ষোলশহরের বস্তি: শাটল ট্রেন, ও ছোট্ট সেই ছেলেটি


Published: 2019-06-20 19:15:10 BdST, Updated: 2019-09-21 22:05:33 BdST

গল্পটা একটু মজার। ভিন্ন মেজাজের। বস্তির সেই ছোট্ট ছেলেটি অনেক মেধবী। অনেক কাজের। পরিশ্রমীও বটে। সেই যে সকালে বের হয়, ফিরবার সময়তো জানা নেই। কেবল পেটের ধান্ধায় সারাক্ষন ছুটে বেড়ানো। তার খোজ হয়তো মা-বাবাই রাখেন না। কিন্তু নিজের পায়ে দাঁড়ানোর নেশায় থাকে বুদ বুদ। দুরন্তপনা সেই ছেলেটি কোননা কোন কাজে সারাক্ষন লেগে থাকে।

সে জানে না কি হবে তার ভবিষ্যৎ । সেই বাড়ন্ত ছেলেটিকে নিয়েই এই লেখাটি লিখেছেন চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল তৌহিদঃ

---হালিয়ে স্কুলুত নো যাবি? হালিয়ে ফরিক্ষে। স্যারে টিয়া লোইবু। ৬০০ টিয়া গরি লোইবু।
---হালিয়ে ফরিক্ষে অইলি তো ভার্সিটিত যাইত নো ফেইরগুম।

এটি ছিল চট্রগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা,
(---কালকে স্কুলে যাবিনা? কালকে পরীক্ষা। স্যার টাকা নিবে, ৬০০ টাকা করে নিবে।
---কালকে পরিক্ষা হলে তো ভার্সিটিতে যেতে পারবনা।)

কথাগুলো চট্টগ্রামের ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশন এলাকার বস্তির দু'জন শিশুর। তারা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য শাটলের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে। এটা তাদের দৈনিক রুটিনের অন্তর্ভুক্ত।

তারা শাটলের নিয়মিত যাত্রী। ভার্সিটিতেও নিয়মিত যাতায়াত করে। তাদের কাজের পরিধি খুব একটা ছোট নয়। কেউ পত্রিকা বিক্রি করবে। তাও হাতে-পায়ে ধরে। আপনার প্রয়োজন না হলেও মন চায় কিনতে।

কেউ শাটলে আপনার জন্য সিট ধরে ৫ টাকা, ১০ টাকা চাইবে। কেউ প্রেমিক-প্রেমিকার আড্ডায় গিয়ে লজ্জায় ফেলবে। কেউ ছোট ভাই-বোনের জন্য কিছু খাবার চাইবে। আবার কেউ গন্তব্যহীন ঘুরবে। কেউ বলবে পাঁকনা-পাঁকনা কথা।

এসবের মাঝে একটা বিরক্তি আছে। আবার আছে একটা অন্যরকম ভাল লাগা। এখন তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অনেকের সাথে ছাত্র-ছাত্রীদের ভাল সখ্যতা আছে। তাদের খবর অনেকেই রাখেন ভাল।

না দেখলে খোঁজ-খবর নেন। তবে এসবের মাঝে তাদের কিছু খারাপ প্রবণতাও আছে।তার মধ্যে অন্যতম হল, শাটলের যাত্রীদের উদ্দেশ্যে ঢিল ছুঁড়া। এটির দ্বারা অনেক শিক্ষার্থী মারাত্মক ভাবেও আহত হয়েছিলেন।

যারা ঢিল ছুঁড়ে আর যারা শাটলে চড়ে নিয়মিত ক্যাম্পাসে আসে তারা একই জন কিনা নিশ্চিত নই। তবে একই বস্তির। এই বস্তির বড়দের অনেকেই ক্রাইমের সাথে জড়িত। সেটি হল শাটলের যাত্রার প্রাথমিক মুহুর্তে।

যখন শাটলের গতি আস্তে আস্তে বাড়বে, হয়তো সে মুহুর্তে আপনার শখের মোবাইল ফোনটি জানালা দিয়ে টান মেরে নিয়ে যেতে পারে। তবে সারাক্ষণ সবাই থাকেন সাবধান। তবে অনেকেই ভাল আছে। 

সব মিলিয়ে এখানে একটা দেহ আছে। তার প্রাণ আছে। টিকে থাকার লড়াই আছে। তাদের বেঁচে থাকার লড়াই কবে শেষ হবে এটা কারো জানা নেই।

লেখকঃ আল তৌহিদ
দর্শন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা, ২০ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আরএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।