"ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ"


Published: 2019-05-12 15:02:58 BdST, Updated: 2019-09-22 06:18:34 BdST

মারুফুল ইসলামঃ উচ্চ মাধ্যমিক আর ভর্তি পরীক্ষার মাঝের চার-পাঁচ মাসেই লাইফের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার জন্য এই কয়েকটা মাসের সঠিক ব্যাবহার এ যথেষ্ট। প্রতিটি দিন কাজে লাগাতে পারলে সময় কিন্তু নেহায়েতই কম নয়।

আবার কেউ কেউ হালকা ঢিলামি বা ভুল পথে গিয়ে স্বপ্ন চুরমার করে খালি হাতে বাড়ি ফিরে। একটি কথা প্রচলিত আছে, যেমন কর্ম তেমন ফল। জুন মাস থেকে আগামী সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত তোমরা যেমন কর্ম করবে সেই অনুযায়ী ফল পাবে।

মাধ্যমিক আর উচ্চ-মাধ্যমিক এর ভালো রেজাল্ট তোমাকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখবে ঠিকই কিন্তু খারাপ রেজাল্ট তোমাকে কখনো দমিয়ে রাখতে পারবে না। চাইলেই মেধার ঘাটতি পরিশ্রম দিয়ে পুষিয়ে দেয়া যায়। আজকের একটু আরাম বাকি জীবনের জন্য আফসোসের কারন হয়ে দাঁড়াবে। ভালো কোচিং সেন্টারে ভর্তি হতে পারলেই যে তুমি চান্স পেয়ে যাবা তা কিন্তু না। কোচিং সেন্টার তোমাকে ভার্সিটিতে চান্স পাইয়ে দিবে না, তোমার ভর্তি পরীক্ষাও দিয়ে দিবে না।

ভর্তি কোচিং সহায়ক মাত্র, সফল হতে হলে পরিশ্রম তোমাকেই করতে হবে। জীবনে হতাশা, ব্যর্থতা, চাপ থাকবেই তবে সেই চাপে চ্যাপ্টা হওয়া যাবে না। সঠিক প্রস্তুতি না থাকলে অন্ধকারে ঢিল মেরে অনেক পরীক্ষা দিয়েও কৃতকার্য হওয়া যায় না। কেননা এ ধরনের পরীক্ষায় থাকে না কোন সুনির্দিষ্ট সিলেবাস।

সফলতার মূলমন্ত্র হচ্ছে পরিচ্ছন্ন পরিশ্রম। তাই এই দিনগুলোতে তোমাদের কাজ হল সঠিক সময় ব্যাবস্থাপনার মাধ্যমে সর্বোচ্চ পরিশ্রমের মানসিকতা তৈরী করা। কোন এক মনীষী বলেছিলেন- আমরা ঘুমের ভেতর যেটা দেখি সেটা স্বপ্ন নয়, স্বপ্ন হচ্ছে সেটাই যা দেখে আমাদের ঘুম চলে যায় সেটাকে পাওয়ার জন্য।

স্বপ্ন দেখা এবং নিজের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পরিকল্পনা। আমরা অধিকাংশই পরিকল্পনা ছাড়াই মাঠে নেমে পড়ি। কি, কেন, কোথায়, কখন, কিভাবে ইত্যাদি বিষয়ের উত্তর না খুঁজেই আমরা পরিশ্রম করতে করতে গায়ের ঘাম ছুটিয়ে ফেলি। মনে রাখবে- পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি নয় বরং কৌশলগত পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি।

অনেকের প্রশ্ন থাকে দৈনিক কতক্ষন পড়তে হবে! আসলে পড়ার সময় নির্ধারণ করাটা যার যার নিজের ওপর নির্ভর করে। তবে আমি বলি, যতক্ষণ ঘুমাবা না ততক্ষণ পড়বা। তবে কোন ভাবেই ১২-১৪ ঘন্টার কম পড়লে হবে না। সারা দিনের জন্য একটা রুটিন বানিয়ে ফেলো। রুটিন শুধু তৈরি করলেই হবে না, সেটা মেনে চলতেও হবে। ল্যাপটপ, ফেসবুক, ফ্রেন্ডশিপ, বার্থডে, মোবাইলের ফিস-ফিস ফোনালাপ সব বন্ধ। পড়ার প্রতি তোমার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা থাকতে হবে। যা পড়ছো তা যেন ফলপ্রসূ হয়। মনে রাখবে ভর্তি পরীক্ষায় সব সময়, ‘Quality demands, not quantity’। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে দাও, পরীক্ষার পরে যাতে তোমার নিজেকে নিয়ে কোনো আফসোস না হয়।

তোমার যাতে এমন মনে না হয়, যে প্রিপারেশন কম ছিলো, আরেকটু পড়লেই হয়তো চান্সটা পেয়ে যেতে ইত্যাদি। তাই প্রস্তুতি নেয়ার জন্য যে সময়টা হাতে থাকে, চেষ্টার কমতি রেখো না। অবশ্যই সকলের দোয়া ও তোমার আন্তরিক প্রচেষ্টায় যথাসময়ে তুমি নিজের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে।

মারুফুল ইসলাম (ফারাভী)
রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগ

ঢাকা, ১০ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আরএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।